Home / টপ নিউজ / অবহেলার কারণেই ডিএপি কারখানায় বিষ্ফোরণ

অবহেলার কারণেই ডিএপি কারখানায় বিষ্ফোরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

অবহেলার কারণেই চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ডিএপি সার কারখানায় গ্যাসের ট্যাংক বিষ্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আলী আহমেদ খান। এছাড়া দুর্ঘটনার কারনে পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি বাদ দিলেও শুধু মাত্র কারখানাটির ক্ষতি হয়েছে এক’শ কোটি টাকার বেশি।

রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি । এছাড়া সভায় উপস্থিত জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনও এ দুর্ঘটনার পেছনে কারখানার যথেষ্ট ত্রুটি ছিল বলে জানান।

আলী আহমেদ খান বলেন, “ঠিক যে স্তরের কর্মকর্তা- কর্মচারী দিয়ে এই কারখানা পরিচালনা প্রযোজন সেটা  করা হতোনা, বর্তমান ব্যবস্থাপনায় পুরো কারখানটি ঝুকির মধ্যে আছে, সেখানে আরো দুটি ট্যাংকার আছে যেগুলোর প্রতিটিতে পাঁচ হাজার টন এ্যামোনিয়া আছে, সেগুলো বিস্ফোরিত হয়ে যে কেন মুহুর্তে আরো বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

বিষ্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন “বিস্ফোরিত ট্যাংকারটিতে মোট পাচ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এর একটিও সক্রিয় ছিলোনা।নিরাপত্তার জন্য ট্যাংকারটিতে প্রেশার গজ, প্রেশার ট্রান্সমিটার, প্রেশার ভেইন, প্রেশার প্লেয়ার ও কনডেনসার সংযুক্ত ছিলো। এরমধ্যে প্রেশার গজ, প্রেশার ট্রান্সমিটার ও কনডেনসার নষ্ট ছিলো । বন্ধ ছিলো প্রেশার ভেইন ও প্রেশার প্লেয়ার।”

“প্রেশার ট্রান্সমিটার ছিলো দুটি, একটি অনেক আগেই নষ্ট ছিলো, অবশিষ্টটি নষ্ট হয়েছে দুর্ঘটনার আগের দিন।

তিনি বলেন, স্বাভাবিকভাবে এভাবে গ্যাস ছড়িয়ে পড়লে তার নিঃসরণ বন্ধে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে পানি ছিটানো হয়। কিন্তু সেসময় কারখানাটির পানি ছিটানোর সিস্টেমটিও কাজ করেনি। এজন্য গ্যাস খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বাতাসের গতিবেগ পশ্চিমমুখী হওয়ায় বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে উল্লেখ করে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, আমাদের সৌভাগ্য ঘটনার সময় বাতাসের গতিবেগ পশ্চিমমুখী ছিল। এজন্য গ্যাস নদীর দিকে চলে যায়, যার ফলে আর বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তিনি এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব কারখানার শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলে আরও ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানান।

বিষ্ফোরণের কারণ অনুসন্ধানের পাশাপাশি বিস্ফোরনে কারখানার ক্ষয়ক্ষতিও সম্পর্কেও ধারনা পাওয়া গেছে, যা টাকার অংকে একশ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

বিস্ফোরিত ট্যাংকারটির আনুমানিক মুল্য ৭৫ কোটি টাকা, এর মধ্যে ২৬০ টন এ্যামোনিয়া গ্যাস ছিলো সবই বাতাসে মিশে গেছে, প্রতি টন এ্যামেনিয়ার মুল্য ১৮ হাজার টাকা. বিস্ফোরণে ট্যাংকারটি ছাড়াও পাইপ লাইন এবং আরো আনুষাঙ্গিক কিছু যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়েছে, উল্লেখ করেন তিনি।

প্রেস বিফ্রিংয়ে জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি হয়ে গেছে। তদন্ত করে কারখানার যথেষ্ট ত্রুটি পেয়েছি। দায়িত্বহীনতার পরিচয় না দিলে এমন ঘটনা ঘটতো না। আমরা স্থানীয়দের বক্তব্য সংগ্রহ করেছি। সবার সঙ্গে কথা বলে আমরা জড়িতদের চিহ্নিত করেছি। তবে আমরা চাইছি বিসিআইসি’র টেকনিক্যাল দল তাদের প্রতিবেদন আগে জমা দিক। তারপর সাত কর্মদিবসের মধ্যে আমাদেরটা প্রকাশ করবো।

আরডি/ এসএমএইচ // ২৮ আগস্ট ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...