Home / টপ নিউজ / মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরে বাকি রইল প্রাণভিক্ষা

মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরে বাকি রইল প্রাণভিক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক : 
তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় হুজির শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ৩ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহালের রিভিউর রায় প্রকাশ করেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। রায়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনারকে হত্যা করতেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ওই হামলা চালানো হয়েছিলো। ওই হামলায় তিন ব্যক্তি মারা যান। যাদের একজন ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন। বাকি দুজন হাসপাতালে। ফলে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অপরাধ মার্জনা করার কোন সুযোগ নেই।

আদেশে বলা হয়, রিভিউ পিটিশনারদের আইনজীবী বলেছেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা দশ বছর ধরে কনডেম সেলে বন্দি রয়েছেন। এছাড়া মামলা নিষ্পত্তি করতেও লেগেছে অনেক সময়। এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদেরকে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে আমৃত্যু দণ্ড দেয়া হোক। এ প্রসঙ্গে আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, এটি সাজা হ্রাসের জন্য কোন আইনি যুক্তি হতে পারে না। এছাড়া রায়ের কোন আইনগত ত্রুটিও খুঁজে বের করতে পারেনি। ফলে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের রিভিউ আবেদন খারিজ করা হল।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এবং আপিল বিভাগের অপর দুজন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর সাক্ষরের পর এ রায় প্রকাশ করা হল। এখন রিভিউ খারিজের এ রায়টি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্টের অতিরিক্ত রেজিস্টার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ। তিনি বলেন, আমরা দ্রুতই এই রিভিউ খারিজের রায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি এবং আজই তা পাঠানো হবে।

বিগত বৃহস্পতিবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপনের রিভিউ আবেদন খারিজ করে দেয়। এ আসামিরা আপিল বিভাগের ফাঁসির রায় হ্রাস করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়ার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন। আবেদনে বলা হয়েছিল, তারা দীর্ঘদিন কনডেম সেলে মৃত্যু যন্ত্রণা ভোগ করছিল। এ কারণে সাজা হ্রাস করা যেতে পারে। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালত অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সাজা হ্রাসের এই যুক্তি নাকচ করে দিয়ে ফাঁসি বহাল রাখে।

আইন বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কারাগারে এই রায় পৌঁছানোর পর কারা কর্তৃপক্ষ এই তিন আসামিকে রায়ের বিষয়টি অবহিত করবে। এরপর আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চাইবেন কিনা, সে বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করবে কারা কর্তৃপক্ষ। যদি তারা প্রাণ ভিক্ষা না চান, তাহলে যে কোন সময় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে কারা কর্তৃপক্ষ।

২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হযরত শাহজালাল রহ. মাজার জিয়ারতে গিয়েছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। দরগাহ প্রাঙ্গণে জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে তাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক কামাল উদ্দিন নিহত হন। এছাড়া বেশ কয়েকজন হতাহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এ ঘটনায় দায়েরকৃত হত্যা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। মৃত্যুদণ্ডের ওই রায় অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স আকারে হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি আসামিরা খালাস চেয়ে নিয়মিত ও জেল আপিল করেন। ওই আপিল খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ নিম্ন আদালতের সাজার রায় বহাল রাখে। এ ছাড়া মুফতি হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি (৩২) ও মুফতি মইনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ ওরফে খাজাকে (৩১) দেয়া যাবজ্জীবন সাজার রায়ও বহাল রাখে আদালত। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তরা। গত ডিসেম্বর মাসে আপিল বিভাগ আসামিদের আপিল খারিজ করে দিয়ে ফাঁসির রায় বহাল রাখে।
মুক্তা // এসএমএইচ // মার্চ ২১, ২০১৭

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...