Home / জেলা সংবাদ / মেঘনায় ফের ট্রলারসহ জেলে অপহৃত

মেঘনায় ফের ট্রলারসহ জেলে অপহৃত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভোলার মনপুরার মেঘনা নদীতে গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জেলেদের ওপর ফের হামলা চালিয়েছে জলদস্যুরা। এ সময় ট্রলারসহ এক জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে তারা। অপহৃত জেলে ও ট্রলার ছাড়িয়ে আনতে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে জলদস্যু বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন। আড়তদার ও পরিবার সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আজ শুক্রবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত অপহৃত জেলে ও  ট্রলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। কোস্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে কোস্টগার্ড হাতিয়া জোনের কমান্ডার জানিয়েছেন। মনপুরার রামনেওয়াজ মৎস্য ঘাটের আড়তদার ও স্থানীয় জেলে সূত্র জানিয়েছে, প্রতিদিনের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার মৎস্য আড়তদার শামসুদ্দিন বাচ্চু চৌধুরীর গদি ঘরের সোহরাব মাঝি ও রামনেওয়াজ ঘাটের মৎস্য আড়তদার মো.  মোমিন মিয়ার গদি ঘরের রাকিব মাঝি উপজেলার জাগলা চরসংলগ্ন মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে জাল ফেলেন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিয়ার জলদস্যু বাহিনী প্রধান আলাউদ্দিন, কৃষ্ণ, রুবেল এবং আরিফ বাহিনী জাগলার চর থেকে ট্রলারযোগে অস্ত্রশস্র নিয়ে জেলেদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তারা জেলেদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে তাদেরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে থাকে। একপর্যায়ে জলদস্যুরা সোহরাব মাঝির ট্রলারসহ রাকিব মাঝির ট্রলার থেকে রাকিব মাঝিকে নিয়ে হাতিয়ার দিকে গভীর জঙ্গলে চলে যায়। এ ছাড়া  উভয় ট্রলারের জেলেদের বেঁধে জাগলা চরে রেখে যায়। তবে, সোহরাব মাঝি মেঘনা নদীতে ঝাপ দিয়ে পালিয়ে জাগলার চরে উঠে আসেন। পরে তারা রাকিব মাঝির মাছ ধরার ট্রলার দিয়ে মনপুরায় চলে আসেন। স্থানীয় আড়তদার মোমিন মিয়া রাকিব মাঝিকে ছাড়িয়ে আনতে যোগাযোগ করলে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এ নিয়ে দর কষাকষি চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে সোহরাব মাঝির ট্রলার ছাড়িয়ে আনতে যোগাযোগ করলে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়। সর্বমোট তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে জলদস্যুরা। স্থানীয় আড়তদার ও জেলরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, যেখানে জলদস্যুরা জেলেদের ওপর হামলা চালায় সেখান থেকে কোস্টগার্ডের ক্যাম্প মাত্র দেড় কিলোমিটার। কোস্টগার্ড ইচ্ছা করলে এক ঘণ্টার মধ্যে জলদস্যুদের আটক করতে পারে। জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, জলদস্যুরা কোস্টগার্ডের সঙ্গে যোগসাজসে মেঘনায় জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে জেলেদের আটক করে মুক্তিপণ আদায় করে। তার একটি অংশ ভাগ পেয়ে থাকে হাতিয়ার কোসগার্ড। জলদস্যুরা কোস্টগার্ডকে মেহমান বলে ডাকে। নইলে গত এক সপ্তাহের মধ্যে জলদস্যুরা জেলেদের ওপর এত হামলা করছে কিভাবে? এ ব্যাপারে হাতিয়া জোনের কোস্টগার্ড প্রধান লে. কমান্ডার ওমর ফারুক বলেন, “আমরা জলদস্যুদের হামলার ঘটনা শোনার সাথে সাথে মেঘনায় অভিযান পরিচালনা করি। অপহৃত জেলে ও ট্রলার উদ্ধার করতে মেঘনায় অভিযান অব্যাহত রেখেছি। আমাদের কয়েকটি টিম ইতিমধ্যে মেঘনার বিভিন্ন চরে অভিযান পরিচালনা করছে।” জলদস্যুদের সঙ্গে আমাদের কোনো যোগাযোগ নেই দাবি করে তিনি আরো বলেন, “আমরা জলদস্যুদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। তবে, এখনো অপহৃত জেলে ও ট্রলার উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ৯ আগস্ট থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত  মনপুরার মেঘনা নদীতে অন্তত তিনটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় জেলে সূত্র জানিয়েছে।

আরডি/ এসএমএইচ // ২৬ আগস্ট ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...