Home / টপ নিউজ / ‘তারুণ্যকে রক্ষা করতে কবিগুরুর কর্ম ও দর্শন থেকে রসদ নিতে হবে’

‘তারুণ্যকে রক্ষা করতে কবিগুরুর কর্ম ও দর্শন থেকে রসদ নিতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক :

উগ্র সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মান্ধতা আচ্ছন্ন হয়ে বিপথে যাওয়া থেকে তারুণ্যকে রক্ষা করতে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কর্ম ও দর্শন থেকে রসদ নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। আজ শুক্রবার রাজধানীর উত্তরা ক্লাবে ‘রবীন্দ্রনাথের শিক্ষা-ভাবনা’ নিয়ে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলনের  উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।  সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, “উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতার বলি হয়ে তরুণ প্রজন্মের একটি অংশ যখন বিপদগামী হয়ে উঠছে, তখন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, কবিতা ও শিক্ষাভাবনার চর্চা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ।”  তিনি আরো বলেন, “বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমাদের জীবনে রবীন্দ্রনাথের ভাবনা, ধারণা নানাভাবে জড়িয়ে আছে। জাতিসত্তাবোধে অনুপ্রাণিত হয়ে বাঙালি যেদিন মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, সেদিন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হয়ে উঠেছিলেন নিরন্তর প্রেরণার উৎস।” কিন্তু পঁচাত্তরের পনের অগাস্টের পর বাঙালি জাতিকে রবীন্দ্র চর্চা থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল মন্তব্য করে নূর বলেন, “সে অপপ্রয়াসের কিছু ছাপ তো আমাদের তরুণ প্রজন্মের মন-মানসে প্রভাব ফেলবেই। আমরাও রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনা থেকে অনেকটা দূরে সরে এসেছি।” এ সময় সংস্কৃতিকর্মী বিশ্ব সাহিত্য ও সংস্কৃতির আকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে এক ‘দেদীপ্যমান নক্ষত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “মননশীলতাকে সমৃদ্ধ করতে রবীন্দ্র শিক্ষাভাবনার ওপর ব্যাপক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রাসঙ্গিক ও জরুরি।” এ ছাড়াও সম্মেলনের স্বাগত বক্তব্যে রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্রের অধিকর্তা মুনমুন গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনার এমন অনেক দিক রয়েছে, যা চর্চার অপেক্ষা রয়েছে। সেগুলো নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা নেওয়া প্রয়োজন।” সময়ের চেয়ে রবীন্দ্রনাথের শিক্ষাভাবনা অগ্রসর ছিল উল্লেখ করে বিশেষ অতিথি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, প্রকৃতির সঙ্গে ব্যক্তির, ভাবনার সঙ্গে কর্মের, জ্ঞানের সঙ্গে মনুষ্যত্ববোধের, স্থানিকতার সঙ্গে আন্তর্জাতিকতার, আহরণের সঙ্গে প্রকাশনের, আনন্দের সঙ্গে শিক্ষালাভের যে চিন্তা তিনি করেছিলেন তা আজও প্রাসঙ্গিক।” উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য অধ্যাপক ইয়াসমীন আরা লেখা বলেন, “শিক্ষাবিদ ও গবেষকদের এই মিলনমেলায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য ও শিক্ষা ভাবনার বহুমাত্রিক দিক উঠে আসবে, যা বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থার অবক্ষয় রোধ ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখবে।” জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক এ এস এম আবু দায়েন বলেন, “উন্নয়ন, অর্থনীতি কিংবা রাজনীতির কূটচালে পিছিয়ে পড়া জনপদের এক প্রাদেশিক ভাষায় সাহিত্য রচনা করে একজন মানুষ স্থান-কাল নির্বিশেষে এমন অপরিহার‌্য হয়ে উঠতে পারেন, সেই গর্ব রবীন্দ্রনাথ আমাদের দিয়ে গেছেন।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিরোনামের বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন একুশে পদকজয়ী সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও শিক্ষাবিদ হায়াৎ মামুদ।  আলোচনায় অংশ নেন চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়ান স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক চেন শিনে ও জাপানের হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাছাহিকো টোগাওয়া।   

আরডি/ এসএমএইচ // ৫ আগস্ট ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...