Home / অর্থ-বাণিজ্য / সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে শুকনা মরিচের

সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে শুকনা মরিচের

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ভোগ্যপণ্যের বাজারে টানা দুই মাস ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মসলাজাতীয় পণ্য শুকনা মরিচের দাম। এর মধ্যে এক মাসে এ পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ২০ টাকা। ভারতে শুকনা মরিচের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকায় সরবরাহ সংকটে স্থানীয় বাজারে পণ্যটির দাম চড়া বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

দেশের বৃহত্ ভোগ্যপণ্যের বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার ভারতীয় শুকনা ঝাল মরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ১৪৭-১৪৮ টাকায়। এক মাস আগে এর দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। সে হিসেবে এক মাসে পাইকারিতে শুকনা মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ২০ টাকা।

খাতুনগঞ্জের শুকনা খাদ্য ব্যবসায়ী মিতালী ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অঞ্জন কুমার জানান, ভারতে দু-তিন মাস ধরে শুকনা মরিচের বাজার ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এ কারণে দেশটি থেকে পণ্যটির আমদানি কমিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতি দেখা দেয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাজারেও পণ্যটির দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে ভারতীয় মরিচের সরবরাহ ঘাটতি ও দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। এক মাসে মানভেদে দেশী শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি কুমিল্লা অঞ্চলের (ঝাল) শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০৭-১১০ টাকায়। রমজানের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত যা বিক্রি হতো ১০০ টাকার মধ্যে। একই এলাকার মিষ্টি শুকনা মরিচ এক মাস আগে বিক্রি হতো কেজিপ্রতি ৯৫-৯৭ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১০৫-১০৭ টাকায়। বাজারদর অনুযায়ী, এক মাসে কুমিল্লা অঞ্চলের মরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত।

বাজারে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে বগুড়া অঞ্চলের মরিচ। গতকাল মানভেদে এ অঞ্চলের মরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ৯৫-১০০ টাকায়। গত মাসের মাঝামাঝি (জুলাই) সময়ে যা কেজিপ্রতি ৯০-৯২ টাকার নিচে লেনদেন হতো।

তাছাড়া গতকাল মানভেদে রায়পুরের মরিচ ১০০-১০৫ টাকা, চাঁদপুরের ১১৫-১১৮ ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী অঞ্চলের মরিচ ১৬০-১৬৫ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। এক মাস আগে প্রতি কেজি রায়পুরের মরিচ ৯৫-৯৭, চাঁদপুরের ১১০-১১২ ও হাটহাজারীর মরিচ ১৪০-১৪৫ টাকা দামে বিক্রি হতো বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সে হিসেবে এসব অঞ্চলের মরিচের দামও কেজিতে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। 

চাক্তাই এলাকার শুকনা খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ী রতন কান্তি নাথ বলেন, গেল মৌসুমে দেশে মরিচের ফলন কিছুটা কম হয়েছে। বাজারে দেশী শুকনা মরিচের সরবরাহ কমেছে। এদিকে দু-তিন মাস ধরে ভারতের বাজার ঊর্ধ্বমুখী থাকায় দেশীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ছে। তাছাড়া গত কয়েক দফার বৃষ্টিতে পণ্য সরবরাহ বিঘ্ন হওয়ায় বাজারে শুকনা মরিচের সরবরাহ ঘাটতি প্রকট হয়েছে।

শুকনা খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ীদের মতে, বর্তমানে দৈনিক গড়ে ১৫-২০ গাড়ি শুকনা মরিচ খাতুনগঞ্জে প্রবেশ করছে। এর মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মরিচের পাশাপাশি রয়েছে ভারতীয় মরিচও। শুকনা খাদ্য ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন বলেন, একসময় দেশী শুকনা মরিচের চাহিদা বেশি ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে ভারতীয় পণ্যটির চাহিদা বাড়তির দিকে রয়েছে। কারণ হিসেবে তিনি জানান, খুচরা বা ঘরোয়া ক্রেতাদের মাঝে এখনো দেশী মরিচের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু মসলা প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে পণ্যটি কিনতে আগ্রহী। তাই বাজারে ভারতীয় শুকনা মরিচের চাহিদা ও দাম বাড়ছে প্রতি বছর।

 আরডি/ এসএমএইচ // ২১ আগস্ট ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...