Home / টপ নিউজ / ইবিতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থী বহিষ্কার

ইবিতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থী বহিষ্কার

সরকার মাসুম, ইবি প্রতিনিধি (কুষ্টিয়া ) :

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গনিত বিভাগের এক শিক্ষকসহ বিশ্ববিদ্যালয়েল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বহিস্কার করেছে প্রশাসন। এছাড়াও এক শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিস্কার করে তার অনার্সের সনদ বাতিল করা হয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

ক্যাম্পাস ও সিন্ডিকেট সভা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৭ ডিসেম্বর তৃতীয় শিফটে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ফলিত বিজ্ঞান ওপ্রযুক্তি অনুষদভূক্ত “এফ” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা শেষে ওই ইউনিটের প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারী তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত শনিবার দুপুর ২ টার দিকে প্রশাসনের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় কমিটির সদস্যরা। সোমবার সিন্ডিকেট সভায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে ‘এফ’ ইউনিটের প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে সত্যতা পায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
প্রশ্নফাঁসের মূল হোতা “এফ” ইউনিটের সমন্বয়কারী ও গনিত বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মোঃ নূরুর ইসলামকে সাময়িক বহিস্কার করে সিন্ডিকেট সদস্যরা। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত হিসাব শাখার সিনিয়র অডিটর সাইফুল ইসলাম, লাইব্রেরী কর্মচারী আলাল উদ্দীন আলালকেও সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে। তাদেরকে কেন স্থায়ী বহিস্কার করা হবেনা সে মর্মে কারন দর্শাতে নোটিশ করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদেরকে কারন দর্শাতে হবে বলে জানা গেছে। একই ঘটনায় জড়িত গনিত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস লাইব্রেরীর মালিক মনোজিৎ মন্ডলকে ছাত্রত্ব বাতিলসহ তার অনার্সের মূল সনদপত্র বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সিন্ডিকেট সভায় সংশ্লিষ্ট ইউনিটের পরীক্ষা বাতিল ও পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগামী কাল মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় জরুরী সভার আহবান করেছে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটি।
এছাড়া সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিফোন অফিসের উপ-প্রধান প্রকৌশলী তৈমুর রেজা তুহিনকে অর্থ কেলেঙ্কারীর দায়ে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছ।
সোমবার বেলা ১১টায় ভিসির বাংলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৩ তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর রশিদ আসকারীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, ট্রেজারর অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা, ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, আইন ও শরীয়াহ অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. নুরুন নাহার, রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন উর রশিদ আসকারী বলেন,“ আমারা চেয়েছি প্রশ্নফাঁসের সুষ্ঠ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার করতে। সবার সহযোগিতায় আমরা সেটি আমারা পেরেছি। আশা করছি এমন ঘটনার আর কোনদিন পনরাবৃত্তি হবেনা।”
 এসএমএইচ // মার্চ ৭, ২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...