Home / আন্তর্জাতিক / ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় থাকলো ছয় দেশ, তালিকা থেকে বাদ ইরাক

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় থাকলো ছয় দেশ, তালিকা থেকে বাদ ইরাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
সাত মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের ওপর স্থগিত হয়ে যাওয়া নিষেধাজ্ঞা সংশোধন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।এবার মুসলিম প্রধান ছয় দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

গতকাল সোমবার (০৬ মার্চ) এ-সংক্রান্ত নতুন এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। আদেশটি কার্যকর হবে ১৬ মার্চ থেকে ।

পূর্বের নিষেধাজ্ঞা তালিকা থেকে ইরাকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন আদেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছয় দেশ হলো ইরান, লিবিয়া, সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেন। দেশগুলোর নাগরিকদের ওপর ৯০ দিনের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে দেশগুলোর যেসব নাগরিক এরই মধ্যে ভিসা পেয়েছেন, যেসব অভিবাসীর গ্রিন কার্ড রয়েছে, যাঁরা কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যাঁদের আগে রাজনৈতিক আশ্রয় বা শরণার্থী হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে, তাঁদের প্রতি এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হয়েছে।

নতুন আদেশ অনুযায়ী, ১২০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে শরণার্থী কর্মসূচি বন্ধ থাকবে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কর্তৃক অনুমোদনপ্রাপ্ত শরণার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন। এ বছর ৫০ হাজারের বেশি শরণার্থী নেওয়া হবে না।

ইরাককে বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় হোয়াইট হাউস বলেছে, ইরাকে স্ক্রিনিং কার্যক্রম জোরদার করার জন্যই দেশটিকে এবারের নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।ইরাক আমাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আমরা চাই, ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশও এভাবে এগিয়ে আসুক।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এ নিষেধাজ্ঞাকে মুসলিম নিষেধাজ্ঞা বলা যাবে না। কারণ এ নিষেধাজ্ঞার ফলে অন্য দেশগুলোর মুসলিম নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে কোনো বাধার মুখে পড়তে হবে না।

নতুন এই আদেশ সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন বলেছেন, মৌলবাদী ইসলামী সন্ত্রাসীরা আঘাত হানতে পারে এমন দুর্বলতা হ্রাস ও ধ্বংসাত্মক কাজের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হবে এই আইন।

এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, নতুন নিষেধাজ্ঞায় আদালতে তোলা প্রশ্নগুলোর মীমাংসা করা হবে। কেননা, ফেডারেল আপিল আদালতের আদেশে তার আগের নির্বাহী আদেশটি স্থগিত হয়ে গেছে।

তিনি তখন আরও বলেছিলেন, নতুন আদেশটি অনেক নিখুঁত হবে। আমরা এমন নির্বাহী আদেশ জারি করব, যা আমাদের দেশকে ব্যাপকভাবে সুরক্ষা দেবে।

নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা দেওয়ার পরই আমেরিকান সিভিল লিবারটিজ ইউনিয়ন জানিয়েছে, তারা এই আদেশের বিরুদ্ধে সাংবিধানিকভাবে লড়াই চালিয়ে যাবে। সংগঠনটির পরিচালক ওমর জাদওয়াত একে ‘মুসলিম নিষেধাজ্ঞা’ উল্লেখ করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন আগের নিষেধাজ্ঞা থেকে অনেক সরে আসলেও এখনও এটা মুসলিম নিষেধাজ্ঞা। আর তা মার্কিন আইন ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

মার্কিন অভিবাসন আইনজীবীরাও জানিয়েছেন, এখনও এই নিষেধাজ্ঞা আগেরটির মতোই ঘাতক। স্যাম অ্যাডাইর জানান, এবারের নিষেধাজ্ঞায় কিছু বিষয় স্পষ্ট হলেও এখনও তা সংবিধানের পরিপন্থি।

আমেরিকান-আরব অ্যান্টি-ডিসক্রিমিনেশন কমিটি (এডিসি) নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে, ইসলামোফোবিয়া ও বর্ণবাদের জন্যই এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এবারের নিষেধাজ্ঞার প্রভাবও আমাদের সম্প্রদায়ের ওপর আগেরটির মতোই পড়বে। আর আমরা আক্রান্তদের আইনি সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রাখব।

উল্লেখ্য, ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহ পর ২৭ জানুয়ারি মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের শহরে শহরে প্রতিবাদ জানায় মানুষ। নিষিদ্ধ দেশগুলো থেকে আসা বহু লোককে আটকে দেওয়া হয় বিমানবন্দরগুলোতে। এতে সৃষ্টি হয় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়।

সর্বশেষ সানফ্রানসিসকোর ফেডারেল আদালত ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিপক্ষে রায় দেন। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে সানফ্রানসিসকোর ফেডারেল আদালতের নবম সার্কিট আদালত নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন। এই অবস্থায় নতুন করে প্রায় একই আদেশ জারি করলেন ট্রাম্প।
এসএমএইচ // মার্চ ৭, ২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...