Home / জেলা সংবাদ / ‘সার্টিফিকেট নয়: জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করতে হবে’

‘সার্টিফিকেট নয়: জ্ঞান অর্জনে মনোনিবেশ করতে হবে’

চট্টগ্রাম, ২ জুন (অনলাইনবার্তা): কেবল পরীক্ষার রেজাল্ট বা সার্টিফিকেটের চিন্তা বাদ দিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দিয়েছেন বার্জার পেইন্টস্ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ফরেইন ইনভেস্টরস্ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’র (এফআইসিসিআই) সভাপতি রুপালী চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর জামালখানস্থ চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি মিলনায়তনে  নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।

চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে   অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত  ছিলেন সিআইইউ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সভাপতি আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী।

প্রকৌশলী রশিদ এ চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও কম্পিউটার অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. এম নুরুজ্জামান, ব্যবসায় অনুষদের অধ্যাপক ড. এম আইয়ূব ইসলাম, আইন অনুষদের সমম্বয়ক অধ্যাপক জাকির হোসেন এবং লিবারেল আর্টস অনুষদের সমম্বয়ক অধ্যাপক কাজী মোস্তাইন বিল্লাহ বক্তব্য রাখেন।

রুপালী চৌধুরী বলেন, প্রতিটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের পণ্য এবং যন্ত্রাংশ প্রায় একই; কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদই একে অন্যদের থেকে আলাদা করে ফেলে। নিজেদের দক্ষ মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে ছাত্র-ছাত্রীদের শুধু পরীক্ষা এবং সার্টিফিকেটের চিন্তা বাদ দিয়ে জ্ঞান অর্জনের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে।

বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলা আহ্বান জানিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের ম্যানেজার নয়, লিডার হিসেবে দেখতে চাই। সিলেবাসের বাইরে সহ-কার্যক্রমেও মনোনিবেশ করতে হবে।

নিজের জীবনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, চট্টগ্রামের একটি অখ্যাত স্কুল থেকে আমার পড়াশুনার যাত্রা শুরু হলেও বর্তমান অবস্থানে আসতে পেরেছি। এজন্য অবশ্য আমাকে ক্যারিয়ারের অনেক ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবিলা করতে হয়েছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের হতাশ না হয়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পরামর্শ দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক মূল্যবোধের উপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ১৯৯৯ সালে আইইউবি’র আউটার ক্যাম্পাস হিসেবে চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি যাত্রা শুরু করে। ২০১০ সালে আইনগত পরিবর্তনের কারণে আমরা সরকারের কাছে লিখিত আবেদন করি এবং ২০১৩ সালে  পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সরকার ও ইউজিসি’র অনুমোদন লাভ করি।

এটি বাংলাদেশের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়, যার ট্রাস্টিগণ এখান থেকে কোন লভ্যাংশ গ্রহণ করেন না। শুধুমাত্র সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করে থাকেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি শীগগির স্থায়ী ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিচালনা পর্ষদ কাজ করছে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি চিটগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণাঙ্গ মানুষ তৈরীর কারখানা। তোমরা এখানে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে। এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু চাকরীই নয়, ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে  বাস্তব জীবনের জটিল সমস্যা সমাধানে পারদর্শী হয়ে উঠে সে ব্যাপারে সচেষ্ট।

শিক্ষার্থীদের মধ্য ব্যবসায় অনুষদের ছাত্র রিচার্ডসন, ইংরেজি বিভাগের জেরিন তাসনিম ও প্রকৌশল অনুষদের সামরিনা আলম বক্তব্য রাখেন।

x

Check Also

 রাবির ৯ শিক্ষকের থানায় জিডি, সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কা

সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ৯ শিক্ষক। এ কারণে রবিবার ...