Home / টপ নিউজ / চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের সফর কূটনৈতিক সাফল্যের অংশ

চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের সফর কূটনৈতিক সাফল্যের অংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

৩০ বছর পর কোন চীনা রাষ্ট্র প্রধান বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। ১৯৮৬ সালে লি শিয়ানইয়ানের পর বাংলাদেশে আসলেন চীনা রাষ্ট্রপ্রধান শি জিনপিং। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের রাষ্ট্রপ্রধানের এ সফরকে ঐতিহাসিক অর্জন বলছেন অনেকে।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম গুলো এ সফরকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী ও সহযোগিতায় আরো ঘনিষ্ট হয়েছে বলে মনে করছেন সরকার দলীয় ও বিএনপি সমর্থিত অনেক নেতা। এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের সফর দুদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রায় উন্নীত করেছে বলে মনে করছেন তারা।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ উল আলম লেলিন পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের সাথে চীনের একটা ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আছে এবং বাংলাদেশের একটা অন্যতম প্রধান উন্নয়ন অংশীদার দেশ চীন। আগামী দিন গুলোতে এই সফরের মধ্য দিয়ে চীন এবং বাংলাদেশের যেই সহযোগিতা মূলক সম্পর্ক আছে, সেটা নতুন স্তরে উন্নীত হবে। এবং সম্ভাবনার নতুন নতুন ক্ষেত্র খুলে যাবে বলেও আশা করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, এই যে নতুন উত্তরণ এটা বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নের গতিকে ত্বরান্বিত করবে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের গভীর বন্ধুত্ব পূর্ণ সম্পর্ক অনেক আগে থেকেই আছে, এ সফরের মধ্য দিয়ে এ সম্পর্ক আরো বিকশিত হবে। এ সফরের মধ্য দিয়ে চীনের সাথে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক খাতেও বিনিয়োগে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একক নেতৃত্বে সমাসীন এবং তার দক্ষ, প্রাজ্ঞ নেতৃত্বের ফলেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। চীনের সাথে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ও তার ভূমিকাই নিয়ামক বলেও মনে করেন নূহ উল আলম লেলিন।
অপরদিকে সাবেক বিএনপি নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান সরকারের বৈদেশিক সাফল্যের কথা স্বীকার করলেও চীনা রাষ্ট্রপ্রধানের এই সফর চীনের নিজ স্বার্থেই করা বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আখতারুজ্জামান বলেন, ‘সফরটার উদ্যোগ নিয়েছে চীন সরকার। তারা ভিয়েতনাম ও ইন্ডিয়ার সফরের সাথে মিলিয়ে বড় সফরের অংশ হিসেবে এদেশে এসেছে। চীন তার নিজের স্বার্থেই এখানে এসেছে। চীনের নিজেদের স্বার্থ বিবেচনা করেই, প্রটোকলে না থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নেত্রীর সাথে চীনের প্রেসিডেন্ট দেখা করেছেন। এই সাক্ষাতে বাংলাদেশের সাথে এই সফরে যে চুক্তিগুলো হয়েছে, তাতে বিএনপি নেত্রীর সমর্থন প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, চীনের প্রয়োজন বাংলাদেশের বন্ধুত্ব, বাংলাদেশের ১৭/ ১৮ কোটি মানুষের বিশাল একটা বাজার। এটা চীনের বিনিয়োগের জন্য অনেক বড় ব্যাপার, সেজন্য চীন কোনো রূপ ঝুঁকি নিতে চায়নি। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই আওয়ামী লীগ এবং চীনের ক্ষমতাসীন দলের সাথে সম্পর্ক শীতল ছিল। আর জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সবসময়ই পূর্বমূখী বা চীন পন্থী দল হিসেবে পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সাথে আওয়ামী লীগের সম্পর্ক গভীর হয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আরডি/ ১৫ অক্টোবর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...