Home / টপ নিউজ / বয়লার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫

বয়লার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক :

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরীতে প্লাস্টিক কারখানা ট্যাম্পাকো ফয়েলস লিমিটেডে বয়লার বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহত ১৯ জনের লাশ টঙ্গি জেনারেল হাসপাতাল, পাঁচজনের লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং একজনের লাশ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগুনে পাঁচতলা ভবনটির চারতলা প্রায় পুরোটাই ধসে পড়েছে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাম্পাকো নামের ওই কারখানায় শনিবার সকাল ৬টার দিকে বয়লার বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। হতাহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে ৩০ জনকে। সেখানে মারা গেছেন পাঁচজন। নিহতরা হলেন- সিকিউরিটি গার্ড দেলোয়ার হোসেন (৪৫), শ্রমিক অহিদুজ্জামান স্বপন (৩৪), মেশিনম্যান আনোয়ার হোসেন (৪০) ও অজ্ঞাত দুইজন। এর মধ্যে একজন নারী।

এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে সোলাইমান (৩০), হান্নান (৬২), ইদ্রিস (৪০), আল-মামুন (৪০), শংকর সরকার (২৫), জাহাঙ্গীর (৫০), সুবাস চন্দ্র (৪০), রফিকুল ইসলাম (২৮), রেদোয়ান (৩৫), জয়নুল (৩৬), আনোয়ার আলী (৩৫), আনিসুর রহমান (৪০), রাজেশ (২০) ও রাশেদ (২৭) ও আরও অজ্ঞাত পরিচয় ৩ জনের এর মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এছাড়া ঘটনার সময় ভবনের পাশের রাস্তায় থাকা একটি রিকশার উপর দেয়াল ধসে পরে একজন নিহত হন। পরে তার পরিচয় জানা গেছে। তিনি হবিগঞ্জের বাসিন্দা মর্জিনা বেগম (২০)। ঘটনার সময় তার সঙ্গে থাকা তার বোন তাহমিনাও (১৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। মর্জিনা বেগমের লাশ তার স্বামী সুমন বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার পারভেজ হোসেন জানান, টঙ্গী হাসপাতালে ১৯ জনের লাশ আছে। ইতোমধ্যে লাশগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এসএম আলম বলেছেন, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেদুল ইসলামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া, নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২০ হাজার টাকা এবং আহতদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।

ওই কারখানায় বিভিন্ন ধরনের প্যাকেজিংয়ের কাজ করা হতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্লাস্টিক জাতীয় দ্রব্য দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জিনিস বানানো হতো। এই কারখানায় প্রতি শিফটে ৩০০ শ্রমিক কাজ করত। যখন বিস্ফোরণ হয় তখন রাতের শিফটে লোকজন কাজ করে সকালে বের হওয়া প্রস্তুতি নিচ্ছিল, এমন সময় বিস্ফোরণ ঘটে।

জানা গেছে, রাতে শিফটে দেড়শতাধিক লোক কাজ করত। সকালের শিফটের কিছু শ্রমিকও কারখানায় প্রবেশ করেছিল।এখনও কারখানায় অনেক শ্রমিক আটকা পড়ে আছে বলে পুলিশের ধারণা।

বিস্ফোরণের পর ওই কারখানার দাহ্য পদার্থ থেকে আগুন ধরে যায়। দ্রুত সে আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণ এবং অগ্নিকাণ্ডের ফলে ৪তলা ওই ভবনের প্রায় পুরোটা ধসে পড়েছে।

সকাল ১০টার দিকে ভেতরে থেকে দুজনের লাশ বের করা হয়। তারা দেয়াল চাপায় নিহত হয়েছেন। লাশ দুটি টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বিস্ফোরণের পর কারখানাটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জয়দেবপুর, টঙ্গী, কুর্মিটোলা, সদর দফতর, মিরপুর এবং উত্তরাসহ আশেপাশের ফায়ার স্টেশনের ২৫টি ইউনিট।

জয়দেবপুর ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. রফিকুজ্জামান জানান, শনিবার সকালে টঙ্গীর বিসিক নগরীতে ট্যাম্পাকো কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

টঙ্গী ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. পারভেজ মিয়া জানান, আগুনে দগ্ধ হয়ে অর্ধশতাধিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৩০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

গুরুতর আহত কারখানাটির শ্রমিক রুবেল জানান, তারা ভোরে কাজে যোগদানের পর পরই কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন উর রশীদ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আশেপাশের ভবনগুলোতে আগুন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলের আশেপাশে অবস্থান নিয়েছে এবং উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দিয়েছে। যাতে জানমালের ক্ষয়-ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়।

তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কারখানার মালিক কিংবা প্রশাসন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তার যোগাযোগ করা উচিৎ ছিল। আমরা কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে আইন‍ানুগ ব্যবস্থা নেব।’

 আরডি/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...