তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক :
বাসযোগ্য পৃথিবী ছাড়াও যে প্রাণের অস্তিত্ব রয়েছে, কিছুদিনের মধ্যেই তার প্রমাণ মিলবে। এমনটাই দাবি করেছেন বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী মিশেল মেয়র। ২২ বছর আগে যিনি সৌরমণ্ডলের বাইরে প্রথম অন্য একটি নক্ষত্রমণ্ডলে কোনো ভিনগ্রহের সন্ধান দেন।

জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মিশেল মেয়রের সেই আবিষ্কারের সহযোগী ছিলেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক ডিডিয়ার কোয়েলজ। তারা ‘পেগাসিয়াস’ নক্ষত্রপুঞ্জে হদিস পান এমন একটি নক্ষত্রের (৫১ পেগাসি), যাকে আবর্তন করছে বৃহস্পতির মতো চেহারার খুব বড় আর ভারি একটি ভিনগ্রহ ‘৫১ পেগাসি-বি’। পরে যার নাম দেয়া হয় ‘বেল্লেরোফোন। এখন যাকে ডাকা হয় ‘ডিমিডিয়াম’ নামে।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা) নতুন সাত পৃথিবীসদৃশ নক্ষত্রমণ্ডল ‘ট্রাপিস্ট-১’ আবিষ্কারের ঘোষণা দেয়ার পর জেনেভায় যোগাযোগ করা হয় প্রথম ভিনগ্রহের আবিষ্কর্তা জ্যোতির্বিজ্ঞানী মিশেলের সঙ্গে। ই-মেইলে পাঠানো প্রশ্নে নিরুত্তর থাকার পর সরাসরি টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে অধ্যাপক মিশেল বলেন, ট্রাপিস্ট-১ নক্ষত্রমণ্ডলের আবিষ্কার আমার মতো অনেক জ্যোতির্বিজ্ঞানীকেই যথেষ্ট উৎসাহিত করেছে।
তার মতে, এর মাধ্যমে ভিনগ্রহে প্রাণের হদিস মেলার আশাটা জোরালো হয়েছে। হয়ত এটি সম্ভব হবে আর এক বছরের মধ্যেই। তার প্রধান কারণ দু’টি।

এক. এখন মহাকাশে থাকা যে টেলিস্কোপগুলো নতুন নক্ষত্রমণ্ডলের হদিস পেয়েছে আর তারপর থেকে নজর রাখতে শুরু করেছে ট্রাপিস্ট-১ এর ওপর; সেই স্পিৎজার, কেপলার, হাবলের চেয়ে অনেকগুণ বেশি শক্তিশালী একটি টেলিস্কোপ নাসা মহাকাশে পাঠাচ্ছে আগামী বছর। যার নাম ‘জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ’ বা ‘জেডব্লিউএসটি’।

ওই টেলিস্কোপের মাধ্যমে আরও খুঁটিয়ে দেখা যাবে, আমাদের থেকে মাত্র ৩৯ আলোকবর্ষ দূরে থাকা সদ্য আবিষ্কৃত নক্ষত্রমণ্ডল ট্রাপিস্ট-১।
দুই. এই প্রথম এমন কোনো নক্ষত্রমণ্ডলের হদিস মিললো, যেখানে রয়েছে পৃথিবীর মতো আকৃতির সাতটি ভিনগ্রহ। যাদের ভূ-পৃষ্ঠের তাপমাত্রা শূন্য থেকে ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩২ ডিগ্রি থেকে ২১২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে। অর্থাৎ, যে তাপমাত্রায় পানি খুব সহজেই থাকতে পারে তরল অবস্থায়। আর প্রাণের জন্ম বা তার বিকাশের পক্ষেও এ তাপমাত্রাটা একেবারেই আদর্শ।
মুক্তা // এসএমএইচ // মার্চ ১৫, ২০১৭