নিজস্ব প্রতিবেদক :
বদলে ফেলা হচ্ছে সচিবালয়ে প্রবেশের গেট পাস ইস্যু ও বিতরণ সিস্টেম। আধুনিক ও ডিজিটালাইজড হচ্ছে সচিবালয়ে প্রবেশের গেটপাস। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধের যে কোনও সময় থেকে বদলে যেতে পারে এই সিস্টেম। নতুন সিস্টেম কার্যকর করার জন্য বসছে নতুন সার্ভার। চলছে অটোমেশনের কাজ। আর এ কাজ তদারকি করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা বিভাগ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সচিবালয়ে কর্মরত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানান, প্রতিদিন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন কাজ নিয়ে কয়েকশ’ মানুষ আসেন সচিবালয়ের গেটে। এদের মধ্যে অনেকেই আসেন সচিবালয়ে কর্মরত আত্মীয়- স্বজনের সঙ্গে দেখা করতে। আবার কেউ আসেন নিজের কোনও অফিসিয়াল কাজ দ্রুত সারতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা মন্ত্রীর কাছে তদবিরের জন্য। আবার কেউ আসেন নিজের এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের তদবিরের জন্য। কিন্তু গেট পাস না থাকায় অনেকেই সচিবালয়ের ভেতরে ঢুকতে পারেন না। সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশের জন্য সবার আগে প্রয়োজন হয় গেট পাস।
বর্তমানে হাতে লেখা পাস কার্যকর রয়েছে সচিবালয়ে প্রবেশের জন্য। তবে নতুন ব্যবস্থায় যে কর্মকর্তা পাস ইস্যু করবেন তিনি দর্শনার্থীর নাম, পেশা, সচিবালয়ে আগমণের উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্টের মোবাইল নম্বর কম্পিউটার সংযোগের মাধ্যমে সচিবালয়ের গেটে থাকা অভ্যর্থনা কেন্দ্রের সার্ভারে পাঠাবেন। এ নিয়ম সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, ও যুগ্মসচিবের ক্ষেত্রে পওযোজ্য হবে। আর মন্ত্রী থেকে যুগ্ম সচিবের পদ ক্রম অনুসারে সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে। গেটের অর্ভথ্যনা কেন্দ্রে কর্মরত আনসার সদস্যরা তা সার্বক্ষণিকভাবে নজরে রাখবেন। যাদের নামে পাস আসবে তারা কাউন্টারে এসে খোঁজ নেবেন। সব তথ্য মিলে গেলে কাউন্টার থেকে কম্পিউটারে প্রিন্ট করা একটি স্লিপ দেওয়া হবে। এই স্লিপ গেটে কর্মরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দেখিয়ে সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করবেন আগত অতিথিরা।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে একজন কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ৫টি পাস ইস্যু করার বিধান আছে। তবে তিনি যে কোনও কারণে এরচেয়ে বেশি পাস ইস্যু করলেও আমরা তা ধরতে পারি না। তবে এ সিস্টেম পুরোপুরি ডিজিটালঅইজড হলে এমন গড়মিল বা ভুল হবে না। কেউ বেশি পাস ইস্যু করতে পারবেন না।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন উপসচিব না প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘সব কিছু ঠিক থাকলে ২০১৭ সালের শেষ নাগাদ চালু হতে পারে নতুন সিস্টেম। ’ কাগজের ঝামেলা এড়াতে ও আরও দর্শনার্থীদের সম্পর্কে ভালোভাবে অবগত হওেয়ার জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মুক্তা // এসএমএইচ // জানুয়ারি ২০, ২০১৭