Home / টপ নিউজ / নিরাপদে বুদাপেস্টে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী

নিরাপদে বুদাপেস্টে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

হাঙ্গেরি যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গতকাল রবিবার তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণ করে। প্রায় চার ঘণ্টা পর ত্রুটি সারিয়ে ওই ফ্লাইটই আবার প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের উদ্দেশে রওনা দেয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বুদাপেস্টে পৌঁছেন প্রধানমন্ত্রী।

বিমানটির ত্রুটির ঘটনায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, বিমানের জ্বালানি নিয়ে সমস্যার কারণে বাধ্য হয়ে পাইলটরা জরুরি অবতরণ করেন। বিমানের প্রকৌশলীরা দ্রুত ত্রুটি মেরামতের কাজ শেষ করেন। ওই ফ্লাইটে করেই প্রধানমন্ত্রীকে হাঙ্গেরিতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকল্প হিসেবে বিমানের আরেকটি ফ্লাইট তুর্কমেনিস্তানের উদ্দেশে রওনাও দিয়েছিল। তবে সেটি আর কাজে লাগেনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতকাল সকাল ৯টা ১৪ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইট (বোয়িং ৭৭৭ ফ্লাইট-রাঙ্গা প্রভাত) ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এতে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীসহ ৯৯ জন আরোহী ছিলেন। ক্যাপ্টেন ইসমাইল ফ্লাইটটি নিয়ে শাহজালাল বিমানবন্দর ছেড়ে টানা চার ঘণ্টা স্বাভাবিক গতিতে চালানোর পর আফগানিস্তানের আকাশসীমায় পৌঁছান। এরপর তিনি দেখতে পান ককপিটে লালবাতির সংকেত, যার রিডিং ছিল ইঞ্জিনে জ্বালানির প্রবাহ কমে গেছে। এ অবস্থায় উড্ডয়ন ঝুঁকিপূর্ণ। তিনি তাৎক্ষণিক ঘোষণা দেন জরুরি অবতরণের। বাংলাদেশ সময় দুপুর আড়াইটায় তুর্কমেনিস্তানের রাজধানী আশগাবাদে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হন পাইলট। এরপর বিমানটি বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই প্রকৌশলীরা যান্ত্রিক ত্রুটি সারানোর কাজে ব্যস্ত হন।

বাংলাদেশ বিমান সূত্র জানায়, জরুরি অবতরণের ঘোষণা দেওয়ার পর ওই ফ্লাইটের আরোহীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীসহ সবাইকে বিমানবন্দরের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁদের বসিয়ে রেখে চারজন প্রকৗৈশলী বে এরিয়ায় পার্ক করা অবস্থায় ত্রুটি সারান। এ জন্য প্রায় চার ঘণ্টা লাগে।

বিমানের এক কর্মকর্তা বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে যখন একটি ফ্লাইট আকাশে উড্ডয়ন করে এর আগেই সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। কেন ইঞ্জিনে জ্বালানি কমে গিয়েছিল তা অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে। জরুরি অবতরণ করার পর বিমানের এমডিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠকে বসেন। তাৎক্ষণিক তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের পাইলট ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেন। দ্রুত ত্রুটি সারানোর নির্দেশ দেন।

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের পর গতকাল সকাল ১১টার দিকে উড্ডয়নরত আরেকটি ফ্লাইটকে যাত্রাপথ বদলে তুর্কমেনিস্তানে যাওয়ার জন্য রাডারে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই ফ্লাইটটি বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তুর্কমেনিস্তানে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাকিল মেরাজ কালের কণ্ঠকে জানান, ত্রুটি সারানোর পর প্রথম ফ্লাইটটিই বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৭ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে হাঙ্গেরির বুদাপেস্টের উদ্দেশে রওনা দেয়। তিনি আরো বলেন, লন্ডনগামী যে ফ্লাইটকে ঘুরিয়ে তুর্কমেনিস্তানে পাঠানো হয়েছিল, সেটি লন্ডনের উদ্দেশে তুর্কমেনিস্তান ত্যাগ করেছে।

বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসাদ্দিক আহমেদ কালের কণ্ঠকে জানান, বোয়িং ৭৭৭ এয়ারক্রাফটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তুর্কমেনিস্তানে জরুরি অবতরণ করে। এ ঘটনায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী প্রথমবারের মতো হাঙ্গেরি যাচ্ছেন। হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট জানোস এডার’র আমন্ত্রণে শেখ হাসিনা পানি সম্মেলনে-২০১৬-তে অংশ নিচ্ছেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী বুদাপেস্ট পানি সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। তিনি বাংলাদেশ-হাঙ্গেরিয়ান বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক ফোরামের উদ্বোধন এবং প্রেসিডেন্ট জানোস এডার’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা জাতিসংঘ ও বিশ্বব্যাংকের হাই লেভেল প্যানেল অন ওয়াটারের (এইচএলপিডাব্লিও) সদস্য। আজ সোমবার পানি শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি যোগদান করবেন এবং তিনি হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য সম্মানীয় অতিথির সঙ্গে একটি সাসটেইনেবল ওয়াটার সল্যুশন এক্সপো পরিদর্শন করবেন। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শীর্ষ সম্মেলনের একটি উচ্চপৎসয়ের বৈঠকে অংশ নেবেন এবং হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট ড. জানোস এডার’র দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। ওই দিন সকালে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের সঙ্গে কসুদ স্কয়ারে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন শেখ হাসিনা। আশা করা হচ্ছে সেখানে বেশ কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন।

মঙ্গলবার বুদাপেস্টে ‘হিরোস স্কয়ার’ পরিদর্শন করবেন এবং ফুল দিয়ে হাঙ্গেরির জাতীয় বীর ও নিহত সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। বুধবার সকালে দেশের উদ্দেশে তিনি বুদাপেস্ট ত্যাগ করবেন এবং রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা পৌঁছবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, এলজিআরডি ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল।

গতকাল সকাল ৯টায় প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ভিভিআইপি ফ্লাইটটি বুদাপেস্টের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানোর জন্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজসহ মন্ত্রিপরিষদসচিব, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের ডিন এবং উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

আরডি/ এসএমএইচ/ ২৮ নভেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...