Home / জেলা সংবাদ / রোয়ানু মোকাবেলায় প্রস্তুত কক্সবাজার

রোয়ানু মোকাবেলায় প্রস্তুত কক্সবাজার

চট্টগ্রাম, ২০ মে (অনলাইনবার্তা): ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু কক্সবাজার সমুদ্র থেকে ৯৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। গতিমুখ পরিবর্তন না হলে ঘুর্ণিঝড়টি শনিবার দুপুর ১২ টা থেকে বিকাল ৩ টা নাগাদ কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম উপকূলের উপর দিয়ে বয়ে যেতে পারে। এসময় ৫/৬ ফুট জলোচ্ছাস হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এসব কথা  জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারি আবহাওয়াবিদ এ.কে.এম নাজমুল হক।

তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়োহাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। এই কারণে কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নং হুশিয়ারি সঙকেত দেখানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উত্তর বঙ্গোসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থাকতে বলা হয়েছে। যাতে তারা স্বল্প সময়ের নির্দেশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেই সাথে তাদেরকে গভীর সাগরে বিচরণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে ঘুর্ণিঝড় পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেল ৫ টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো: আলী হোসেন।

তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ পূর্ব ও দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইতোমধ্যে সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার প্রস্তুতি হিসেবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়েছে।মানুষের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রচারণা চালানো, আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খোলা রাখা ও যে কোন উপায়ে সেখানে দ্রুত শুকনো খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও ঘূণিঝড় পরবর্তী উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেওয়ার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহন করা হয়েছে।’

সভায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ঘুর্ণিঝড়ের সময় দুর্গত মানুষের নিরাপদ অবস্থানের জন্য জেলার ৫১৬ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই মুহুর্তে দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ১৬২ মেট্রিক টন শুকনো খাবার ও নগদ ২ লাখ ২৩ হাজার টাকা মজুদ রয়েছে।’

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা: পু চ নু বলেন, ‘ঘুর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকায় তারা সার্বক্ষনিক চিকিৎসা সেবা দেবেন। সদর হাসপাতালেও দুর্গত মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।’

জেলা ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির উপ-পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, ‘ঘুর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির অধিনে জেলার ৭ উপজেলার (রামু ব্যতিত) ৪৮ টি ইউনিয়নে ৪১৪টি ইউনিট কাজ করবে। প্রত্যেক ইউনিটে ১৫ জন করে মোট ৬ হাজার ২১০ জন স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে। ঘুর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পর সেই বার্তা তাদের কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং তাদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।’

x

Check Also

 রাবির ৯ শিক্ষকের থানায় জিডি, সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৯ শিক্ষক। এ কারণে রবিবার ...