Home / অর্থ-বাণিজ্য / বন্যায় কাঁচাবাজারে আগুন

বন্যায় কাঁচাবাজারে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা পাল্টে দিয়েছে রাজধানীর সবজি বাজারের চিত্র। বন্যার কারণে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরেই সবজি বাজার চড়া। ৪০ টাকা কেজির নীচে কোনো সবজি নেই বললেই চলে। কাঁচামরিচের ঝাঁঝও যেন দিনদিন বাড়ছে। দাম বাড়ার এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে ডিম। তবে চিনির দাম কেজিতে ২ টাকা কমেছে।

রাজধানীর কাওরানবাজার, নিউমার্কেট ও শান্তিনগরবাজারে খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দামের এ চিত্র পাওয়া য়ায়।

সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বন্যার কারণে অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। চাহিদার তুলনায় সবজির সরবরাহ কম। এজন্য সবজির দাম বেশী। এক প্রশ্নের জবাবে তারা জানান, উত্তরাঞ্চলের কোথাও কোথাও বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সেসব ক্ষেতে সবজি ফলাতে সময় লাগবে। তবে পানি কমার পাশাপাশি যদি রোদ ওঠে তাহলে বেশী সময় লাগার কথা নয়।

শুক্রবার বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে বরবটি, বেগুন, করল্লা, ঝিঙা ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁরস, কচুরমুখী ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, কচুর লতি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, পেঁপে ২০ থেকে ২৫ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, শিম ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি কাঁচ‍া কলা ২৫ থেকে ৩০ টাকা ও লেবু ২০ টাকা, প্রতিটি ফুলকপি ও বাঁধাকপি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচামরিচের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় আরো বেড়েছে। প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকায়। এছাড়া দেশী পেঁয়াজ ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা, আমিদানিকৃত পেঁয়াজ ২৫ থেকে ৩০ টাকা, দেশী রসুন মানভেদে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আমদানিকৃত রসুন ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা ও আদা মানভেদে ৬০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

কাওরানবাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী আমজাদ মোল্লা বলেন, উত্তরাঞ্চলে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে এখনো অনেক সবজি ক্ষেত পানির নীচে। এসব ক্ষেতে সবজি ফলাতে সময় লাগবে। তবে পানি কমার পাশাপাশি যদি রোদ ওঠে তাহলে বেশী সময় লাগার কথা নয়। তিনি বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেই দাম কমে আসবে।

এদিকে গত সপ্তাহে সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও সপ্তাহ শেষে তা স্থিতিশীল রয়েছে। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন ৪৪০ থেকে ৪৬৫ টাকা ও ১ লিটারের বোতল ৯২ থেকে ৯৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার  ৮৫ থেকে ৯০ টাকা ও পামসুপার ৭০ থেকে ৭২ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভালো মানের প্রতি কেজি দেশী মসুর ডাল ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা, আমদানিকৃত মাঝারি দানা মসুর ডাল ১১০ থেকে ১২০ টাকা, মুগ ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অবশেষে চিনির দাম কিছুটা কমেছে। প্রতি কেজিতে ২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭২ টাকায়। তবে মুরগীর দাম কিছুটা বাড়তি। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগী ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা, লেয়ার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।  এছাড়া গরুর মাংস ৪০০ থেকে ৪২০ টাকা ও খাসির মাংস ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের মধ্যে তেলাপিয়া ১৬০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০ থেকে ২৩০ টাকা, রুই-কাতল আকারভেদে ২২০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের কৈ ২২০ থেকে ৩০০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশী মাগুর ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা ও টেংরা ৫০০ থেকে ৭৫০ টাকা, চিংড়ি আকারভেদে সাড়ে ৫’শ থেকে ১ হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

 আরডি/ এসএমএইচ // ৬ আগস্ট ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...