Home / টপ নিউজ / বিচার বিভাগীয় তদন্তের খবরে খুশি সাঁওতালরা

বিচার বিভাগীয় তদন্তের খবরে খুশি সাঁওতালরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

‘ঘটনার পর থেকে আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করে আসছি। শেষ পর্যন্ত বিচারককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ায় আমরা সবাই খুশি হয়েছি। কিন্তু কাঁটাতারের পিলার ভাঙার পর আমাদের লোকজনের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রংপুর চিনিকল কর্তৃপক্ষ আবারও সাঁওতালদের হয়রানির চেষ্টা করছে।’ সাঁওতাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশের পর এমন অনুভূতি প্রকাশ করেন ফিলিমিন বাস্ক। ‍যিনি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার সাহেবগঞ্জ-বাগদা ফার্ম ইক্ষু খামার জমি উদ্ধার কমিটির সহ-সভাপতি।

সাঁওতাল পল্লীতে আগুন লাগানোর ঘটনায় পুলিশের সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা তদন্তের জন্য বুধবার গাইবান্ধার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

হাইকোর্টের নির্দেশের প্রতিক্রিয়ায় ফিলিমন বাস্ক আরো বলেন, বিচারককে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার খবর শুনে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মাদারপুর ও জয়পুর গ্রামের সাঁওতালদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তারা আশা করছে, সুষ্ঠু তদন্ত হবে।

বুধবার সন্ধ্যায় মাদারপুর ও জয়পুরপাড়ায় সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, সাঁওতালরা হাইকোর্টের নির্দেশের কথা শুনেছেন।

মাদারপুর গ্রামের মিনতি কিসকু বলেন, বিচারক তদন্ত করবেন শুনে খুশি হয়েছি। একই গ্রামের রিনা মার্ডী বলেন, আমাদের নেতা মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন এখন সুষ্ঠুভাবে তদন্ত হবে, আমরা বিচার পাব।

জয়পুরপাড়ার বাসিন্দা ভিরজিলিউস হেমরম জানান, এ খবর শুনে আমাদের সব লোকজন খুশি হয়েছে। তবে রংপুর চিনিকলের লোকজন পিলার ভেঙ্গে আমাদের দোষ দিচ্ছে। আমরা আতঙ্কে আছি।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাঁওতালদের বাড়িঘরে পুলিশের আগুন লাগানোর ভিডিও দেখানোর পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। সাঁওতালদের ঘরে আগুন  দেওয়ার ঘটনায় কোন পুলিশ সদস্য জড়িত এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত  সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, ৬ নভেম্বর পুলিশের একটি দল গুলি ছুড়তে ছুড়তে সাঁওতালদের ঘরের দিকে এগিয়ে যায়। কিন্তু সব পুলিশের মাথায় হেলমেট ও গায়ে জ্যাকেট থাকায় কাউকে চেনা যায়নি। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে এক ব্যক্তি ডান হাত তুলে সাঁওতালদের ঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন।

মাদারপুর গ্রামের সাঁওতাল সর্দার ভবেন মার্ডী জানান, ওই ভিডিওচিত্রে স্পষ্ট দেখা যায়, পুলিশ ও সাদা পোষাকধারী লোকজন আমাদের ঘরে আগুন দিয়েছে। ঘটনাটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। পুলিশকেই ভিডিওচিত্র দেখে বের করতে হবে, সেদিন কারা দায়িত্বে ছিল।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৬ নভেম্বর সাঁওতালদের উচ্ছেদ অভিযানে গাইবান্ধা জেলা পুলিশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর জেলার পুলিশ অংশ নেয়।

গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার পুলিশের আগুন লাগিয়ে দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভিডিওচিত্রের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, গত মঙ্গলবার ভোররাতে বাণিজ্যিক খামারের কাঁটাতারের বেড়ার ২৬টি পিলার ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।এতে ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। ওই দিন সকালে স্থানীয় লোকজন সাহেবগঞ্জ বাণিজ্যিক খামার সংলগ্ন জয়পুর গ্রামের দক্ষিণ অংশে কিছু পিলার ভাংচুর অবস্থায় জমিতে পড়ে থাকতে দেখে চিনিকল কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়।

সাহেবগঞ্জ খামারের উপব্যবস্থাপক হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করে গোবিন্দগঞ্জ থানায় মামলা করা হয়েছে।

গত ৬ নভেম্বর গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রংপুর চিনিকলের জমিতে আখ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে সাঁওতালদের সংঘর্ষে পুলিশসহ উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তীরবিদ্ধ নয়জন ও গুলিবিদ্ধ হন চারজন। এই সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন সাঁওতাল নিহত হন।

আরডি/ এসএমএইচ/ ১৫ ডিসেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...