Home / স্বাস্থ্য / বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু উপায়

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কিছু উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক :
উত্তরাঞ্চল ছাপিয়ে বন্যা এখন মধ্যাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত করেছে। দুর্ভোগে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। প্লাবিত মানুষের কষ্ট স্পর্শ করছে পুরো দেশের জনগোষ্ঠিকে। ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বন্যার কারণে খাদ্যসহ নানা সংকটের পাশাপাশি দেখা দেয় সংক্রামক অনেক রোগ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে ব্যাপক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, চর্মরোগ, চোখের অসুখ প্রভৃতি সমস্যা মহামারী হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় তাই কিছু উপায় জেনে রাখা ভালো।

বন্যাকালীন সময়ে যা যা করা উচিত-

১. বন্যায় যদি ঘরবাড়ি ডুবে যায়, নিকটস্থ কোন উঁচু স্থানে বা বাঁধে অথবা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করুন।

২. নিজ বসতবাড়িতে অবস্থান করা সম্ভব না হলে বাড়ির কাছাকাছি কোথাও অবস্থান করুন।

৩. প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ঘরের চালের নিচে পাটাতনে রাখার ব্যাবস্থা করুন।

৪. কোন মতেই দালাল বা দুষ্টু লোকের পরামর্শ শুনে নিজ গ্রাম ছেড়ে পরিবার পরিজনসহ শহরে যাবেন না।

৫. নিজ গ্রামে থাকা কোনমতেই সম্ভব না হলে, পার্শ্ববর্তী গ্রামসমূহে, যা বন্যা কবলিত নয়, আশ্রয় গ্রহণ করুন বা সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক স্থাপিত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় গ্রহণ করুন।

৬. টিউবওয়েলের পানি পান করুন। টিউবওয়েলের পানি পাওয়া না গেলে পানি ফুটিয়ে পান করুন অথবা পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা ফিটকিরি ব্যাবহার করুন।

৭. আপনার ঘরে রক্ষিত কার্বলিক এসিড এর বোতলের ছিপি খুলে রাখুন। এতে সাপ আপনার ঘরে ঢুকবে না।

৮. সরকারি ও বেসরকারি ত্রাণ বণ্টনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করুন।

৯. ত্রাণসামগ্রী যা পাওয়া যায় তা দিয়ে অভাব মিটানোর চেষ্টা করুন।

১০. বন্যার পরেই কিভাবে বন্যাকবলিত এলাকায় ফসল ফলানো যায়, তার চিন্তাভাবনা করুন। এ বিষয়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে করতে পারেন।

১১. বন্যাকবলিত এলাকার দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির সাথে যোগাযোগ করে প্রতিটি বন্যা কবলিত গ্রামের নিরাপত্তা রক্ষার্থে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী গঠন করুন এবং সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।

১২. ফসলের বীজ নিরাপদ স্থানে সংরক্ষন করুন।

১৩. প্লাবিত পুকুর বা দিঘিতে ডালপালা ফেলে মাছ ধরে রাখার ব্যাবস্থা করুন।

বন্যার সময় নারীরা যে সমস্ত কাজ করতে পারেন-

১. দুর্যোগের জন্য আগে থেকেই অর্থ সঞ্চয় করুন।

২. বন্যার আগেই রান্নাবান্নার জন্য আলগা চুলা ও জ্বালানি জোগাড় করে রাখুন।

৩. ছেলে মেয়েদের সাঁতার শেখান।

৪. অতিরিক্ত বন্যায় যাতে বাচ্চারা কষ্ট না পায় সেইজন্য আগে থেকেই নিরাপত্তা আশ্রয় হিসেবে আত্নীয় বা প্রতিবেশীর বাড়ি আশ্রয় কেন্দ্র হিসাবে চিহ্নিত করে রাখুন।

৫. গর্ভবতী নারীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় ঠিক করে রাখুন এবং এলাকার ধাই ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন। বাড়িতে নিরাপদে সন্তান প্রসবের উপকরণ জোগাড় করে রাখুন।

৬. বন্যার সময়ে সম্ভাব্য মেয়েলি রোগ- ব্যধি প্রতিকারের জন্য বন্যার আগে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক, ডাক্তার, সরকারি, বেসকারি সংস্থার স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ নিন এবং সেই মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

৭. চলাফেরার জন্য ছোট ডিঙ্গি নৌকা বা কলাগাছের ভেলা তৈরির জন্য বাড়িতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কলাগাছ লাগান।

৮. নারীদের বন্যাজনিত সমস্যার সমাধানে পুরুষরা যাতে এগিয়ে আসে সে ব্যাপারে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করুন৷

এ সময় করণীয় কিছু কাজ-

১) যেহেতু বন্যায় পানির উৎস সংক্রমিত হয়ে যায় তাই পানি ভালোমতো না ফুটিয়ে পান করা নিরাপদ নয়। টিউবওয়েলের পানিও ফুটিয়ে পান করতে হবে। পানি ফুটানোর ব্যবস্থা না থাকলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট (হ্যালোট্যাব) ব্যবহার করতে হবে।

২) ডায়রিয়া দেখা দিলেই পরিমাণমতো খাবার স্যালাইন খেতে হবে। যেসব স্বাস্থ্যকর্মী বন্যার্তদের সাহায্যে নিয়োজিত রয়েছেন তাদের কাছে পর্যাপ্ত স্যালাইন থাকতে হবে। যদি পাতলা পায়খানা ও বমির মাত্রা বেড়ে যায় সে ক্ষেত্রে শিরাপথে স্যালাইন দিতে হবে।

৩) মল ত্যাগের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেখানে সেখানে মল ত্যাগ করার ফলে কৃমির সংক্রমণ বেড়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট স্থানে মল ত্যাগ করতে হবে এবং মল ত্যাগের সাবান বা ছাই দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। মল ত্যাগের সময় কখনো খালি পায়ে থাকা চলবে না। কেননা বক্রকৃমির জীবাণু সর্বদা খালি পায়ের পাতার ভেতর দিয়ে শরীরে সংক্রমিত হয়। এ সময় বাসার সবাইকে এক ডোজ কৃমির ওষুধ খেতে হবে। তবে দু’বছর বয়সের নিচে কাউকে কৃমির ওষুধ খাওয়ানো নিরাপদ নয়।

৪) খাবার গ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। খাবার যাতে পচে না যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৫) বন্যায় চর্মরোগ হতে পারে। যতটা সম্ভব শরীর শুকনো রাখতে হবে। একই গামছা বা তোয়ালে অনেকজন ব্যবহার করবেন না।

৬) চোখের প্রদাহ হলে নিজেকে অন্যদের কাছ থেকে গুটিয়ে রাখুন। কেননা সমস্যাটি ভাইরাসজনিত হলে তা অন্যদের মাঝেও সংক্রমিত হবে। ক্লোরাম ফেনিকল আই ড্রপ হাতের কাছে রাখতে হবে। নিকটস্থ স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে তা ব্যবহার করতে হবে। চোখে অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

৭) বন্যায় মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। ব্যাপক মশা নিধনের ব্যবস্থা না করলে ম্যালেরিয়া হতে পারে।

বন্যা আমাদের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের একটি অংশ। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে মোকাবেলা করতে হলে সম্মিলিত প্রয়াস চালাতে হবে। বন্যাকে নিয়তির লিখন হিসেবে চিহ্নিত না করে বন্যায় যে স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিতে পারে তা নিরসন করতে কার্পণ্য করা উচিত নয়।
কাওছার আক্তার মুক্তা // এসএমএইচ// ১৭ আগস্ট ২০১৭

x

Check Also

করোনা ভাইরাস:ফিরতে চান ৩ শতাধিক বাংলাদেশি

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে তিনশ’র বেশি বাংলাদেশি চীনের উহান থেকে ঢাকায় ফেরত ...