Home / অর্থ-বাণিজ্য / বাংলাদেশ-কুয়েত সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন

বাংলাদেশ-কুয়েত সহযোগিতার নতুন দিক উন্মোচন

চট্টগ্রাম, ৪ মে (অনলাইনবার্তা): বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হলো, আসছে দিনগুলোতে তা আরও বিস্তৃত হবে। দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে সে কথাই বললেন, ঢাকায় সফররত কুয়েতি প্রধানমন্ত্রী শেখ জাবের আল-মুবারক আল-হামাদ আল-সাবাহ। তার কথায় কথা মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেন, মুসলিম উম্মাহর জন্য দুই দেশ এক সাথে কাজ করতে চায়।

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করছিলেন পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম। এসময় পররাষ্ট্রসচিব বারবারই একটি বিষয়ে জোর দিচ্ছিলেন। বলছিলেন বন্ধুপ্রতীম দুটি দেশের মধ্যে এই দ্বি-পাক্ষিক আলোচনা হৃদ্যতাপূর্ণ ছিলো।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এই বৈঠকে ছিলেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল,  প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।

আর কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করেন দেশটির প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহ, অর্থ ও তেলমন্ত্রী আনাস খালেদ আল-সাবাহ, শিক্ষামন্ত্রী ড. বদর হামাদ আল-ইসা, উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালেদ সুলেইমান আল-জারাল্লাহ, কুয়েতের আরব অর্থনৈতিক উন্নয়ন ফান্ডের (কেফায়েদ) মহাপরিচালক আবদুলওয়াহাব আল-বাদেরসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

পররাষ্ট্রসচিব জানালেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে ক্রমেই একটি মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার পথে বাংলাদেশের এগিয়ে চলার প্রশংসা করেন কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মোটা দাগে ছয়/সাতটি বিষয় আসে এই আলোচনায়। যার মধ্যে অন্যতম হিসেবে গুরুত্ব পায় মুসলিম উম্মার শান্তির পক্ষে দুই দেশের সহ অবস্থান। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দুই নেতাই তাদের স্ব-স্ব অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন এবং সন্ত্রাস নির্মূলে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় আসে বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রসঙ্গ। প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশের কথা তুলে ধরেন। আর কুয়েতি প্রধানমন্ত্রী তাদের এ বিষয়ে আগ্রহের কথা স্পষ্ট করেন। তথ্য প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আরো বেশি বেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা এতে উঠে আসে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতির দিকটি আলোচনায় আসে। এবং এই ঘাটতি কমিয়ে আনতে একটি যৌথ সভার প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। যা দ্রুততার সঙ্গে আয়োজনের উদ্যোগ নিতে দুই পক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, আলোচনায় আসে কুয়েতে বর্তমানে কর্মরত দুই লাখ বাংলাদেশির কথা। এই সংখ্যা আরও কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে কথা হয়। এবং এ নিয়েও সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে জয়েন্ট ওয়ার্কিং কমিটি তৈরি করে দ্রুত আলোচনায় বসার উদ্যোগের ব্যাপারে দুই নেতা সম্মত হন।

সামরিকখাতে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ সহযোগিতার সম্পর্ক রয়েছে। এই সহযোগিতা আরও দৃঢ় আরও বিস্তৃত করার বিষয়েও সম্মত হন তারা। এছাড়াও কারিগরি ও অর্থনৈতিক খাতেও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর কথা বলেন দুই নেতা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কুয়েতের আমীরকে বাংলাদেশ সফরে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর শেখ হাসিনাকে সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন কুয়েতের প্রধানমন্ত্রী।

কুয়েতের প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সহযোগিতার দ্বার উন্মোচিত হলো বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...