Home / টপ নিউজ / অনন্তলোকে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক

অনন্তলোকে সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক আর নেই। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।  তিনি ফুসফুস ক্যান্সারে ভুগছিলেন। ইউনাইটেড হাসপাতালের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন্স এক্সিকিউটিভ সাজ্জাদুর রহমান শুভ পরিবর্তন ডটকমকে সৈয়দ হকের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানান, বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে কবির মৃত্যু হয়েছে।

চার মাস আগে লন্ডনে চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার ফুসফুসের ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেখানকার চিকিৎসকরা তার জীবনসীমা বেঁধে দেন। দেশে ফিরে গত ১ সেপ্টেম্বর জ্বর নিয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি।

হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে ‘শেষ যোদ্ধা’ নাটক রচনা করছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। রোগ জর্জরিত শেষ দিনগুলোতে কেবিনের বেডে শুয়ে তিনি বলতেন আর সে কথা লিখে নিচ্ছেলেন তার স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হক।

ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সৈয়দ শামসুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত সোমবার তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া সৈয়দ শামসুল হক কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্পসহ সাহিত্যের সব শাখায় সফল, দীপ্ত পদচারণা করেছেন। এ যোগ্যতা তাকে বাংলা সাহিত্যের জীবিত কিংবদন্তিতে পরিণত করে। এনে দেয় ‘সব্যসাচী লেখক’-এর মর্যাদা।

সৈয়দ হক মাত্র ২৯ বছর বয়সে বাংলা একাডেমী পুরস্কার পান। সবচেয়ে কমবয়সে এ পুরস্কার পাওয়ার মর্যাদা অর্জন করেন তিনি।

সৈয়দ শামসুল হকের প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালের মে মাসে। ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ পত্রিকায় ‘উদয়াস্ত’ নামে তার একটি গল্প প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশের উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে জন্ম নেওয়া সৈয়দ হক কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুল থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে সৈয়দ হক মাধ্যমিকে পড়ার সময় লেখালেখিতে সম্পৃক্ত হন। বাবা সিদ্দিক হুসাইন ছিলেন পেশায় হোমিওপ্যাথি ডাক্তার, মা হালিমা খাতুন। আট ভাই বোনের মধ্যে তিনিই সবার বড় ছিলেন তিনি।

১৯৪৯-৫০ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার পরে ব্যক্তিগত খাতায় লিখে ফেলেন দুইশ’ কবিতা। ১৯৫২ সালে জগন্নাথ কলেজে মানবিক শাখায় ভর্তি হন এবং ১৯৫৪ সালে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে। কিন্তু স্নাতক পাসের আগেই পড়ালেখা ছেড়ে দেন ১৯৫৬ সালে। লেখালেখিকে একমাত্র ব্রত করে নেন।

তার গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অনুপম দিন’, ‘সীমানা ছাড়িয়ে’, ‘নীল দংশন’, ‘স্মৃতিমেধ’, ‘মৃগয়া’, ‘এক যুবকের ছায়াপথ’, ‘বড়দিনের শিশু’, ‘বনবালা কিছু টাকা ধার নিয়েছিল’, ‘ত্রাহি’, ‘তুমি সেই তরবারি’, ‘কয়েকটি মানুষের সোনালী যৌবন’, ‘নির্বাসিতা’, ‘খেলারাম খেলে যা’, ‘মেঘ ও মেশিন’, ‘ইহা মানুষ’, ‘মহাশূন্যে পরান মাস্টার’, ‘বালিকার চন্দ্রযান’, ‘আয়না বিবির পালা’, ‘কালধর্ম’, ‘দূরত্ব’ প্রভৃতি।

ছোটদের জন্য লেখা ‘সীমান্তে সিংহাসন’, ‘আবু বড় হয়’ ও ‘হাডসনের বন্ধু’ পেয়েছে বিপুল পাঠকপ্রিয়তা। তার অতুলনীয় কাব্যনাট্য ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘নূরলদীনের সারাজীবন’ ইত্যাদি। তার ছোটগল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘শীত বিকেল’, ‘রক্ত গোলাপ’, ‘আনন্দর মৃত্যু’ প্রভৃতি।

তিনি রচনা করেন ৩০টির মতো চিত্রনাট্য। ‘মাটির পাহাড়’, ‘তোমার আমার’, ‘রাজা এলো শহরে’, ‘শীত বিকেল’, ‘সুতরাং’, ‘কাগজের নৌকা’ তাদের মধ্যে অন্যতম। চলচ্চিত্রের জন্য গানও রচনা করেন তিনি। লেখালেখি ছাড়াও সৈয়দ শামসুল হক পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।

মানুষের ভালবাসার পাশাপাশি লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পদক, একুশে পদক, আদমজী সাহিত্য পুরস্কার, পদাবলী কবিতা পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পুরস্কার, স্বাধীনতা পদকসহ অনেক পুরস্কার।

এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক সৈয়দ শামসুল হক। প্রথিতযশা লেখক ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক তার স্ত্রী।

 আরডি/ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...