Home / টপ নিউজ / ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ : হাইকোর্ট

ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ : হাইকোর্ট

চট্টগ্রাম, ৫ মে (অনলাইনবার্তা): ষোড়শ সংশোধনী অবৈধহাইকোর্টের এই রায়ে সংক্ষুব্ধ সংসদ সদস্যরা (এমপি)

সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম বিষয়টি উত্থাপন করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেন, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু, শ্রম কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু জাসদ একাংশের নেতা মইনুদ্দিন খান বাদল ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়ে আইনমন্ত্রীর ব্যাখা চান তারা।

বৃহস্পতিবার (০৫ মে) বিকেলে জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে রয়েছে। আমার দুঃখরক্ত দিয়ে এই দেশ স্বাধীন করা হয়েছে। বিচারপতিদের হাইকোর্টে নিয়োগ কারা দেয়? সংসদ সদস্যরাই তো দেয়। আমি জাতির কাছে ক্ষমতা চাই, অনেক বিচারপতি চলার পথে আমাদের সঙ্গী ছিলেন, ভাই ছিলেন। আজ আমরা ক্ষমতায় ছিলাম বলেই অনেকেই বিচারক হয়েছেন। এই সংসদ সার্বভৌম সংসদ।

রায় সম্পর্কে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্ট যদি এই ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে তাহলে একটা খারাপ দৃষ্টান্ত হবে, সংসদের সার্বভৌমত্ব থাকে কোথায়?

শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এই সংবিধান রচিত হয়। ১৯৭২ সংবিধানে বিচারপতিদের অভিশংসন করার ক্ষমতা এই সংসদেরই ছিল। আমরা যেটি আইন তৈরি করি, ওনারা সেটি কার্যকর করেন। আইনের বাইরে গিয়ে কারও কোনো কিছু করা ঠিক না।

স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিচারপতিদের উদ্দেশে শেখ সেলিম বলেন, সংসদকে অকার্যকর করে, সংসদকে নসাৎ করে যদি কোনো অশুভ শক্তির সঙ্গে হাত মেলান তাহলে জনগণ সময় মতো আপনাদের জবাব দেবে।

ফখরুল ইমাম বলেন, রাষ্ট্রের তিনটি অর্গান আইনসভা, বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ। আইনসভা থেকে আমরা আইন তৈরি করি এবং কারকত পাওয়া নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় জানাচ্ছি, কিছু দিন আগে ষোড়শ সংশোধনী আইন২০১৪ নামে যে আইনটি পাস করলাম, যেটি গেজেট আকারে প্রকাশ হয়েছে, হাইকোর্ট ডিভিশনের একটি কোর্ট এটি অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাহলে আমরা যে আইন পাস করি, সেটি কি অবৈধ আইন হয়? এটি আমার জানার দরকার আছে। যে আইন পাস করি এভাবে যদি একটার পর একটা অবৈধ ঘোষণা হতে থাকে, তাহলে আইনসভার মর্যাদা থাকে না।

কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, এই সংসদ স্বাধীন সার্বভৌম। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে এই সংসদ গঠিত। এই জাতীয় সংসদে ষোড়শ সংবিধান (সংশোধন) আইন পাস হয়। এতে দুইতৃতীয়াংশ সংসদ সদস্যদের ভোট এবং রাষ্ট্রপতির সম্মতিক্রমে কোনো বিচারপতিকে অপসারণ করা যাবে।৭২ সংবিধানেই এই বিষয়টি ছিল। সংসদের মানমর্যাদা দেখার দায়িত্ব স্পিকারেরএই সংসদ স্বাধীন সার্বভৌম। এভাবে চললে সংসদের কোনো মানমর্যাদা থাকবে না।

মইনদুদ্দিন খান বাদল বলেন, আমরা এর জন্য আইনমন্ত্রীর ব্যাখা চাই। দেশের বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র হচ্ছে। গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। এই ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া যায় না।

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...