Home / টপ নিউজ / বিদ্যালয়ে ক্রীড়ানুষ্ঠানের দাবী করায় ৪ ছাত্রকে বহিস্কার : দুই ছাত্রের বিষপান

বিদ্যালয়ে ক্রীড়ানুষ্ঠানের দাবী করায় ৪ ছাত্রকে বহিস্কার : দুই ছাত্রের বিষপান

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দাবী তোলায় দশম শ্রেণীর ৪ শিক্ষার্থীকে বহিস্কার করেন ওই প্রতিষ্ঠান প্রধান। এ ঘটনার পর দুই শিক্ষার্থী কিটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি সাংবাদিক বা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবেনা বলে চাপ প্রয়োগ করেন প্রধান শিক্ষক।
এ ঘটনাটি জানাজানি হলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবীতে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন।
জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বঙ্গবন্ধু স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ৩ বছর ক্রীড়া অনুষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি ১০ম শ্রেনীর বেশ কয়েজন শিক্ষার্থী স্কুলের প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমানের কাছে মৌখিক ভাবে ক্রীড়ানুষ্ঠানের দাবী তোলে। প্রধান শিক্ষত তাদের দাবীকে উপেক্ষা করলে তারা অন্যান্য শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মতামত নেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষকের কক্ষের সামনে জড় করে। সকল শিক্ষার্থীরাও একই মত পোষণ করে।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে ১০ম শ্রেনীর প্রথম স্থান অধিকারী শিক্ষার্থী শহিদুল মুন্সি, রিপন কাজী, শারাফাত শেখ ও রিপন মুন্সী এই চার জনের বিরুদ্ধে অসৎ আচরনের অভিযোগ এনে বহিস্কার করেন।
ওই বহিস্কার আদেশ পেয়ে কিংকর্তব্য বিমুড় হয়ে শহিদুল ও রিপন কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়। পরে তাদেরকে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী রিপন কাজী জানায়, দীর্ঘ তিন বছর আমাদের স্কুলে কোন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় না। এ বছরের শুরু থেকে আমরা প্রধান শিক্ষকের কাছে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার দাবী তুলে আসছি। তিনি জানুয়ারীর শেষে, তারপর ফেব্রুয়ারীতে, মার্চে এমন করে সময় ক্ষেপন করে আসছিলেন। তিনি কেন আমাদেরকে বহিস্কার করলেন বুঝতে পারছি না। বহিস্কারের পর আমরা স্যারের পা ধরে ক্ষমা চেয়েও ক্ষমা পাইনি।
এ ব্যাপারে শিক্ষার্থী শহিদুল মুন্সি জানায়, আমাদের যদি অপরাধ হয় তাহলে তিনি আমাদের অভিভাবকদেরকে ডেকে অন্য ভাবে শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন। আমরা অনেক আকুতি-মিনতি করার পরও তিনি আমাদের টিসি দিয়েছেন। ২০১৮ সালে আমরা এসএসসি পরীক্ষা দেব। এ সময় আমাদের বহিস্কার করা মানে আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া।
এ ব্যাপারে অভিভাবক নূরজাহান বলেন, এ স্কুলে বিজ্ঞান বিভাগ নেই। তাই আমার ছেলেকে অন্য স্কুলে পড়াতে চেয়েছি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক তখন আমার ছেলেকে ছাড়পত্র দেয়নি। বাধ্য হয়েই ছেলেকে এ স্কুলে ভর্তি করে রাখা হয়েছে। আমার ছেলের বিষ খাওয়ার খবর পেয়েও প্রধান শিক্ষক তাকে দেখতে জাননি। এমনকি একটু খোজও নেননি। উল্টো তিনি বলেছেন, ভাল হয়েছে মরে গেলে মিলাদ খেয়ে আসব। এছাড়াও বিষ খাওয়ার ঘটনা যাতে সাংবাদিক বা অন্য কাউকে না বলি তার জন্য চাপ প্রয়োগ করেছেন তিনি। কাউকে না বল্লে ওই শিক্ষার্থীদের বহিস্কারাদেশ তুলে নেবেন বলে জানান। কিন্তু এখনও পর্যন্ত চার শিক্ষার্থীর বহিস্কারাদেশ বহাল রয়েছে। আমি ওই প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
এ ব্যাপারে অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মজিবর রহমান বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে এলাকার পরিস্থিতি তেমন ভাল নেই। তাই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই চার ছাত্র ক্লাস চলাকালে অন্যান্য শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের কক্ষ থেকে বের করে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে। তারা বিদ্যালকে অশান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছিল। তাই তাদেরকে বহিস্কার করা হয়েছে।
মুক্তা // এসএমএইচ // মার্চ ১৪, ২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...