Home / জেলা সংবাদ / পাখির মতো গুলি করা হচ্ছিল: ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ

পাখির মতো গুলি করা হচ্ছিল: ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ

চট্টগ্রাম, ২৬ জুন (অনলাইনবার্তা): আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা লালদীঘির পাড়ের সমাবেশের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে ট্রাকে করে রওনা দিয়েছেন লক্ষ লক্ষ জনতার স্রোত আমিও ছিলাম সেই ট্রাকে কিছুদূর এগোনোর পর আমি সুজনের (খোরশেদুল আলম সুজন) মোটরসাইকেলে উঠে ট্রাকের আগে আগে যাচ্ছিলাম কোতোয়ালি মোড় আসার পর পাখির মতো গুলি করা হচ্ছিল

রোববার (২৬ জুনসকালে এভাবেই ২৮ বছরে আগের গণহত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিলেন গৃহায়ণ গণপূর্ত মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন

তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালের ঘটনা। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় সরকারি মুসলিম হাইস্কুল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আমরা লালদীঘিতে সমাবেশ আহ্বান করেছিলাম

ন্যায় বিচার চেয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, সেদিন আমি নেত্রীর সাহস দেখেছিলাম। মাইকে তিনি বার বার বলছিলেন, মোশাররফ ভাইয়ের ওপর হাত তুলবেন না। হাত তুলবেন না। এরপর আইনজীবীরা নেত্রীকে স্কট করে আদালত ভবনে নিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। ওই দিন ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। পুলিশ হিন্দু, বৌদ্ধ, মুসলিম নির্বিশেষে সবাইকে পুড়িয়ে ফেলেছিল।

বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন  বলেন, গণহত্যা মামলায় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন ৩৭ নম্বর সাক্ষী। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তার জেরাও সম্পন্ন হয়েছে। আদালত ৩১ জুলাই পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নগরীর লালদিঘি ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন। আহত হন কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ

আদালত সূত্র জানায়, এরশাদ সরকারের পতন হলে ১৯৯২ সালের মার্চ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে প্রয়াত আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদি হয়ে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলায় হত্যাকান্ডের সময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়।  মামলার আসামিরা সরকারি কর্মচারি হওয়ায় এবং মামলা চালানোর জন্য সরকারের অনুমতি না মেলায় আদালত মামলাটি ওই সময় খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে বাদিপক্ষ উচ্চ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করলে মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডির ওপর দায়িত্ব পড়ে

মূলত ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।  আদালতের নির্দেশে সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে মীর্জা রকিবুল হুদাসহ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...