Home / অর্থ-বাণিজ্য / পাইকারিতে ঊর্ধ্বমুখী ডালের দাম

পাইকারিতে ঊর্ধ্বমুখী ডালের দাম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রামে ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজারে হঠাৎ বাড়তে শুরু করেছে ডালজাতীয় পণ্যের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ডালের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মুগ ডালের দাম। ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের আগে কয়েক মাস ধরে বেশির ভাগ ডালজাতীয় পণ্যের দাম নিম্নমুখী ছিল। এর মধ্যে কয়েক ধরনের ডাল কয়েক বছরের সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হয়েছে। তবে এক সপ্তাহ ধরে ডালের দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং দর বৃদ্ধি এবং দেশের অভ্যন্তরে পরিবহন ব্যয় বাড়ায় এসব পণ্যের দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পাইকারি পর্যায়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) মুগ ডালের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৬০ টাকা। কোরবানির ঈদের আগে প্রতি মণ মুগ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৮০০ টাকায়। বর্তমানে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৩৬০ টাকায়।

মুগ ডালের দাম বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে ডাল ব্যবসায়ী রমজান আলী বলেন, একসময় দেশের মুগ ডালের চাহিদা স্থানীয়ভাবে মেটানো হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন না বাড়ায় ঘাটতি মেটাতে পণ্যটি আমদানি করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বিশেষ করে তানজানিয়া ও আফ্রিকার মোজাম্বিক থেকে মুগ ডাল আমদানি করছেন। সম্প্রতি এসব দেশে মুগ ডালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের বাজারেও পণ্যটির দাম বেড়ে গেছে।

বাজারে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেড়েছে ছোলার দাম। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ ছোলা বিক্রি হয়েছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। কোরবানির ঈদের আগে পণ্যটি ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে এক সপ্তাহে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ ছোলার দাম ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সময়ে প্রতি মণে প্রায় ১৫০ টাকা দাম বেড়েছে সাদা মটরের। গতকাল খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ সাদা মটর বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১২০ টাকায়। কোরবানির আগে পণ্যটি ৯৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

গত এক সপ্তাহে মসুর ডালের দাম মণে ১৮৮ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গত কোরবানির ঈদের আগে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ অস্ট্রেলিয়ান মসুর বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ৪৯২ টাকায়। বর্তমানে একই পণ্য বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬৮০ টাকায়। আমদানিকৃত মসুরের প্রভাবে দেশীয় মসুরের দামও বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রতি মণ দেশী মসুর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৯৮৫ টাকায়। গত কোরবানির ঈদের আগে পণ্যটি ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি সোলায়মান বাদশা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘদিন ডালের দামে মন্দাভাব বিরাজ করায় দেশেও বেশির ভাগ ডালজাতীয় পণ্য কম দামে বিক্রি হয়েছে। এমনকি মসুর ও মটর গত কয়েক বছরের সর্বনিম্ন দামে বিক্রি হয়েছে। এ সময়ে দেশের অনেক ডাল ব্যবসায়ীকে বড় অংকের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশির ভাগ ডালজাতীয় পণ্যের বুকিং দর আবার বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাবে দেশের বাজারেও এসব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। এছাড়া সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলনের পর থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত যানবাহন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পরিবহন সংকটে ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের দামও বাড়ছে।

ডাল ব্যবসায়ী ও হক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আজিজুল হক বলেন, ডালজাতীয় বেশির ভাগ পণ্য আসে রাজশাহী অঞ্চল থেকে। এছাড়া যেসব পণ্য আমদানি হয় তাও ক্র্যাশিং হয় ওই অঞ্চলে। ছাত্রদের আন্দোলনের পর থেকে রাজশাহী থেকে পণ্য পরিবহন খরচ প্রায় দেড় গুণ বেড়েছে। অতিরিক্ত ভাড়ার কারণে পণ্যের বাড়তি মূল্য যোগ হচ্ছে।

সাব্বির// এসএমএইচ//২রা সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ১৮ই ভাদ্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...