Home / অর্থ-বাণিজ্য / দাম কমছে পাম অয়েলের

দাম কমছে পাম অয়েলের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

আসন্ন শীত মৌসুম সামনে রেখে বাজারে চাহিদা হ্রাসের শঙ্কায় কমতে শুরু করেছে পাম অয়েলের দাম। এরই মধ্যে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে মণে ২০০ টাকা। বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের বুকিং দর স্থিতিশীল থাকলেও দেশে টানা দরপতনে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জের বিভিন্ন আড়তে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল পাইকারিতে পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ২ হাজার ৫০০ টাকায়, যা গত কয়েক মাসের মধ্যে ভোজ্যতেলের সর্বনিম্ন দর। দুই সপ্তাহ আগেও পাম অয়েল বিক্রি হয়েছিল প্রতি মণ ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে। সোমবার সুপার পাম অয়েলের দাম মণে ১৫০-১৮০ টাকা কমে লেনদেন হয় ২ হাজার ৬০০ টাকায়।

ক্রেতাদের মধ্যে পণ্যটির চাহিদা কমতে থাকায় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ী মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘শীতের আগে মজুদ কমানোর চেষ্টা করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। ফলে পাইকারি বাজারে পাম অয়েলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন তারা। শীতে পাম অয়েল জমে যাওয়ার কারণে অনেকেই পরিমাণমতো পণ্য ক্রয় করে থাকেন। হঠাত্ চাহিদা কমে আসায় বাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।’ এক্ষেত্রে সয়াবিনের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আগামী কয়েক মাস ভোজ্যতেলের মধ্যে সয়াবিনের বাজার চাঙ্গা থাকবে বলে আশা করছেন তিনি।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল পাইকারিতে সয়াবিন তেল বিক্রি হয় প্রতি মণ ৩ হাজার ১৮০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকায়। সিটি গ্রুপের সিটি সয়াবিন এ দরে বিক্রি হলেও টিকে গ্রুপের সয়াবিন তেল লেনদেন হচ্ছে ৩ হাজার ৮০ থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকায়।

দেশের প্রায় সব ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে পাম অয়েলের মজুদ থাকলেও মুষ্টিমেয় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কাছে রয়েছে সয়াবিন। ফলে সামনের দিনগুলোয় সয়াবিনের বাজার চাঙ্গা হওয়ার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

সূত্রমতে, চট্টগ্রামভিত্তিক ভোগ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা দেশের সবচেয়ে বেশি ভোজ্যতেল আমদানি ও পরিশোধন করে থাকেন। এক সময় এস আলম, নূরজাহান গ্রুপ, মোস্তফা গ্রুপ ভোজ্যতেলের বাজার প্রথম সারিতে থাকলেও বর্তমানে টিকে গ্রুপ ও এসএ গ্রুপও বাজারে ভোজ্যতেল সরবরাহ করছে। বর্তমানে সিটি ও টিকে গ্রুপ সয়াবিনের বাজারে আধিপত্য ধরে রেখেছে।

উল্লেখ্য, দেশে রোজার আগে ভোজ্যতেলের চাহিদা বেড়ে যায়। সারা বছর প্রায় ১৫ লাখ টন ভোজ্যতেলের (পাম ও সয়াবিন) চাহিদা থাকলেও ওই সময় চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়। দেশীয় মিল মালিকরা মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে অপরিশোধিত পাম অয়েল ও আর্জেন্টিনা থেকে সয়াবিন আমদানি করে থাকেন। আমদানিকৃত পাম ও সয়াবিন তেল মিলে পরিশোধনের পর বাজারে বিক্রি করা হয়। কারসাজি রোধে সরকার ২০১১ সালে ভোজ্যতেল, চিনি ও গম বিক্রিতে সরবরাহ আদেশ বা ডিও প্রথা বাতিল করলেও বর্তমানে ভিন্ননাম দিয়ে একই পদ্ধতিতে পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

ফলে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও বিভিন্ন সময়ে বাজার কারসাজির সুযোগে নিত্য এসব পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আসন্ন শীত মৌসুমে পাম অয়েলের চাহিদা কমে যাওয়ার সুযোগে সয়াবিনের বাজার নিয়ে কারসাজির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

আরডি/ ২৪ অক্টোবর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...