Home / খেলা / এবার ইনিংস পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার!

এবার ইনিংস পরাজয় অস্ট্রেলিয়ার!

ক্রীড়া ডেস্ক :

বৃষ্টির বদান্যতা ও দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের প্রতিরোধের কল্যাণে হোবার্ট টেস্টে হার এড়ানোর স্বপ্নই দেখতে শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকান বোলারদের দেড় ঘণ্টার ঝড়ে সব প্রতিরোধ ভেঙে গেল। রীতিমতো তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন। দেড় ঘণ্টায় শেষ আট উইকেট হারিয়ে ইনিংস ও ৮০ রানের হারের লজ্জা নিয়ে মাথা নিচু করে মাঠ ছেড়েছে অজিরা।

এই নিয়ে টানা পাঁচ টেস্টে হারের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া। অন্যদিকে পার্থ টেস্টে জয়ের পর হোবার্টে দুর্দান্ত জয় দিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচ সিরিজ পকেটে পুরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দেড় দিনেরও বেশি সময় বৃষ্টি হওয়ার পরও হোবার্টে হার এড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। বৃষ্টি বাদ দিলে হোবার্টে খেলা হয়েছে মোটে দুই দিনের চেয়ে এক ঘণ্টা বেশি।

এই দুর্দান্ত জয়ের মধ্য দিয়ে ইতিহাস গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পর মাত্র দ্বিতীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টানা তিনবার টেস্ট সিরিজ জয়ের অনন্য কীর্তি গড়েছে প্রোটিয়ারা।

হোবার্ট টেস্টে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৬ রান তোলে ২৪১ রানের বড় লিড পায়। ২৪১ রানে পিছিয়ে থেকে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরুর পরও প্রোটিয়া বোলারদের তাপের পড়ে ৩২ রানে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে ইনিংস হারের লজ্জা নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্টিভেন স্মিথের দল।

দুই ইনিংসে মাত্র চারজন অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করতে পেরেছেন। ইংল্যান্ডের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার ১৬ ব্যাটসম্যানকে কোনো টেস্টে এক অঙ্কের কোটায় আউট করতে সক্ষম হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

ইংল্যান্ড এমন কীর্তি গড়েছে তিনবার। ১৮৯৬ ও ১৯১২ সালে ওভাল টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার ১৬ ব্যাটসম্যানকে এক অঙ্কের কোটায় আউট করতে সক্ষম হয়েছে ইংলিশরা। ১৮৮৭-৮৮ মৌসুমে সিডনি টেস্টেও অজিদের এমন লজ্জা উপহার দেয় ইংল্যান্ড।

দুই ইনিংসে সব মিলিয়ে ৫৫৮ বল স্থায়ী হয় অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস; ঘরের মাঠে যেটি চতুর্থ সর্বনিম্ন। ১৯২৮ সালে ডন ব্রাডম্যানের অভিষেক হওয়ার পর ঘরের মাঠে এতো কম বলে দুই ইনিংসে গুটিয়ে যায়নি অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে উসমান খাজ সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন। এছাড়া ডেভিড ওয়ার্নার ৪৫ ও স্টিভেন স্মিথ করেন ৩১ রান। আর সবার নামের পাশেই মোবাইলের ডিজিট।

অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ইনিংসে ধসিয়ে দিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন কাইল অ্যাবট। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ক্যাগিসো রাবাদা। অ্যাবট ছয়টি ও রাবাদা নেন চারটি উইকেট।

মঙ্গলবার দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেটে ১২১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে খাজা ও স্মিথ। দলীয় ১২৯ রানের মাথায় অ্যাবটের বলে উইকেটের পেছনে কুইন্টন ডি ককের হাতে ক্যাচ দিয়ে খাজার সাজঘরে ফেরার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার পতনের শুরু। এরপর অ্যাবট ও রাবাদার তোপের মুখে পড়ে নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেন এই দুজন। শেষ পর্যন্ত ১৬১ রানেই গুটিয়ে যায় স্মিথের দল।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩২৬ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেয়ার কৃতিত্ব ডি কক ও টেম্বা বাভুমার। ষষ্ঠ উইকেটে এই দুজন ১৪৪ রানের দারুণ জুটি গড়েন। ডি কক ১০৪ ও বাভুমা করেন ৭৬ রান। এছাড়া হাশিম আমলার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৪৭ রান।

প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে জস হ্যাজেলউড সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নেন। এছাড়া মিচেল স্টার্ক তিনটি ও জো ম্যানি নেন একটি উইকেট।

এর আগে হোবার্ট টেস্টের প্রথম ইনিংস দক্ষিণ আফ্রিকান পেসারদের তোপের মুখে ৩২.৫ ওভারেই মাত্র ৮৫ রানে গুটিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ১৭ রানে ৫ উইকেট হারানোর পরই অজিদের কোমড় ভেঙে যায়। সেখান থেকে আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি দলটি।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অধিনায়ক স্মিথ ৪৮ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন। টপঅর্ডার ব্যাটাসম্যানদের সবার নামের পাশেই মোবাইলের ডিজিট।

প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ভারনন ফিল্যান্ডার সর্বোচ্চ পাঁচটি উইকেট নেন। এছাড়া অ্যাবট তিনটি ও রাবাদা নেন একটি উইকেট।

প্রসঙ্গত, এর আগে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ৫-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এবার প্রতিপক্ষের মাঠে টেস্ট সিরিজেও হোয়াইটওয়াশের কীর্তি গড়ার পথেই রয়েছে প্রোটিয়ারা। আগামী ২৪ নভেম্বর অ্যাডিলেড ওভালে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার দিবারাত্রির টেস্টে শুরু হবে।

আরডি/ এসএমএইচ/ ১৫ নভেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...