Home / অর্থ-বাণিজ্য / পাইকারিতে মসুর ডালের দাম কমতে শুরু করেছে

পাইকারিতে মসুর ডালের দাম কমতে শুরু করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে প্রায় এক মাস ধরে নিম্নমুখী রয়েছে মসুর ডালের দাম। একমাসে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে ৫-৭ টাকা। কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া থেকে মসুর ডালের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়তি সরবরাহে দাম কমতির দিকে বলে জানিয়েছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা। তবে একই সময়ে সরবরাহ সংকটে কেজিতে ৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে দেশী মসুরের দাম।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার ঘুরে দেখা যায়, গতকাল সোমবার ডালের আড়ত ও পাইকারি দোকানগুলোয় মানভেদে দেশী মসুর বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯০-১২৫ টাকায়। এদিকে সাতদিন আগে পাইকারি বাজারে অস্ট্রেলিয়া থেকে আমাদনিকৃত মসুর ডাল বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯৬-১০০ টাকায়। সরবরাহ চাপে গতকাল এর দাম কমে দাঁড়ায় ৯০ টাকায়। বাড়তি আমদানির প্রভাবে এক সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার মসুরের দাম কমেছে কেজিতে ৫-৭ টাকা।

একইভাবে কয়েক দিনে কানাডা থেকে আমদানিকৃত মসুর ডালের দাম কমেছে কেজিতে ৫ টাকা। গতকাল খাতুনগঞ্জে কানাডার মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯০-৯২ টাকায়। গত সপ্তাহে যা লেনদেন হয়েছিল ৯২-৯৫ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ডাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, কয়েক মাস টানা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে আমদানিকৃত মসুর ডালের দাম একদফা কমে যায়। এর পর গত সপ্তাহে আবারো কিছুটা কমেছে পণ্যটির দর। ওই ব্যবসায়ী আরো বলেন, বর্ষায় ফসলের ক্ষতি হওয়ায় বাজারে ডালজাতীয় পণ্যের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই বর্ষার শুরু থেকে দীর্ঘদিন মসুরের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু একমাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম কমতে শুরু করায় ব্যবসায়ীরা আমদানি বাড়িয়ে দেন। এতে দেশের বাজারে আমদানিকৃত মসুরের দাম কমতে থাকে।

এদিকে বাড়তি সরবরাহে একমাস ধরে আমদানিকৃত মসুরের দাম কমতির দিকে থাকলেও প্রভাব পড়েনি দেশী পণ্যটির বাজারে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় উল্টো পণ্যটির দাম এক সপ্তাহে আরো একদফা বেড়েছে। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে পাইকারিতে মানভেদে দেশী মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১২৮-১৩০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা বিক্রি হয় ১২২-১২৫ টাকার মধ্যে। সে হিসাবে এক সপ্তাহে দেশী মসুর ডালের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ৬ টাকা। অন্যদিকে একমাস ধরে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় তেমন বিক্রি নেই নেপালি মসুর ডালের। এ কারণে কয়েক দিনে নেপালি মসুর ডালের দামও কেজিতে ২-৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল পাইকারিতে নেপালি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১২৫-১২৮ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১২২-১২৩ টাকায় লেনদেন হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম ডাল মিল মালিক সমিতির সভাপতি আহমেদ রশিদ আমু বলেন, প্রতি বছর ডিসেম্বর-জানুয়ারি থেকে এপ্রিল-মে পর্যন্ত বাজারে দেশী মসুরের সরবরাহ বেশি থাকে। এ সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মোকাম থেকে প্রচুর দেশী মসুর বাজারে আসে। বাড়তি সরবরাহের কারণে ওই সময় পণ্যটির দামও থাকে নিম্নমুখী। এর পর জুন-জুলাই থেকে দেশী মসুরের দাম বাড়তে থাকে। ওই ব্যবসায়ী নেতা জানান, মান ভালো হওয়ায় দেশী মসুরের আলাদা গ্রাহক রয়েছে। ওই চাহিদা আমদানিকৃত মসুর দিয়ে মেটানো সম্ভব নয়। তাই আমদানিকৃত মসুর ডালের দাম কমলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় দেশী পণ্যটির দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী।

 

 আরডি/ ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...