Home / অর্থ-বাণিজ্য / চট্টগ্রামে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি,জানালেন জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রামে আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি,জানালেন জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম, ২১ মে (অনলাইনবার্তা): ঘূর্ণিঝড় রোয়ানূর প্রভাবে বাঁধ ভেঙ্গে চট্টগ্রামের চার উপজেলায় আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। এসব উপজেলার প্রায় দু লাখ মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন। ঘূর্ণিঝড়ে ১২ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রোয়ানুর প্রভাবে ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি এবং ১০০ কোটি টাকার গবাদি পশু ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।

শনিবার রাত সাড়ে সাতটায় নগরীর সার্কিট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন।

জেলা প্রশাসক বলেন, রোয়ানু’র প্রভাবে বাঁশখালীতে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার সময় ৭ জন পানিতে ভেসে গিয়ে মারা গেছেন।এছাড়া সীতাকুণ্ড উপজেলায় দু জনের মৃত্যু সংবাদ পাওয়া গেছে। অন্যদিকে নগরীর হালিশহর এলাকায় চিংড়ির ঘেরে কাজ করতে গিয়ে পানিতে ভেসে দুই ভাইয়ের  মৃত্যু সংবাদ পেয়েছি, তার মধ্যে একজনের লাশ পাওয়া গেছে।পাশাপাশি নগরীর শপিং কমপ্লেক্স এলাকায় এক শিশুর মৃত্যু বরণ করেছে বলে খবর পেয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোয়ানু’র প্রভাবে আনোয়ারা, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড ও সন্দ্বীপ উপজেলায় আড়াই লাখ মানুষ পানি বন্ধী হয়ে আছে।তবে কিছু কিছু এলাকায় জোয়ারের পানি নামতে শুরু করেছে।’

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘বাঁশখালী, সন্দ্বীপ ও আনোয়ারা উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ফসল, গবাদি পশু, মৎস ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।বাঁশখালী উপজেলার খানখানাবাদ, ছনুয়া, গণ্ডামারা ইউনিয়ন এবং সন্দ্বীপের রহমতপুর, সারিকাইত, উরিরচর, মগধারা, কালাপানিয়া ইউনিয়নে সমুদ্রের পানি প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে বাঁশাখালীর ছনুয়া ইউনিয়নটি পুরোটাই পানিতে নিমজ্জিত আছে। চারটি উপজেলায় মোট আনুমানিক ৫০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষয়ক্ষতি ও ১০০ কোটি টাকার গবাদি পশু ও মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।’

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্যোগ কবলিত জায়গাগুলোতে পর্যাপ্ত ত্রাণে সামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, ইতিমধ্যে আমরা সন্দ্বীপ উপজেলায় ৫০ হাজার টাকা ও ১৫ মেট্রিক টন চাল, বাঁশখালী উপজেলায় ১ লাখ টাকা ও ৫ মেট্রিক টন চাল, আনোয়ারা উপজেলায় ৫০ হাজার টাকা ও ৩ মেট্রিক টন চাল এবং সীতাকুণ্ড উপজেলায় ৪০ হাজার টাকার ত্রাণ সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যারা ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন তাদের ঘরবাড়ি মেরামতে আরও আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

জেলার ৪৭৯ টি আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ২ লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘তাদের জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সরবরাহ করা হয়েছে।প্রয়োজনে রাতে থাকতে হলে রাতের খাবারও তাদের দেওয়া হবে।’

মূলত বেড়িবাঁধ ভাঙ্গার কারণেই ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করেছিলাম। তাবে যা হয়েছে তাও অপূরণীয়। মূলত বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢুকে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।’

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...