Home / খেলা / ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সিরিজ হারল বাংলাদেশ
NELSON, NEW ZEALAND - DECEMBER 29: Imrul Kayes of Bangladesh bats as wicketkeeper Luke Ronchi of New Zealand looks on during the second One Day International match between New Zealand and New Zealand and Bangladesh at Saxton Field on December 29, 2016 in Nelson, New Zealand. (Photo by Martin Hunter/Getty Images)

ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সিরিজ হারল বাংলাদেশ

ক্রীড়া ডেস্ক :

নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম জয়ের স্বাদ নিতে মঞ্চ সাজিয়ে দিয়েছিলেন বোলাররা। সিরিজে টিকে থাকতে বাঁচা-মরার ম্যাচে তাতে রোমাঞ্চ ছড়ানোর সুযোগ ছিল ব্যাটসম্যানদের। কিন্তু যাদের নায়ক হয়ে ওঠার কথা সেই সাকিব-মাহমুদউল্লাহরা উইকেট ছুঁড়ে আসার মিছিলে যোগ দিলে পরাজয়ের বেদনাতেই মাঠ ছাড়তে হলো বাংলাদেশকে। কিউইদের দেওয়া ২৫২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বৃহস্পতিবার শুরুতে আশা জাগালেও ৬৭ রানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে টাইগাররা। এতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ওয়ানডের সিরিজ হারল মাশরাফি বিন মুর্তজার দল।

স্যাক্সটন ওভালে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারের শেষ বলে গুটিয়ে যাওয়ার সময় ২৫১ রান তুলেছিল নিউজিল্যান্ড। নেইল ব্রুমের অপরাজিত ১০৯ ও লুক রঞ্চির ৩৫ রানে এই সংগ্রহ দাঁড় করার স্বাগতিকরা। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইমরুল কায়েস ৫৯ ও সাব্বির রহমানের ৩৮ রানের পর অলআউট হওয়ার আগে ৪২.৪ ওভারে ১৮৪ রানের বেশি এগোতে পারেনি বাংলাদেশ।

একাদশে ছিলেন না দলের নিয়মিত কয়েকজন সদস্য। বোলিংয়ের অন্যতম সেরা অস্ত্র মুস্তাফিজুর রহমানও বিশ্রামে। কিন্তু নেলসনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বোলিংয়ে নেমে আত্মবিশ্বাসের কোনো ঘাটতি দেখা যায়নি বাংলাদেশের। নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে স্বাগতিকদের আড়াইশর ঘরেই আটকে রাখে সফরকারীরা। পরে ইমরুল কায়েসের সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সাব্বির রহমান। রান আউটে তার ফেরার পরই বিপর্যয়ের শুরু। যার শেষ হয় ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলের মধ্য দিয়ে।

অথচ টিম সাউদির করা ইনিংসের ৮ম ওভারে যখন ডাউন দ্য উইকেটে এসে তুলে মারতে যেয়ে শর্ট কাভারে ল্যাথামকে ক্যাচ দিলেন তামিম, তখনও মনে হয়নি এমন দুঃস্বপ্ন অপেক্ষা করছে। ফেরার আগে ৩ চারে ১৬ রান এসেছে উদ্বোধনী বাঁহাতির ব্যাট থেকে।

সেখান থেকে ইমরুলকে নিয়ে ৭৫ রানের প্রতিরোধ গড়েছিলেন সাব্বির রহমান। ম্যাচ যখন ধীরে ধীরে টাইগারদের দিকে ঝুলে আসছে, তখনই ছন্দপতন। ভুল বোঝাবুঝিতে ৩৮ রানেই থামতে হয় সাব্বিরকে। ২ চার ও ৩ ছয়ে ৪৯ বলে ঝলমলে একটি ইনিংস সাজিয়েছেন তিনি।

তখনও ভালোভাবেই ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ মিডল অর্ডারের ভরসা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলকে চাপে ফেলে ব্যক্তিগত ১ রানে সাব্বিরকে অনুসরণ করেছেন তিনি। ফার্গুসনের ছোঁড়া গোলায় স্ট্যাম্প খুইয়েছেন। সিরিজের প্রথম ম্যাচে ক্রাইস্টচার্চে রানের খাতাই খুলতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ।

ইমরুলের সঙ্গে এরপর যোগ দেন সাকিব আল হাসান। প্রথম ম্যাচে তার দুর্দান্ত ফিফটির কথাই মনে উঁকি দিচ্ছিল তখন। কিন্তু এদিন আশার ভেলা ভাসাতে পারেননি বিশ্বের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। বাজে শট খেলে পার্টটাইমার উইলিয়ামসনের বলে ৭ রানে ব্রুমকে ক্যাচ দিয়ে বিপদ বাড়িয়েছেন তিনি।

সেই বিপদ আরো গাড় করেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। গত ম্যাচে দারুণ ফিফটি করা এই তরুণ ৩ রানে নিশামের তালুতে বন্দী হয়েছেন হঠাত ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা উইলিয়ামসনের বলেই।

অন্যপ্রান্তে তখনো অবিচল ইমরুল কায়েস। পরের ওভারে তিনিও ধৈর্য হারালে শেষ আশাটুকুও ফিকে হয়ে যায় বাংলাদেশের। সাউদির বলে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৬ চারে ৮৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি উদ্বোধনী।

এরপর ২ চার ১ ছয়ে অধিনায়ক মাশরাফির ২০, অভিষিক্ত নুরুলের ১টি করে চার-ছয়ে ২৪ রান কেবল পরাজয়ের ব্যবধানই কমিয়েছে।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২২ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সেরা কেন উইলিয়ামসন। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন টিম সাউদি ও ট্রেন্ট বোল্ট। একটি করে গেছে লোকি ফার্গুসন ও মিচেল স্যান্টনারের ঝুলিতে।

এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মাশরাফির তোপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। প্রথম ওভারেই উইকেট তুলে নিয়েছেন টাইগার অধিনায়ক। পরে অন্য বোলাররাও তাকে অনুসরণ করেছেন। কিন্তু ৬ বছর পর দলে ফেরা নেইল ব্রুম একপ্রান্তে অবিচল থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন।

কিউইরা যখন দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে চাপে, তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন ব্রুম। প্রথমে জেমস নিশামের সঙ্গে ৫১, পরে রঞ্চির সঙ্গে ৬৪ রানের প্রতিরোধ গড়েন ব্রুম। শেষ দিকে টেলএন্ডারদের নিয়ে ছোট-মাঝারি কয়েকটি জুটি গড়ে দলীয় সংগ্রহটা আড়াইশ পার করে নেন এই কিউই।

বোলিংয়ে আলো ছড়ানোর দিনে ব্রুমকে অবশ্য আউট করা সম্ভব হয়নি টাইগারদের। শেষ পর্যন্ত ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৮ চার ও ৩ ছয়ে ১০৭ বলে নিজের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৩৩ বর্ষী কিউই তারকা।

ব্রুমের বীরত্ব ছাড়া ম্যাচের বাকি গল্পে টাইগার বোলারদের কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিউইদের। নুরুল হাসান, তানভীর হায়দার ও শুভাশিস রায়কে ওয়ানডে অভিষিক্ত করে একাদশ সাজিয়ে শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয় সফরকারীরা।

ইনিংসের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলেই মার্টিন গাপটিলকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মাশরাফি। মাশরাফির ওভারটিতে কোনো রানও আসেনি। অন্য প্রান্তে নতুন বল উঠেছিল শুভাশিসের হাতে। দুই স্লিপের মাঝ দিয়ে বল গড়াল। উইলিয়ামসনের দেওয়া ফিরতি ক্যাচ ধরতে পারলেন না এই অভিষিক্ত।

টম ল্যাথাম ও উইলিয়ামসন যখন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আভাস দিচ্ছেন, তখন ত্রাতা তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান। ১১তম ওভারে তাসকিনের বলে উইলিয়ামসনের (১৪) ক্যাচ তালুতে পুরেছেন সাকিব। ১৪তম ওভারে ২২ রান করা ল্যাথামকে এলবিডব্লিউ করে টাইগার শিবিরে স্বস্তি আনেন সাকিব।

এরপর নিশামকে নিয়ে জেকে বসতে চাইছিলেন ব্রুম। সেই প্রতিরোধ ভাঙেন মোসাদ্দেক হোসেন। নুরুলকে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ডিসমিসালের স্বাদ দিয়ে নিশামকে (২৮) সাজঘরের পথ দেখান মোসাদ্দেক।

দ্রুতই মাশরাফির দ্বিতীয় আঘাতে আরো খানিকটা বিপাকে পড়ে কিউইরা। এবার ভয়ঙ্কর কলিন মুনরোকে (৩) বোল্ড করে সফরকারী শিবিরকে উল্লাসে মাতান ম্যাশ। তখন ১০৭ রানের মাথায় অর্ধেক কিউই ব্যাটসম্যান সাজঘরে। ওভার চলছে ২৬তম। টাইগার শিবির উজ্জীবিত!

সেখান থেকেই রঞ্চিকে নিয়ে আরেকটি অর্ধশতকের জুটি গড়ে প্রতিরোধ চালিয়ে যান ব্রুম। টাইগার বোলাররা তখনও দারুণ বল করছিলেন। পরে জমে ওঠা জুটি বিচ্ছিন্ন করেন তাসকিন। ৪ চার ও ১ ছয়ে ৩৫ রান করা রঞ্চিকে তানভীরের ক্যাচ বানান তিনি।

ষষ্ঠ উইকেট তুলে নেওয়ার পর কিউইদের দুইশর আগের গুটিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকবেন মাশরাফিরা। কিন্তু মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ানো ব্রুমকে আর ফেরানোই গেল না। তাতেই সংগ্রহটা চ্যালেঞ্জিং জায়গায় টেনে নেয় স্বাগতিকরা।

মিচেল স্যান্টনারকে (৯) নিজের প্রথম শিকার বানালেন শুভাশিস। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই টিম সাউদিকেও (৩) ফেরালেন সাকিব। মাশরাফি আক্রমণে এসে লোকি ফার্গুসনকে (৪) নুরুলের হাতে ক্যাচ দিতে বাধ্য করলেন। কিন্তু অন্য প্রান্তে অস্বস্তিটা বাড়িয়ে গেলেন ব্রুম। মাশরাফিকে ছক্কা মেরে ৯৮-এ! পরের ওভারেই ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেলেন।

বোলিংয়ে উজ্জ্বলতার দিনে মাশরাফিই টাইগারদের সফর বোলার। ১০ ওভারে ৪৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন। ৪৫ রান করে দিয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও সাকিব আল হাসান। শুভাশিস ও মোসাদ্দেকের ঝুলিতে গেছে একটি করে উইকেট। শেষ পর্যন্ত বোলারদের বয়ে আনা এই সাফল্য ব্যাটসম্যানদের আত্মহত্যার মিছিলে সমাধিত হলো তাসমান সাগরে!

আরডি/ এসএমএইচ/ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...