উন্নয়নের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে দুর্নীতি দূর করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, দুর্নীতি দূর না হলে সরকারের কোনো প্রকল্পই ফলপ্রসু হবে না। আর ডিজিটালাইজেশনের কারণে দুর্নীতি অনেকাংশেই কমে এসেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধনের আগে দেয়া বক্তব্য এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি জেলা প্রশাসকদের ২৩ দফা নির্দেশনা দেন। এর বাইরেও নিজ নিজ জেলার সমস্যা বিবেচনা করে সমাধানের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জনগণের সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

সম্মেলনে তিন দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা ১৮টি কার্য অধিবেশনে ডিসিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, বিভাগীয় কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

তিন দিনের এই জেলা প্রশাসক সম্মেলন ২২টি অধিবেশনে সাজানো হয়েছে। এবারের সম্মেলনে ৩৪৯টি প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসিরা। এর মধ্যে কার্য-অধিবেশন হবে ১৮টি। এই ১৮টি কার্য-অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ মোট অংশ নেবে ৫২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ।

এ সময় আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের নানা প্রকল্পের বর্ণনা দিয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি দূরীকরণে গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, ‘করাপশন দূর করতে হবে যে কোনো মূল্যে। কাজ করতে গেলে সেখানে যদি করাপশন হয়, তাহলে সেটুকু যদি খেয়ে ফেলে তাহলে উন্নয়নের ছোঁয়া গ্রামবাংলার মানুষ পাবে না। এ ব্যাপারে আপনাদেরকে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং নিজেদেরকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে।’

আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি এ ক্ষেত্রে একটি হাতিয়ার হতে পারে বলে মনে করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ করবো ঘোষণা দিয়েছিলাম। এখন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে যোগাযোগ করতে পারি, কথা বলতে পারি। ই ফাইলিং আমরা শুরু করেছি। মন্ত্রণালয়ের সব নথি আমরা ডিজিটালাইজ করছি।’

‘ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে করাপশনও কিন্তু আজকে অনেক নিয়ন্ত্রণ হয়ে যাচ্ছে। এখন আর টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের কথা খুব বেশি শোনা যাচ্ছে না। কয়েকটা মন্ত্রণালয় এখনও বোধহয় পিছিয়ে আছে, করতে পারেনি, তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই কিন্তু ডিজিটালাইজ করে দেয়ার ফলে স্বচ্ছতা চলে আসছে। এটা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট করে দেয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই ইউনিটের মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবন করে সরকারি সেবা প্রদান আরও সহজ করা হচ্ছে এবং সরকারি কাজে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

জনগণের সেবার মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে জেলা প্রশাসকদের আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা জনপ্রতিনিধি, আমরা একটি ছোট সময়ের জন্য ক্ষমতায় আসি। কিন্তু আপনাদের দীর্ঘ সময় চাকরি জীবন। আমাদের চাকরি জীবন পাঁচ বছর মাত্র। জনগণ যদি ভোটে আমাদের নির্বাচিত করে তাহলে আমরা আবার আসব। এই পাঁচ বছর আমরা কতটুকু দিতে পারলাম, সেই হিসাবটা আমরা করি। দেশের মানুষের জীবনমান কতটা উন্নত হলো, সেটাই তো আমার একমাত্র লক্ষ্য’।

‘আমরা ১২৩ ভাগ বেতন বৃদ্ধি করে দিয়েছি। কেন দিয়েছি? আমরা চাই, দেশের জন্য যারা কাজ করবে তারা আন্তরিকতার সাথেই করবে’-বলেন প্রধানমন্ত্রী।

কাওছার আক্তার মুক্তা // এসএমএইচ//২৫ জুলাই ২০১৭