Home / টপ নিউজ / ঐতিহাসিক সফরে আজ ঢাকায় আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট

ঐতিহাসিক সফরে আজ ঢাকায় আসছেন চীনা প্রেসিডেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বাংলাদেশ সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য ও  বিনিয়োগসহ অন্যান্য খাতে নিবিড় সহযোগিতার নতুন যুগ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়াকে গত মঙ্গলবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় চীন বিশ্বস্ত অংশীদার বলেও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া চীনের জাতীয় স্বার্থ, অঞ্চলগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বে নেওয়া বেইজিংয়ের উদ্যোগগুলোয় বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে তিনি।

তাই চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সফরে নিয়ে বাংলাদেশের আশা ও প্রত্যাশাও অনেক বেশি। আর এদিকে ‘ওয়ান-বেল্ট, ওয়ান রোড’ নীতি বাস্তবায়নের জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট সহযোগিতা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ঢাকায় এই সফর করছেন।

চীনের প্রেসিডেন্টের দুই দিনের এই সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির ২৫টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবার কথা রয়েছে বলে বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এ কথা জানিয়েছেন।

এই সফরের মধ্য দিয়ে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরো এগিয়ে যাবে এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তবে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের ঢাকা সফরের কারণে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বিগত কয়েক বছর ধরেই ঢাকা-বেইজিংয়ের সম্পর্ক গাঢ় হচ্ছে, যাকে বলা হয় বাংলাদেশের পূর্বমুখিতা। বাংলাদেশের কর্মকর্তারা এ সফরে আশা করছেন অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতামূলক চুক্তি ও সমঝোর আওতায় চীনের কাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা আসতে পারে। আর এই সহায়তা পেলে বাংলাদেশে অর্থনৈতিকভাবে আরো শক্তিশালী হবে বলেও তারা মনে করছেন।

বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করারা লক্ষ্যে আরো অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং একটি গার্মেন্টস ভিলেজ নির্মাণ প্রকল্পেরও চুক্তি করবে দুই দেশ।

২০০৭ সাল থেকেই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে। এর ফলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্য এসে দাঁড়ায় ৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে। তবে এর মধ্যে চীনের রপ্তানি আট দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। বিপরীতে বাংলাদেশের রপ্তানি মাত্র ৭৯ কোটি ডলার। তাই এ সফরের মাধ্যমে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ও রপ্তানি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করবে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্টের আনুষ্ঠানিক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক এ সব বিষয় নিয়েও আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে।

এছাড়া সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় নিয়ে দুই দেশ এবার প্রথমবারের মতো সন্ত্রাসবাদ দমনে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করতে যাচ্ছে। এটি সই হলে বাংলাদেশের সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ দমনে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে চীন। এ ছাড়া সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি চীন কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও দেবে।

আরডি/ ১৪ অক্টোবর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...