Home / টপ নিউজ / রিশার ঘাতকের বোন-দুলাভাই আটক

রিশার ঘাতকের বোন-দুলাভাই আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানী ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার ঘাতক ওবায়দুলের বোন মোছা. খাদিজা বেগম এবং দুলাভাই মো. খাদেমুল ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় খাদেমুল ইসলামের মা খতেজা বেগমকে আটক করা হলেও পরে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
তবে অল্পের জন্য পুলিশের হাতছাড়া হয়েছে ঘাতক ওবায়দুল। সোমবার দুপুর পর্যন্ত স্থানীয় লাটের হাট বাজারে তাকে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক ওবায়দুলের নিজ বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায়। অভিযানের পর বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়েছে পরিবারের অপর সদস্যরা।
ওবায়দুলের বোন মোছা. খাজিদা বেগম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় আমাদের বাড়িতে আসে ওবাায়দুল। সকালে আমাদের সাথে নাস্তা করে। বিশ্রাম নিয়ে দুপুরে গোসল করে বাড়ি হতে বেড়িয়ে যায়। তারপর আর কোন যোগাযোগ হয়নি। সে স্কুল ছাত্রীকে হত্যা করেছে এমন কথা আমাদের জানায়নি।
প্রতিবেশী মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তার দেখা হয়। তার সাথে তেমন কোন কথা হয়নি। তবে রবিবার বিকাল পর্যন্ত আমি তাকে দেখেছি। তখন পর্যন্ত জানি না সে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. বাচ্চু মিয়া জানান, ওবায়দুলের পিতা মো. আব্দুস সামাদ পেশায় শস্যের পাইকার ছিলেন। প্রথম স্ত্রী বুধিরন ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে মারা যাওয়ার পর মোছা. চন্দনী বেগমকে বিয়ে করেন। চন্দনী কোলজুড়ে আসে ১ ছেলে এবং ৪ মেয়ে । একমাত্র ছেলে ওবায়দুল যখন চকদফর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র, তখন তার মা চন্দনী বেগম মারা যায়। এরপর পঞ্চম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় পিতা আব্দুস সামাদ পাইকার তাকে ঠাকুরগাঁও ম্যাজিক কার্ট টেইলার্সে রেখে আসেন। অভাবের সংসারের কথা শুনে শিশু ওবায়দুলকে টেইলার্সে কাজের সুযোগ দেন টেইলার্স মালিক গৌরাঙ্গ। এরপর আব্দুস সামাদ বিয়ে করেন আখেলিমা নামে স্বামী পরিতাক্ত্য এক মহিলাকে। আনুমানিক পাঁচ বছর আগে মারা যান আব্দুস সামাদ পাইকার।
পিতার মৃত্যুর পরও ওবায়দুল প্রায় এখানে আসতেন। প্রতিটি ঈদ সে এখানে পালন করেছেন। তাকে সর্বশেষ গত সোমবার দুপুরে লাটের হাট বাজারে দেখা গেছে। তখন পর্যন্ত বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি জানান পর আমরা হতবাক হয়েছি।
মোহনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মজিদুল ইসলাম মাস্টার জানান, এই ছেলে একটি মেয়েকে শুধু হত্যা করেনি। আমাদেরকে কলঙ্কিত করেছি। আমরা এই এলাকার মানুষ লজ্জিত এবং শোকাহত। আমরা এই হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ। ইতোমধ্যে এলাকার মানুষ তাকে আটক করতে সকল প্রকার তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন।
বীরগঞ্জ থানার ওসি আবু আককাছ আহম্মদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় রমনা থানার এসআই মো. মোশারফ হোসেন বীরগঞ্জ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ঘাতক মো. ওবায়দুল খানের নিজ বাড়ি দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের মিরাটঙ্গী গ্রামে অভিযান চালায়। সেখান থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বোন ও দুলাভাইকে আটক করা হয়।
প্রসঙ্গত, কাকরাইলে গত বুধবার বখাটে যুবক ওবায়দুলের ছুরিকাঘাতে আহত উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের ছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। রিশার মা বুধবারই ওবায়দুলকে আসামি করে রমনা থানায় একটি মামলা করেছেন।

আরডি/ এসএমএইচ // ৩০ আগস্ট ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...