Home / জেলা সংবাদ / নীলফামারীতে শিক্ষিকার পিটুনিতে ৯ ছাত্র হাসপাতালে

নীলফামারীতে শিক্ষিকার পিটুনিতে ৯ ছাত্র হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষিকার বেধড়ক পিটুনিতে গুরুতর আহত হয়েছে নীলফামারী কিশোরগঞ্জের চাঁদখানা নুরন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ৯ ছাত্র। গতকাল রোববার বেলা ৩টার এ ঘটনায় আহত ওই শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে অভিভাবকরা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

আহত পঞ্চম শ্রেণির ছাত্ররা হলো—জেহাদ আলী, করিমুল, আদর আলী, দেলোয়ার, সম্রাট, আপন, লালবাবু, রেজোয়ান ও তাসরিফুল। এরা সকলে চাঁদখানা ইউনিয়নের ডোঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান।

ছাত্রদের অভিযোগ, তাদের স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা সাবিহা সিদ্দিকা তার আট মাস বয়সের শিশু ছেলেকে নিয়ে স্কুলে আসে। ঘটনার দিন বেলা তিনটার দিকে শিক্ষিকার শিশুপুত্রকে শিক্ষকদের কমনরুমে ঘুম পাড়িয়ে রাখেন। শিক্ষকদের কমন রুমের পাশে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষ। সেখানে তাদের মধ্যে শোরগোল হচ্ছিল। এতে ওই শিক্ষিকার শিশু সন্তানের ঘুম ভেঙে যায় এবং শিশুটি কান্নাকাটি করতে থাকে। এতে ওই শিক্ষিকা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি নিয়ে এসে পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রদের বেধড়ক পেটাতে থাকে।

এরপর শিক্ষিকা ওই ৯ ছাত্রকে ক্লাস থেকে বের করে দেন। ছাত্ররা আহত অবস্থায় নিজ নিজ বাড়ি ফিরে যায়। ছাত্রদের অভিভাবকরা বিকালে ফসলের মাঠ হতে বাড়ি ফিরে এসে ঘটনা জানতে পেরে আহত ওই ৯ শিক্ষার্থীকে সন্ধ্যায় উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গাওছুল আযম বলেন, দুই ছাত্রের হাত ফেটে গেছে। অন্যান্যদের শরীরের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আহত শিক্ষার্থী কারিমুলের বাবা কৃষক এজামুল হক বলেন, এমন কি অপরাধ করেছে তারা যে এভাবে পিটাতে হবে। তিনিসহ আহত ৭ শিক্ষার্থীর বাবা ওই শিক্ষিকার বিচার দাবি করেছে।

এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোজাহারুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা হলে তিনি বলেন, তিনি স্কুলের কাজে দুপুর দুইটায় উপজেলা শিক্ষা অফিসে আসেন। তাই ঘটনার সময় তিনি স্কুলে ছিলেন না। ঘটনার কথা শুনেছেন। তবে তার এক আত্মীয় অসুস্থ হওয়ায় তিনি এখন রংপুরে অবস্থান করছেন।

অপরদিকে সহকারী শিক্ষিকা সাবিহা সিদ্দিকার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলা হলে তিনি বলেন, তেমন কিছু হয়নি। এলাকার কিছু মানুষজন বিষয়টি বিরাট আকার ধারণের অপচেষ্টা করছে। তবে আমি ছাত্রদের একটু শাসন করেছি মাত্র।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কিশোরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ বলেন, আহত ছাত্রদের অভিভাবকরা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাব্বির//এসএমএইচ // এপ্রিল১০২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...