পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লেবু এসব আমাদের রান্না ঘরেই থাকে যা প্রতিদিনকার হাজারো সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকে। কিন্তু আমরা কজনই বা এসবের গুরুত্বে দেই। পেঁয়াজের রস যে চুল গজাতে সাহায্য করে তা তো আমাদের সবারই জানা, কিন্তু এর খোসাও যে কত গুরুত্বপূণ তা আমরা অনেকেই জানি না। শরীরের একাধিক জোটিল রোগের চিকিৎসায় এই পেঁয়াজের খোসা অনেক ভূমিকা পালন করে।

পেঁয়াজের খোসার নানা গুণাগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

১। চুলকানি এবং অ্যালার্জি সাড়াতে

এক গ্লাস পানিতে কিছু পেঁয়াজের খোসা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। পরদিন সকালে উঠে পানিটা ছেঁকে নিয়ে পান করুন। এমনটা কয়েকদিন করলেই দেখবেন চুলকানি এবং অ্যালার্জি সহ ত্বকের নানাবিধ প্রদাহ সৃষ্টিকারি রোগ একেবারে সেরে যাবে। কারণ পেঁয়াজের খোসায় রয়েছে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান, যা অল্প সময়েই শরীরের যে কোনও জ্বালা বা প্রদাহ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

২। পোকা মাকড়দের দূরে রাখে

আমাদের বাড়িতে কম বেশি মশা, মাছি বা পোকামাকড়, তেলাপোকা থাকে কাজেই এগুলো থেকে রেহাই পেতে প্রতিদিন একটি পাত্রে পেঁয়াজের খোসা ভিজিয়ে সেই পানি আপনার জালানা বা দরজার বাইরে রেখে দিন। কারণ পেঁয়াজের গন্ধে পোকা-মাকড়েরা আপনার ঘরে ঢুকতে পারবে না। তবে প্রতিদিন আবার পানিটা পরিস্কার করে ফেলতে হবে।

৩। চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে
প্রতিদিন গোসলের পরে পেঁয়াজের খোসা ভেজানা পানি দিয়ে ভাল করে চুলটা কয়েকবার ধুয়ে নিন। এতে করে আপনার চুলে আদ্রতা ফিরে আসবে। সেই সাথে মাথার ত্বকে যে সমস্ত ময়লা আটকে থাকে তাও পরিস্কার করতে সহায্য করে। যার ফলে পেঁয়াজের খোসার পানি মাথার চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৪। শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
পেঁয়াজের খোসা ব্লেন্ড করে জুস বানিয়ে নিন, পুরোপুরি বেল্ড না হলেও চলবে। মূলত খোসার রসটাই আসল। এবার তার সাথে ১ চা চামচ মধু বা চিনি মিশিয়ে নিন। কারণ শুধু খোসার রসটা খেতে স্বাদ লাগবে না। প্রসঙ্গত, প্রতিদিন নিয়ম করে শরীরচর্চা করার পাশাপাশি যদি এই জুসটি খেতে পারেন, তাহলে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা একেবারে কমে যায়। ফলে হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোক সহ একাধিক মারণ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।

৫। অন্ত্রের নানাবিধ সমস্যা দূর হয়

পেঁয়াজের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-ব্য়াকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল প্রপাটিজ, যা পেটের যে কোনও ধরনের সংক্রমণ কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। এক্ষেত্রে পেঁয়াজের খোসা ভেজানো পানি প্রতিদিন খেতে হবে। তাহলেই দেখবেন রোগের প্রকোপ একেবারে কমে যাবে।

৬। ক্যান্সার বিরোধী

একেবারে ঠিক শুনেছেন! ক্যান্সার রোগের প্রসার আটকাতে পেঁয়াজের খোসার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। কারণ এতে রয়েছে বিশেষ এক ধরনের এনজাইম যা শরীরে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি আটকায়। সেই সঙ্গে এতে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট স্বাভাবিক কোষেদের বৃদ্ধি যাতে ঠিক মতো হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। ফলে ক্যান্সার রোগ শরীরে বাসা বাঁধার কোনও সুযোগই পায় না। এক্ষেত্রে প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাবার অাগে পেঁয়াজের খোসা দিয়ে বানানো চা-ও খেতে পারেন।
এসএমএইচ //বৃহস্পতিবার, ০৬ জুলাই ২০১৭