Home / টপ নিউজ / দৌলতদিয়ায় চারটি ঘাট সচল হলেও যানজটের কোন উন্নতি হয়নি

দৌলতদিয়ায় চারটি ঘাট সচল হলেও যানজটের কোন উন্নতি হয়নি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

তীব্র স্রোত ও নদী ভাঙনের কারণে বন্ধ থাকা দৌলতদিয়ার চারটি ঘাটই পুনঃস্থাপন করে সচল করা হয়েছে। বর্তমানে স্বাভাবিক হয়েছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুটের ফেরি সার্ভিস। কিন্ত যে হারে নদী ভাঙছে তাতে এ পুনঃস্থাপন ঘাট কতক্ষণ টিকে থাকে তা বলা মুশকিল। ঘাট এলাকায় তীব্র স্রোতে ও নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ফলে যে কোন সময় ঘাটগুলো আবার নদী ভাঙনের কবলে পড়তে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফেরি সার্ভিস স্বাবিক হলেও যানজট পরিস্থিতির কোন উন্নতি হয়নি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টায় এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত দ্ইু পারে ছোট-বড় মিলে প্রায়  ছয় শতাধিক যানবাহন ফেরি পারাপারের অপক্ষোয় রয়েছে। 

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ২ নম্বর ও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৩ নম্বর ঘাটটি চালু করা হয়েছে। এতে ২নং ঘাট ছয় দিন এবং ৩ নং ঘাট চার দিন বন্ধ ছিল। 

জানা গেছে, গত শনিবার (৩ সেপ্টেম্বর) এবং গত সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর ) ভাঙনের কারণে দৌলতদিয়ার ২ ও ৩ নম্বর ঘাট দু’টি বন্ধ হয়ে যায়। বুধবার রাত দেড়টার দিকে ৩ নম্বর ঘাটটি চলাচলের জন্য স্বাভাবিক করা হলেও দুই ঘন্ট পর তা পুনরায় বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ২ নম্বর ঘাট এবং চার দিন বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ৩ নম্বর ঘাট দু’টি চালু করা হয়েছে। ফারাক্কার সবগুলো গেট খুলে দেয়ার পর থেকে  দৌলতদিয়ার এ প্রান্তে পদ্মায় দেখা দেয় প্রবল স্রোত। সেই সাথে শুরু হয় নদী ভাঙ্গন। আর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে দৌলতদিয়ার সবগুলো ফেরি ঘাট। এতে ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোড মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে স্বাভাবিক ফেরি সার্ভিস চরমভাবে ব্যাহত হয়।  ফলে দুই পারেই সৃষ্টি হয় ভয়াবহ যানজট। দুর্ভোগে পড়েন ফেরি পারপার হতে আসা যাত্রী ও যানবাহন মালিক-শ্রমিকরা। গত ২০ জুলাই থেকে ঘাটের এ অচলাবস্থা অব্যহত রয়েছে। এতে রাজধানী ঢাকার সথে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সহজ যোগাযোগের অন্যতম এ রুটে নেমে আসে চরম বিপর্যয়। এ অচলাবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ দিনেও স্থায়ী কোন সমাধান করতে পারেনি। ফলে উক্ত জেলার মানুষের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরি সার্ভিসের সৃষ্ট উদ্ভুদ্ধ এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। কিন্ত এখানে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে প্রকৃতি। তীব্র স্রোতে ও নদী ভাঙনের কারণে ঘাটগুলোকে বার বার স্থানান্তর করতে হচ্ছে। এতে ফেরি সার্ভিস বিঘœ ঘটে ঘাট এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। স্রোতে ও নদী ভাঙ্গন না কমলে স্বাভাবিক ফেরি সার্ভিস ঠিক রাখা কঠিণ হয়ে পড়বে।  

এদিকে ঈদ উপলক্ষে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ১০টি রো রো, ৫টি ইউটিলিটি ও ৩টি কে-টাইপ ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে। সবগুলো ঘাট ও ফেরি সচল থাকলে এবং পারাপারে কোন অসুবিধা না হলে  ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়ার আশঙ্কা নেই বলে তিনি জানান।

 আরডি/ ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...