Home / অর্থ-বাণিজ্য / পর্যটন ব্যবসায়ীরা চান সরকারি সহায়তা

পর্যটন ব্যবসায়ীরা চান সরকারি সহায়তা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সরকারিভাবে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করায় চলতি বছর বেশি পর্যটকের আশায় বাড়তি বিনিয়োগ করেছিলেন পর্যটন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তারা। কিন্তু সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর বিদেশী পর্যটকরা ভ্রমণ বাতিল করতে থাকায় ব্যবসায়িক মন্দায় পড়ে সরকারের কাছে সহায়তা চেয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পক্ষ থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহায়তা চেয়ে ১২টি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করে চার বছরের জন্য সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা ও প্রণোদনা দেয়াসহ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত টোয়াবের প্রস্তাবনায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ ঘোষণা করা হলেও পর্যটকদের আস্থা ফেরাতে না পারলে লক্ষ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না। ট্যুর অপারেটরদের পক্ষ থেকে পর্যটন শিল্পের যেকোনো সংকট মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট কমিটি অথবা ন্যাশনাল ট্যুরিজম টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে ।

খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা ও বিদেশী হত্যার ঘটনা ঘটায় পর্যটকদের বুকিং কমে গেছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় প্রায় ২৫ হাজার বিদেশী পর্যটক বুকিং বাতিল করেছেন। বছরের বাকি সময় এ অবস্থা বিরাজ করলে ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বিদেশী পর্যটক আগমন প্রসঙ্গে রিভারাইন ট্যুরসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুল ইসলাম বুলু জানান, এরই মধ্যে ইতালীয়রা বুকিং বাতিল করেছেন। আবার অন্য দেশের অনেক পর্যটক বুকিং পর্যবেক্ষণ তালিকায় পরিবর্তন করেছেন।

টোয়াবের প্রস্তাবনায় বলা হয়, ক্রমান্বয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে ইন বাউন্ড ট্যুর অপারেটররা ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তিন-চার বছরের জন্য সুদমুক্ত ব্যাংকঋণ সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেসব ইন বাউন্ড ট্যুর অপারেটর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে তালিকা প্রস্তুত করে তাদের আর্থিক প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নিন। ক্ষতিগ্রস্ত ইন বাউন্ড ট্যুর অপারেটরদের দু-তিন বছর আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলায় সরকারি খরচে সৌজন্যমূলকভাবে অংশ নেয়ার সুযোগ দিতে হবে। এছাড়া বিদেশী পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক রাখতে তারকা হোটেলগুলোয় ভাড়া কমানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

পর্যটন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তারা জানান, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালদ্বীপ, সুইজারল্যান্ড এমনকি মদিনায় পর্যন্ত হামলার পরও দেশগুলোর পর্যটন খাত ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা বিশ্বব্যাপী বার্তা পাঠিয়েছে যে, হামলার পর ব্যাপক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিদেশী পর্যটকের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করতে পারছে বলেই হামলার পরও এসব দেশের পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশকেও তা-ই করতে হবে।

এ ব্যাপারে প্রস্তাবনায় বলা হয়, আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকায় দু-তিন দিনব্যাপী ‘শো-কেস বাংলাদেশ’ আয়োজন করে সব স্টেকহোল্ডার ও বিদেশী কাউন্টারপার্টদের বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট বর্ণনা করা হোক। একই সঙ্গে ট্যুরিস্ট জেনারেটিং দেশগুলোয় বাংলাদেশ মিশন ও দূতাবাসগুলোয় নিয়মিত ব্যবসা, পর্যটন ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে প্রতি সপ্তাহে একটি হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তি টুরিস্ট জেনারেটিং দেশগুলোর বোর্ড, সংবাদ মাধ্যম, দূতাবাস ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোয় পাঠাতে হবে। এছাড়া বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে নিউজ লেটার প্রকাশের ব্যবস্থা করা, চার বছরব্যাপী ট্যুরিস্ট জেনারেটিং দেশগুলোয় রোড-শো, বিটুবি মার্কেটিং ও প্রমোশনের ব্যবস্থা করা দরকার।

এতে আরো বলা হয়, দেশীয় খাবার, গান, কারুশিল্পকে উত্সাহিত করতে ট্যুরিস্ট জেনারেটিং দেশগুলো থেকে মিডিয়া, সেলিব্রিটি, পেইন্টার ও শেফদের নিয়ে ফেম ট্রিপের আয়োজন করার উদ্যোগ নিন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মেলায় বাংলাদেশের উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার উদ্যোগ নেয়া হোক।

প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে টোয়াবের পরিচালক (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন) ও ইন বাউন্ড ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান মার্কেট এস-ট্রেন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ সাফাত উদ্দিন আহমেদ তমাল বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় যেসব দেশের নাগরিক মারা গেছেন, সেসব দেশের ট্যুর অপারেটরের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও আনার উদ্যোগ নিতে হবে। বাংলাদেশ সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণাগুলো যেন কেটে যায়, সে ব্যাপারে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, বিদেশী পর্যটকের আগমন বাড়াতে দেশের ভাবমূর্তি ঠিক করার পাশাপাশি এখন থেকেই আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ভারত, নেপাল, ভুটান, শ্রীলংকা, মিয়ানমার, মালদ্বীপ, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে নিয়মিত রোড-শো আয়োজন এবং দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে হালনাগাদ ব্রিফিং ও প্রমোশনের কার্যক্রম শুরু করা প্রয়োজন।

 আরডি/ এসএমএইচ // ১৪ আগস্ট ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...