টানা বর্ষণে চট্টগ্রাম বিভাগের তিন জেলায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর ধসে পড়া পাহাড়ের মাটি সরিয়ে হতাহতদের উদ্ধারে দ্বিতীয় দিনের অভিযান শুরু করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এদিকে রাঙামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৩ জনে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বরত কর্মকর্তা দলিল উদ্দিন জানান, পাহাড় ধসের ঘটনায় বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত রাঙামাটিতে ৯৮ জন, চট্টগ্রামে ২৯ জন এবং বান্দরবানে ছয়জনের লাশ উদ্ধারের তথ্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে গাছ চাপা, দেয়াল চাপা ও পানিতে ভেসে আরও অন্তত ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে বান্দরবানের স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নিহতের সংখ্যা সাতজন।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে গত রোববার থেকে দেশের দক্ষিণ পূর্বের জেলাগুলোতে ভারি বৃষ্টির কারণে মাটি সরে গিয়ে সোমবার রাত থেকে এই তিন জেলার বিভিন্ন পাহাড়ে ধস নামে। সেইসঙ্গে পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে দেখা দেয় ভয়াবহ বিপর্যয়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা বৃষ্টির মধ্যেই মঙ্গলবার ভোর থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। রাতে আলোর অভাবে অভিযান স্থগিত রাখার পর বুধবার সকালে আবারও মাটি সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয় রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দিদারুল আলম ও বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম জানান।

দিদারুল আলম জানান, শহরের ভেদভেদিসহ যেসব স্থানে মঙ্গলবার মাটি সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি, সেখানে বুধবার সকালে তারা কাজ শুরু করেছেন। আর বান্দরবানের জেলেপাড়ায় পাহাড় ধসের পর নিখোঁজ মা কামরুন্নাহার ও মেয়ে সুফিয়ার সন্ধানে তল্লাশি চলছে। সেখানে পাহাড়ের একটা বিরাট অংশ ধসে পড়েছে। তাই সরাতে সময় লাগছে।
 এসএমএইচ // বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭