Home / খেলা / টি-টুয়েন্টিতেও সিরিজ নিউজিল্যান্ডের
Sabbir Rahman of Bangladesh (R) takes a shot with Luke Ronchi of New Zealand wicket keeper during the 20/20 International cricket match between New Zealand and Bangladesh at Bay Oval in Mount Maunganui on January 6, 2017. / AFP PHOTO / Fiona Goodall

টি-টুয়েন্টিতেও সিরিজ নিউজিল্যান্ডের

ক্রীড়া ডেস্ক :

একদিকে সিরিজে টিকে থাকতে বাঁচা মরার ম্যাচ, অন্যদিকে পাহাড় সমান লক্ষ্যের বোঝা। সঙ্গে নিউজিল্যান্ড সফর জুড়ে হারের বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকা বাজে স্মৃতি। সবমিলিয়ে রান তাড়া করতে নামার সময় কোনো দিক থেকেই সহজ সমীকরণ সঙ্গী হতে পারেনি বাংলাদেশের। শুক্রবার ম্যাচের ফলেও তাই চমক জাগানিয়া কোনো পরিবর্তন আসেনি। সফরকারীদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪৭ রানের হার নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দল। সেইসঙ্গে এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টুয়েন্টি সিরিজও ২-০ তে জিতে নিলো নিউজিল্যান্ড। ওয়ানডে সিরিজও স্বাগতিকরা এক ম্যাচ হাতে রেখে জিতেছিল। পরে হোয়াইটওয়াশ করেছিল অতিথিদের।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে কলিন মুনরোর ঝড়ো সেঞ্চুরি ও টম ব্রুসের দুর্দান্ত ফিফটিতে রানের পাহাড় গড়েছিল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের বোলিং ধসিয়ে দিয়ে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান তোলে স্বাগতিকরা। মুনরো ৫৪ বলে ১০১ ও ব্রুস ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৯ রানের অবদান রেখেছেন। রান তাড়া করতে হলে নিজেদের নতুন রেকর্ডই গড়তে হতো বাংলাদেশকে। তাতে শুরু থেকেই উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। মাঝে সাব্বির রহমান ও সৌম্য সরকারের প্রতিরোধের পরও ১৮.১ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার পথে ১৪৮ রানের বেশি এগোতে পারেনি লাল-সবুজরা।
টি-টুয়েন্টিতে প্রথমে ব্যাট করে ১৭৪ বা এর বেশি রান তুলে কখনো হারেনি নিউজিল্যান্ড। সেখানে বাংলাদেশ কখনো ১৬৪-এর বেশি তাড়া করে জেতেনি। কঠিন পরীক্ষা, কঠিন সমীকরণ। ইনিংস শুরু হতে না হতেই তিন শীর্ষ ব্যাটসম্যান সাজঘরে। শুরুটা তাই বিবর্ণই হলো। মাঝে অবশ্য সাব্বির ও সৌম্যের ব্যাটে প্রতিরোধের গল্প থাকল। সম্মানজনক পরাজয় বলে কিছু নেই। কিন্তু লড়াইয়ের আশাও এই ম্যাচে জাগাতে পারল না টাইগাররা।
সৌম্যকে নিয়ে সাব্বিরের প্রতিরোধের গল্পটি ৪০ বলে ৬৮ রানের। এই চতুর্থ জুটির সময় হয়তো অসম্ভব জয়ের স্বপ্নই জাগছিল। আরেকটি সুযোগ অপচয় না করে আস্থার প্রতিদান দিচ্ছিলেন সৌম্য। কিন্তু ইনিংসটাকে লম্বা করতে পারলেন না। রানে ফেরার আভাস দেওয়া ইনিংসটি ৩৯ রানে থেমেছে।  ৩ চার ও ২ ছয়ে ২৬ বলে আত্মবিশ্বাসী সৌম্যর দেখা মিলল অবশ্য।
এরপর ভরসা হয়ে থাকা সাব্বিরও ফিরে গেলে আবারো বিপদে পড়ে বাংলাদেশ। ইশ সোধির বলে বোল্টকে ক্যাচ দিয়ে দারুণ ইনিংসটির সমাপ্তি টেনেছেন সাব্বির। ৩টি করে চার-ছয়ে ৩২ বলে ৪৮ রানে থেমেছেন তিনি।
দুই তরুণের আগে-পিছে কেবল আসা যাওয়ার গল্প। শুরুটা ইমরুল কায়েসকে দিয়ে। এদিন রানের খাতাই খুলতে পারেননি তিনি। মিচেল স্যান্টনারের করা ইনিংসের প্রথম ওভারে টম ব্রুসকে ক্যাচ দিয়েছেন বাঁহাতি ওপেনার।
পরে তামিম ইকবাল ২ চারে ৭ বলে ১৩ রানে ফিরেছেন। সাব্বিরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউটে উইকেট বিসর্জন দিয়ে এসেছেন পুরো সিরিজেই নামের প্রতি সুবিচার করতে না পারা এই মারকুটে ব্যাটসম্যান।
দ্রুত দুই উদ্বোধনীকে হারিয়ে তখন এমনিতেই বিপদে বাংলাদেশ। সেটি আরো বাড়িয়ে যান সাকিব আল হাসান। মাত্র ১ রান করে বেন হুইলারের বলে দায়িত্ব জ্ঞানহীন শটে উইকেট ছুঁড়ে এসেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেই। এরপর সৌম্য-সাব্বিরের বীরত্ব।
পরের অংশে ব্যাটসম্যানদের আবারো সেই আসা যাওয়ার মিছিল। সাব্বির ফেরার পরই মোসাদ্দেক হোসেন নেই। উলিয়ামসনের বলে স্যান্টনারকে ক্যাচ দিয়েছেন ১ রানে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যা একটু আভাস দিচ্ছিলেন। সেটিও ১ ছয়ে ১৯ রানের বেশি বাড়ল না। মাশরাফি বিন মুর্তজা (১) এলেন আর গেলেন।
ব্যাটসম্যান বলতে শেষে বাকি নুরুল হাসান। সঙ্গী পেসার রুবেল হোসেন। পরাজয় ততক্ষণে ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে। নুরুলের (১০) বিদায়ে তা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। রুবেল পরে হুইলারের বলে ব্রুসকে ক্যাচ দিলে সেই সময়টুকুও এসে যায়!
নিউজিল্যান্ডের হয়ে বল হাতে অবদান রেখেছেন হাত ঘোরানো প্রায় সকলেই। কেবল কলিন গ্র্যান্ডহোমই ২ ওভারে ৩৩ রান খরচ করে উইকেট ছাড়া থেকেছেন। ইশ সোধি সেখানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা। হুইলার ও  অধনিায়ক কেন উইলিয়ামসনের দখলে গেছে ২টি করে উইকেট। ১টি করে মিচেল স্যান্টনার ও ট্রেন্ট বোল্টের ঝুলিতে।
এর আগে মুনরোর সেঞ্চুরির তাণ্ডব ও টম ব্রুসের দুর্দান্ত ফিফটিতে রানের পাহাড় গড়ে নিউজিল্যান্ড। মুনরো ৫৪ বলে ১০১ ও ব্রুস ৩৯ বলে অপরাজিত ৫৯ রানের অবদান রেখেছেন।
টস জিতে বোলিংয়ে নেমে অবশ্য টাইগারদের শুরুটা হয়েছিল ক্যাপ্টেন মাশরাফির উল্লাসের মধ্য দিয়ে। ম্যাচের প্রথম বলেই লুক রনকিকে মোসাদ্দেকের ক্যাচ বানিয়েছেন। ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই স্বাগতিকদের আরো দুটি উইকেট তুলে নেন টাইগার বোলাররা। কিন্তু এরপরই পথ হারাতে হয় মুনরোর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে!
একসময় ৪৬ রানে স্বাগতিকদের ৩ উইকেট তুলে নিয়েছেন লাল-সবুজরা। রনকির পর ঘরের ছেলে উইলিয়ামসনকে (১২) ফেরান সাকিব। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই কোরি অ্যান্ডারসনের (৪) স্টাম্প ভাঙেন মোসাদ্দেক।
পরে সুবিধাজনক অবস্থানে থেকেও মুনরোর সঙ্গে আর পেরে ওঠেনি সফরকারীরা। টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই কিউই। ৫২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার কিছুক্ষণ পরই অবশ্য আউট হয়েছেন। ততক্ষণে যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে গেছে! ফেরার আগে ৫৪ বলে ৭টি করে চার-ছয়ে ১০১ রান করেছেন ২৯ বয়সী মুনরো। এই কিউই ব্যাটসম্যান বড় শাস্তিটা দিয়েছেন মাহমুদউল্লাহকে। টাইগার অলরাউন্ডারের করা ১৩তম ওভারে ৩টি ছয় ও ২টি চারে ২৮ রান নেন স্বাগতিক তারকা। টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় খরুচে ওভারের রেকর্ড এটি।
আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টিতে মুনরোর ইনিংসটি দশম দ্রুততম সেঞ্চুরি। নিউজিল্যান্ডের কোনো ব্যাটসম্যানের টি-টুয়েন্টিতে চতুর্থ সেঞ্চুরি। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম একাই করেছিলেন দুটি শতক। অন্যটি মার্টিন গাপটিলের। ম্যাককালাম ৫০ ও ৫১ বলে দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। গাপটিলের একমাত্র সেঞ্চুরিটি ৬৯ বলে।
মুনরোকে যোগ্য সঙ্গ দেন টিম ব্রুস। ৩৯ বলে ১টি ছয় ও ৫টি চারে ৫৯ রানের হার না মানা ইনিংস খেলেন তিনি। অন্যদের মধ্যে গ্র্যান্ডহোম (২), নিশাম (৫) ও স্যান্টনার (৪) রানে ফিরেছেন।
বাংলাদেশের সফলতম বোলার রুবেল; ৩৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এছাড়া একটি করে উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি, সাকিব ও মোসাদ্দেক। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভারের স্পেলে ৩০ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন।
তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার পর টি-টুয়েন্টিতেও হার দিয়ে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। শুক্রবার এক ম্যাচ হাতে রেখেই টি-টুয়েন্টি সিরিজও হারল। হোয়াইটওয়াশ এড়াতে আগামী রোববার তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টিতে আরেকটি পরীক্ষা মাশরাফিদের।

আরডি/ এসএমএইচ/ ৬ জানুয়ারি ২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...