Home / খেলা / টি-টুয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশের লজ্জা বাংলাদেশের
MOUNT MAUNGANUI, NEW ZEALAND - JANUARY 08: Ish Sodhi celebrates with teammate Trent Boult for his wicket of Soumya Sarkar of Bangladesh during the third Twenty20 International match between New Zealand and Bangladesh at Bay Oval on January 8, 2017 in Mount Maunganui, New Zealand. (Photo by Anthony Au-Yeung/Getty Images)

টি-টুয়েন্টিতেও হোয়াইটওয়াশের লজ্জা বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক :

দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। চোখ রাঙাচ্ছিল হোয়াইটওয়াশের লজ্জা। এমন ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ছুঁড়ে দিলো ১৯৫ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্য। জিততে হলে টি-টুয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়তে হতো। শুরুতে ভড়কে গেলেন না তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। আহত বাঘ যেভাবে প্রতিপক্ষের ওপর হামলে পড়ে, দুই টাইগারকে সেই রূপেই দেখা গেল। তাতে আরেকটি রূপকথার গল্প লেখা হতে পারতো। কিন্তু বলের সঙ্গে প্রয়োজনীয় রানের ব্যবধানে পাল্লা দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত হতাশাই জুটেছে। রোববার ২৭ রানের পরাজয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের।

সেইসঙ্গে ওয়ানডে সিরিজের পর তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কিউইওয়াশের লজ্জাই মিলল বাংলাদেশের! এবারের সফরে ৬-০ তে এখন পিছিয়ে বাংলাদেশ। না ফুটবলের কোনো স্কোরলাইন নয় এটি। আসলে এটি নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টাইগারদের টানা ১৯তম হারও।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভালে রোববার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে কেন উইলিয়ামসন ও কোরি অ্যান্ডারসনের তাণ্ডবে নির্ধারিত ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৪ রান তোলে নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসনের ৫৭ বলে ৬০ ও অ্যান্ডারসনের ঝড়ো ৪১ বলে অপরাজিত ৯৪ রানে এই সংগ্রহ দাঁড় করায় কিউইরা। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৭ পর্যন্তই যেতে পেরেছে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকারের ৪২, সাকিব আল হাসানের ৪১ রানে ভর  করে এই সংগ্রহ টাইগারদের।
দেশের বাইরে টি-টুয়েন্টিতে ১৪৪ রানের বেশি তাড়া করে জেতেনি  বাংলাদেশ। দেশের বাইরে জয়ও মাত্র তিনটি। সেটিও হল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও কেনিয়ার বিপক্ষে। সঙ্গে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটেই ১৬৪ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই টাইগারদের। চলতি নিউজিল্যান্ড সফরে হারের বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়ার দুঃসহ স্মৃতি তো আছেই। সব মিলিয়ে আরেকটি বিপর্যয়ই হয়তো প্রহর গুনছিল!
কিন্তু এদিন যেন অন্য বাংলাদেশেরই দেখা মিলল। ইনিংসের শুরুতেই দাপট। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সৌম্য সরকারকে নিয়ে ঝোড়ো শুরুই এনে দিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। দুজনে ৩০ বলে ৪৪ রান যোগ করেন। এরপর কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে বোল্টকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তামিম। ৩ চার ও ১ ছয়ে ১৫ বলে ২৪ রানে থেমেছেন।
পরে ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৪২ রানে ফিরেছেন সৌম্য সরকার। ইশ সোধিকে ফিরতি ক্যাচ দেওয়ার আগে ৬ চারে ২৮ বলে নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ফর্মে ফিরতে শুরু করা এই বাঁহাতি। তবে ৮ ওভারে দলকে ৮০ তে নেওয়ায় বড় ভূমিকা তার। দেখেশুনে খেলা সাব্বির রহমান ফিরেছেন ২ চারে ১৬ বলে ১৮ রানে। উইলিয়ামসনের বলে স্টাম্প ভেঙেছে তার। ৯৭ রানের সময় তৃতীয় উইকেট পড়েছে বাংলাদেশের। যেখানে স্বাগতিকরা ৩ উইকেট হারিয়েছিল ৪১ রানেই!

এরপর অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দিকে তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রয়োজনের মুহূর্তে আরেকবার নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। ১৮ রান তার। সাকিব তখনও ছিলেন। সঙ্গে বড় শট খেলতে পারা মোসাদ্দেক হোসেন। কিন্তু রানের সঙ্গে বলের ব্যবধান বাড়তে থাকাই কাল হলো। রানের গতি বাড়াতে গিয়েই মোসাদ্দেক আউট। ২ চারে ৭ বলে ১২ রান তার।
লক্ষ্যের সীমাটা ততক্ষণে ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রায়! সাকিব তবু চেষ্টা চালিয়ে গেলেন। ৪ চারে ৩৪ বলে ৪১ রানের ইনিংসটি সেই চেষ্টার সফল পরিণতি দেওয়ার মত যথেষ্ট ছিল না যদিও। সেটি কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে! শেষদিকে নুরুল হাসানের ৫ বলে অপরাজিত ৭-ও সেটাই করেছে!
নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২টি করে উইকেট নিলেন ট্রেন্ট বোল্ট ও সোধি। তবে বোল্ট ৪ ওভারে ৪৮ রান খরচ করলেও সোধি মাত্র ২২ রান দিয়ে লক্ষ্য তাড়ার গতিতে ভালোভাবেই লাগাম টানতে সক্ষম হয়েছেন। অন্য উইকেট দুটি মিচেল স্যান্টনার ও কেন উইলিয়ামসনের।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে শুরুতে উইলিয়ামসনের ধৈর্য ও শেষদিকে অ্যান্ডারসনের তাণ্ডবের গল্প। অসাধারণ ব্যাট করা অ্যান্ডারসন ৪১ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। ইনিংসটি ২ চার ও ১০ ছয়ে সাজিয়েছেন তিনি। উইলিয়ামসন ৫৬ বলে ৬ চার ও ১ ছয়ে ৬০ রান করেছেন।
অন্যদের মধ্যে জেমস নিশাম (১৫), কলিন মুনরো (০), টম ব্রুস (৫) অবদান রাখতে না পারলেও তাই স্বাগতিকদের ভুগতে হয়নি।
বাংলাদেশের হয়ে রুবেল হোসেন ৩টি এবং মোসাদ্দেক হোসেন নেন ১টি করে উইকেট। মাশরাফি ৩.২ ওভারে ৪২, তাসকিন আহমেদ ৪ ওভারে ৩৭ ও সাকিব ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে উইকেটশূন্য ছিলেন।
ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই সাবলীল ছিলেন দুই কিউই ওপেনার উইলিয়ামসন ও নিশাম। দুজনে ৩৪ রান যোগ করেন। টাইগাররাও ছিলেন নিয়ন্ত্রিত। সেখান থেকে একসময় ৩ উইকেটে ৪১ হয়ে যায় কিউরা। খোলসবন্দী হয়ে পড়েন উইলিয়ামসন ও অ্যান্ডারসন। প্রথম ১০ ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ৫৫! সেখানে শেষের ১০ ওভারে তারা তুলেছে ১৩৯ রান!
আসলে ইনিংসের অর্ধেক পেরোতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ফেরে কিউইরা। উইলিয়ামসন ও অ্যান্ডারসন চতুর্থ উইকেটে যোগ করেন ১২৪ রান। তাতেই ম্যাচ হাতছাড়া! যে পথে নিউজিল্যান্ডের হয়ে টি-টুয়েন্টিতে এক ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ছক্কা মারার রেকর্ড গড়েছেন অ্যান্ডারসন। ২০১০ সালে ক্রাইস্টচার্চে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের ৮ ছয় ছিল কিউদের আগের রেকর্ড। টি-টুয়েন্টিতে অ্যান্ডারসনের এই ১০ ছয়ের চেয়ে বেশি ওভার বাউন্ডারিই মেরেছেন মাত্র তিন ব্যাটসম্যান। ১৪টি ছক্কার বিশ্ব রেকর্ডটি অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন ফিঞ্চের।
উল্লেখ্য, টি-টুয়েন্টি সিরিজের আগে তিন ওয়ানডে সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কাছে ০-৩ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশ। টি-টুয়েন্টি সিরিজেও টাইগারদের একই লজ্জার পর দল দুটি দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে। আগামী ১২ জানুয়ারি সাদা পোশাকের প্রথম ম্যাচটি ওয়েলিংটনে শুরু।

আরডি/ এসএমএইচ/ ৮ জানুয়ারি ২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...