Home / জেলা সংবাদ / খুলশীতে ওসি মাঈনুলের গেস্ট হাউজে চলছিল অবাধে মাদক ও নারী ব্যবসা

খুলশীতে ওসি মাঈনুলের গেস্ট হাউজে চলছিল অবাধে মাদক ও নারী ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বন্দর নগরীর অভিজাত এলাকা খুলশীতে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদেই চলে আসছিল ওসি মাইনুলের মধুকুঞ্জ নামে খ্যাত ‘ইয়ারা গেস্ট হাউজ’। দেহ ব্যবসা, মাদক, অভিজাত শ্রেণীর যুবক যুবতীদের অবাধ যৌনচার কোনটাই বাদ যেতো না।

পুলিশ কর্মকর্তা মালিক তাই কখনো ধরাপড়ার ভয়ের কোন কারণ ছিল না।

 

DSC01709

কিন্তু সে গেস্ট হাউজ নামে মধুকুঞ্জে হানা দিয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট। বুধবার বিকালে মাদক বিরোধী আভিজান চালাতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত আবিস্কার করে সিএমপির সদরঘাট থানার বহিস্কৃত ওসি’র মাঈনুলের মালিকানাধীন গেস্ট হাউজে চলছে আসামাজিক কর্মকাণ্ড এবং মাদক ব্যবসা।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমানের নেতৃত্বে খুলশীতে হাবিব লেনের এ মধুকুঞ্জে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে চার বোতল ভতকা, বিশ পিস ইয়াবা, ইয়াবা ও সীসা সেবনের সরঞ্জাম এবং এক লক্ষ চুয়াল্লিশ হাজার নয়শত নব্বই টাকা। আটক করা হয় ১১ যুবতিসহ ২৬ জনকে। পরে যুবতিদের ছেড়ে দেয়া হয়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অসামাজিক কার্যাক্রম চালানোর অভিযোগে আটক করা হয় ১৫ জনকে। পরে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয় ভ্রাম্যমান আদালত।

জানাগেছে, খুলশীর ইন্ডিয়ান ভিসা সেন্টারের পাশের গলি হাবিব লেন। এই লেনের শেষ মাথায় পাঁচ তলার এক বিল্ডিং এ ওসি মাঈনুল গড়ে তোলেছে “ইয়ারা গেস্ট হাউজ”। নিচতলায় অফিস, দুই থেকে পাঁচ তলায় বিভিন্ন রুমে চলে দেহ ব্যবসা।

যেহেতু ওসির গেস্ট হাউজ সেহেতু পুলিশ, র‌্যাব, কিংবা মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের অভিযানের কোন ভয় ছিল না। প্রকাশ্যে এ গেস্ট হাউজে যৌনচার চলে আসলেও কেউ মুখ খোলার সাহসও পেতো না।

কিন্তু বিধিবাম। বুধবার দুপুরে ঘটনাচক্রে মাদক বিরোধী অভিযান চালাতে গিয়েই জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত আবিস্কার করেন ওসি মাঈনুলের তত্বাবধায়নের চলে আসা আসামাজিক কর্মকাণ্ডের আখড়া “ইয়ারা গেস্ট হাউজ”।

এর পরপরই ভবনটি ঘেরাও করে শুরু হয় পুলিশী অভিযান। প্রতি রুমে পাওয়া যায় ইয়াবা তৈরীর সরঞ্জাম। নিচ তলার এক লকার থেকে চার বোতল ভতকা ও একটি কেবিনেট ভাঙ্গা হলে সেখান থেকে এক লক্ষ নয়শত নব্বই টাকা বেরিয়ে আসে। পাওয়া যায় বিভিন্ন সময় এ হোটেলে আসা ব্যাক্তিদের তালিকা। কল গার্লের তালিকা, বিভিন্ন তারিখে তাদের দেওয়া টাকা ও টোকেন।

হোটেলের মেয়েদের সাথে কথা বলে জানা যায় প্রতি পুরুষের কাছ থেকে হোটেলের মালিক এক হাজার টাকা করে নেয়, আর মেয়েদের দেয়া হয় ৫০০ টাকা করে। জীবনের তাগিদে তারা এ রাস্তায় এসেছেন। তাদের কেউ ঢাকা থেকে আসেন, কেউ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে। প্রাথমিক ভাবে আটক হওয়া এগারজন মেয়ের বয়স ২০ থেকে ২৬ বছর পর্যন্ত। পরবর্তীতে মানবিক বিবেচনায় সতর্ক করে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

অভিযানকালে ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল মান্নান, মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টরবৃন্দ ও নবম এপিবিএন এর সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালত সুত্রে জানাগেছে, সন্দ্বীপের মগদারা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার ববি এ ব্যবসার সাথে জড়িত। তার পকেট থেকে তার ভাগের চুয়াল্লিশ হাজার টাকা পাওয়া যায়। দালাল মোঃ মাসুম ও দালাল জাহাঙ্গীরকে কে ছয় মাস, পারভেজ এক মাস, মোঃ ইউসুফ , মানিক ও বাহার আমজাদ, জাকারিয়া শাহাবুদ্দিনি, ইমরান, কে পনের দিন। বাবুর্চি তাহের (৬২), তার সহকারী নিত্য বড়ুয়া (৫৮)কে মানবিক ও বয়স বিবেচনায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। দারোয়ান বাশার (৩৫) কে একমাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযানের সময় টের পেয়ে পালিয়ে যায় নোয়াখালীর আলমগীর (৪৮), কক্সবাজারের গণি হোটেলের ম্যানেজার আলম ও বাবুল।
মুক্তা // এসএমএইচ // জানুয়ারি ১৯, ২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...