Home / আন্তর্জাতিক / অভিষেক ভাষণে যা যা বললেন ট্রাম্প

অভিষেক ভাষণে যা যা বললেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
বিভিন্ন বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মার্কিন কংগ্রেসের ভবনের ক্যাপিটল হিলে অনুষ্ঠিত হয় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে প্রথমে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন মাইক পেনস। এরপরই প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এরমধ্য দিয়ে শুরু হল ট্রাম্প অধ্যায়ের সূচনা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষণে আমেরিকাকে নতুন করে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। বলেছেন, দায়িত্বের যে শপথ আমি আজ নিলাম, তা সকল আমেরিকানের প্রতি আনুগত্যের শপথ।

ট্রাম্পের ভাষণের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হল—

►বহু বছর ধরে আমরা বিদেশি শিল্পকে সমৃদ্ধ করে গেছি, যার জন্য‌ মূল্য দিতে হয়েছে আমেরিকার শিল্পকে। আমরা বিদেশি সেনাবাহিনীকে ভর্তুকি যুগিয়েছি, যখন আমাদের সেনাবাহিনী দুঃখজনকভাবে রিক্ত হয়েছে। আমরা অন্য‌ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে গেছি, যখন নিজেদের সীমান্ত থেকেছে উপেক্ষিত। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার আমরা বিদেশিদের পেছনে খরচ করেছি, যখন আমেরিকার অবকাঠামো দৈন্যদশায় নিমজ্জিত হয়েছে, ক্ষয়ে গেছে। আমরা অন্য দেশকে ধনী করে তুলেছি, যখন আমাদের সম্পদ, শক্তি আর আত্মবিশ্বাস বিলীন হয়েছে দিগন্তে। আমাদের মধ্যবিত্তের সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়েছে, আর তা বিলিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরো বিশ্বে।

►আজ যারা এখানে জড়ো হয়েছি, প্রতিটি শহর, প্রতিটি দেশের রাজধানী এবং প্রতিটি ক্ষমতাকেন্দ্রের জন্য আমরা ঘোষণা করছি নতুন ফরমান। আজকের পর থেকে আমাদের এই দেশ পরিচালিত হবে নতুন নীতি নিয়ে। আজ থেকে, সবার আগে থাকবে আমেরিকার স্বার্থ, সবার আগে থাকবে আমেরিকা।

►বাণিজ্য, কর, অভিবাসন আর পররাষ্ট্রনীতি- সব পরিচালিত হবে আমেরিকার শ্রমিকের কল্যাণের জন্য,‌ আমেরিকান পরিবারগুলোর জন্য।

►রাষ্ট্রীয় সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা থেকে জনগণকে সরিয়ে আমরা কর্মমুখী করব, দেশকে গড়ে তুলব নতুন করে, আমেরিকানদের হাত দিয়ে, আমেরিকানদের শ্রমে। দুটি সহজ নিয়ম আমরা মেনে চলব: আমেরিকার পণ্যে কিনব এবং কাজ দেব আমেরিকানদের।

►অন্য দেশের বন্ধুত্ব আমরা চাই, কিন্তু তা হবে এটা মেনে, যে নিজের দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার অধিকার সবারই আছে। আমাদের জীবনধারা অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিতে আমরা চাই না। বরং আমরা জাজ্বল্যমান উদাহরণ হয়ে উঠতে চাই, যাতে সবাই আমাদের অনুসরণ করে।

►আমাদের বহু নাগরিক বসবাস করছে ভিন্ন এক রূঢ় বাস্ততায়। প্রান্তের বহু শহরে বহু মা ও শিশু দারিদ্র্যে নিমজ্জিত। এ জাতির মানচিত্রে জংধরা বহু কারখানা কবরের ফলকের চেহারা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বহু টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত থেকে যাচ্ছে সবধরনের জ্ঞান থেকে। আর আছে অপরাধ, গুণ্ডাদল আর মাদক, যা বহু প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে, দেশের অনেক সম্ভাবনাকে লুটে নিচ্ছে বিকশিত হওয়ার আগেই।

আমেরিকার এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে এখানেই, এবং তা এখনই।

►পুরনো মিত্রদের সঙ্গে আমরা সম্পর্ক আরও মজবুত করব, গড়ে তুলব নতুন বন্ধু, এবং সভ্য দুনিয়াকে আমরা একজোট করব ইসলামী সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, এই পৃথিবী থেকে জঙ্গিবাদের মূলোৎপাটন করা হবে।

►যে রাজনীতিবিদেরা কাজের বদলে কেবল কথায় বিশ্বাসী, যারা কেবল অভিযোগ করে যায়, সমাধানের জন্য কিছুই করে না, তাদের আর আমরা সুযোগ দেব না।

►কালো, বাদামী বা সাদা, গায়ের রঙে আমরা যাই হই না কেন, আমাদের সবার দেহে দেশপ্রেমিকের একই লাল রক্ত, একই স্বাধীনতা আমরা ভোগ করছি, সবাই সালাম জানাচ্ছি আমেরিকার সেই একই পতাকাকে।

►সবাই মিলে আবারো আমরা আমেরিকাকে করে তুলব সবার সেরা। আবারও গড়ে তুলব শক্তিশালী আমেরিকা। আমাদের আমেরিকা আবার হয়ে উঠবে সম্পদশালী, আমেরিকা আবারও গর্বিত জাতি হয়ে উঠবে, আমরা আবারও আমেরিকাকে নিরাপদ করে তুলব।
মুক্তা // এসএমএইচ // জানুয়ারি ২১, ২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...