Home / অর্থ-বাণিজ্য / মিয়ানমারের কারণে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পরিবর্তন আনতে হবে: অর্থমন্ত্রী

মিয়ানমারের কারণে চলতি অর্থবছরের বাজেটে পরিবর্তন আনতে হবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : 

মিয়ানমারের কারণে চলতি অর্থবছরের বাজেট এদিক-ওদিক করতে হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। লাখ লাখ মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া মিয়ানমারের হামলা বলেও মনে করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে গত রোববার বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয়ে বসে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। তার আগে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল কমিটির একটি অধিবেশনে যোগ দেন তিনি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করবে মিয়ানমার। মিয়ানমারের কারণে এবার দেশে ফিরেই তাঁকে বাজেট পরিবর্তনে হাত দিতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারের ঠেলে দেওয়া জনগণের জন্য বাংলাদেশের বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করতে হবে। এটা আমাদের ভাবিয়ে তুলছে। বাজেট এদিক-ওদিক করতে হবে ওই কারণেই।’
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভায় যোগ দিয়ে অর্থমন্ত্রী বুঝেছেন যে রোহিঙ্গা সংকট মেটাতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বাংলাদেশকে সহায়তা করবে। তারপরও অর্থমন্ত্রী মনে করেন এই লাখ লাখ রোহিঙ্গার বোঝা সামলানো বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ধাক্কা। মুহিত বলেন, বিশ্বব্যাংক এই ধাক্কা সামলাতে অনুদান ও ঋণ দুটোই দেবে।
বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাংলাদেশ কেন রোহিঙ্গাদের জন্য টাকা খরচ করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কথাটা ঠিক। কেন ঋণের টাকা তাদের জন্য খরচ করব?’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল মানুষ। অত্যন্ত মানবিক মানুষ। মিয়ানমারের অসহায় মানুষদের জন্য শুরু থেকেই তিনি দরজা খুলে দিয়েছেন। বিশ্ববাসী এ জন্য তাঁকে ধন্যবাদও জানিয়েছে। আরও কারণ হচ্ছে, আমরা নিজেরাও ১৯৭১ সালে এমন অবস্থায় পড়েছিলাম। আমরা বুঝি, শরণার্থী হওয়ার যন্ত্রণা কী? ’
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ কী রকম সহায়তা করতে পারে? জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের সাহায্যের এখন আর মনে হয় ৬০ হাজার কোটি ডলার হাতে আছে। এ থেকে একটা অঙ্ক পাওয়া যাবে।’
মিয়ানমার যে কাজ করেছে, তার জন্য আন্তর্জাতিক মহল থেকে দেশটির ওপর আরও চাপ আসা উচিত বলে মনে করেন মুহিত। বলেন, সবাই মিলে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক বা বাণিজ্যিক অবরোধ করা উচিত। কিন্তু বড় দেশগুলোর মধ্যে চীন-রাশিয়া কিছুই করছে না।
অর্থমন্ত্রী কথা বলার সময় বিশ্বব্যাংকে বাংলাদেশের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মোশাররফ হোসাইন ভুইয়া এবং সভায় যোগ দিতে আসা অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন দলের সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আজম, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের ১১ থেকে ১৬ অক্টোবর চলাকালীন সভা শেষে অর্থমন্ত্রী দেশে ফিরবেন ২১ অক্টোবর।

কাওছার আক্তার মুক্তা // এসএমএইচ// বুধবার১৮ অক্টোবর ২০১৭ কার্তিক ১৪২৪

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...