Home / টপ নিউজ / কাজের চাপ ও লাইফ ম্যানেজমেন্ট

কাজের চাপ ও লাইফ ম্যানেজমেন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রা এমন হয়ে উঠেছে যে, বেশিরভাগ মানুষের দীর্ঘ সময় কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। নয়টা- পাঁচটার কাজের রুটিন বেশিরভাগ মানুষের জীবনেই নেই। করপোরেট যুগে এসে মানুষ এখন নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে দিনরাত ব্যস্ত থাকে। এরফলে পরিবার, বন্ধু, স্বজনদের সাথে সম্পর্ক গুলো দিন দিন শিথিল হয়ে পড়ে। প্রায়ই সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া সম্ভব হয় না।

প্রতিদিন দীর্ঘ সময়ের কাজের ব্যস্ততায় দাম্পত্য জীবনের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। হারিয়ে যায় দাম্পত্য রোমান্স। বন্ধুদের চায়ের আড্ডায় যাওয়া ও হয়ে উঠে না।

কী করবেন? পেশার বাজারের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে চান আবার সম্পর্কগুলো টিকে না থাকলে জীবন হয়ে উঠবে বিরক্তিকর একঘেঁয়ে।

খুব বেশি চিন্তার কিছু নেই, একটু ব্যালেন্স করে চললে দেখবেন সমস্যাগুলো ঠিকই সামলে নিতে পারছেন।

  • জীবনসঙ্গীর কর্মক্ষেত্রের ধরন বুঝে প্রতিদিনের জীবনযাত্রার রুটিন গুছিয়ে নিন। কাজের চাপ, অতিরিক্ত সময় অফিসে থাকা এসব নিয়ে দোষারোপ করবেন না। একে অপরের কাজের ক্ষেত্রটা বোঝার চেষ্টা করুন। সেভাবে সংসারের কাজগুলো নারী-পুরুষ সেকেলে ভেদাভেদ না করে ভাগাভাগি করে নিন। যেমনঃ বাজার করা, বিল পরিশোধ, সন্তানকে স্কুলে আনা-নেয়া। এসব কাজ দুজন ভাগাভাগি করে নিলে কারো একার উপর অনেক চাপ পড়বে না। সহযোগিতার মানুসিকতা দাম্পত্য শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করে।
  • অফিসে গিয়ে কি কি করবেন তার একটা লিস্ট করে ফেলুন। এতে করে কাজগুলো এলোমেলো লাগবে না, টাইম-ম্যানেজমেন্টও ঠিক থাকবে।
  • অফিসে অপ্রোজনীয় আড্ডা, গসিপিং এড়িয়ে চলুন। কাজগুলো আগে শেষ করে নিন। এর মানে একটানা কাজ করবেন ব্রেক নিবেন না তা নয়। শুধু অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এড়িয়ে চলুন। এর ফলে আপনার অফিসের কাজের প্রতি সিরিয়াসনেস আপনার প্রতি ঊর্ধ্বতনের ভালো ধারণা যেমন তৈরি করেবে তেমনি আপনার সময়ও নষ্ট হবে না।
  • প্রয়োজন ছাড়া ঘন ঘন ফোনে কথা বলবেন না। কাজের ফাঁকে টি-ব্রেকে ও লাঞ্চটাইমে ফোনে কথা সেরে নিন। সময় নষ্ট না করলে বাড়তি সময় অফিসে কাটাতে হবে না।
  • খুব জরুরি না হলে অফিসের কাজ বাড়িতে নিয়ে আসবেন না। ফিরতে রাত হয়ে গেলে আগে রাতের খাবার সেরে নিন, এরপর কিছুক্ষণ সময় দিন পার্টনারকে।
  • অনেকে আছেন যারা ছুটির দিনে শুধু ঘুমিয়ে কাটাতে চান। এতে করে দাম্পত্য জীবনে চলতে থাকে অভিযোগের পালা। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কাছাকাছি ঘুরতে যাওয়া, মুভি প্ল্যান করুন। মাঝে মাঝে ছুটির দিনে বাইরে ডিনার প্ল্যান করতে করতে পারেন। বন্ধুদের বাসায় ইনভাইট করা বা আত্মীয়-স্বজনের বাসায় যাওয়া ছুটির দিনে এসব প্ল্যান আপনার পারিবারিক ও সামাজিক জীবনকে প্রফুল্ল করে তুলবে।

এতো গেল চাকরিজীবীদের জীবনযাপন। আর যারা হোমমেকার সমস্যাটা তাদের ক্ষেত্রে আবার অন্যরকম। ঘরে অনেকটা সময় একা থাকতে হয়। বেশি সময় একা কাটালে খারাপ লাগাটা স্বাভাবিক। এসবক্ষেত্রে সঙ্গীর উচিত সময় দেওয়ার চেষ্টা করা, বাসায় যতক্ষণ থাকবেন একসাথে ব্রেকফাস্ট করা, গল্প করা বা ডিনার করুন। অফিসের ফাঁকে সঙ্গীর খোঁজ নিন, মাঝে মাঝে ফোনে মেসেজ পাঠান।

যেসব হোম মেকারদের একাধিক সন্তান আছে তারা সন্তান ও বাসার কাজ নিয়ে খুব বযস্ত থাকেন। তাদের ক্ষেত্রে আবার দেখা যায় স্বামীকে সময় দিতে পারেন না। সঙ্গী যতক্ষণ বাসায় থাকে ততক্ষণ অন্য কাজ না করার চেষ্টা করুন। কাজগুলো সঙ্গী অফিসে থাকার সময় সেরে ফেলুন। বাচ্চার স্কুলের শিফট, টিউশন এসব সঙ্গীর অফিস টাইমের দিকে লক্ষ্য রেখে ঠিক করুন। সন্তানরা যেন বাবার সাথে কিছু সময় কাটাতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিন। স্কুলের হোমওয়ার্ক বাবা আসার আগে যতটা সম্ভব সেরে ফেলতে বলুন। পার্টনার অফিস থেকে ফেরার পর সন্তানসহ নাস্তা করার রুটিন তৈরি করুন।

এসব ছোট ছোট বিষয়ের উপর নজর রাখলে জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠবে। কাজের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ও আপনি হয়ে উঠবেন উৎফুল্ল, সামাজিক।

আরডি/ এসএমএইচ/ ১০ ডিসেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...