জনপ্রিয় চিত্র নায়ক সালমান শাহকে তার স্ত্রী সামিরা হত্যা করেছেন বলে সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেছেন হত্যা মামলার আসামী আমেরিকা প্রবাসী নারী রাবেয়া সুলতানা রুবি। তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে তার চীনা স্বামী, তার ভাই, সালমানের স্ত্রী সামিরা ও তার পরিবার জড়িত। জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহ’র রহস্যজনক মৃত্যু হয়। তখন ধারণা করা হয় সালমান আত্মহত্যা করেছেন। তবে এই দাবি নাকচ করে ছেলের মৃত্যুতে হত্যা মামলা করেন সালমানের মা নীলা চৌধুরি। মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়। এতে সামিরা ছাড়াও আসামি ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই। মামলার একজন আসামি ছিলেন ভিডিও বার্তা প্রচারকারী রাবেয়া সুলতানা রুবিও।
প্রসঙ্গত ১৯৯২ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবি দিয়ে সালমান শাহ’র রূপালী মর্দায় যাত্রা শুরু। চার বছরের ক্যারিয়ারে তিনি মোট ২৭টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর প্রতিটিই দর্শকপ্রিয়তা পায়। বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের ব্যবসা সফল সেরা ১০ চলচ্চিত্রের দুই, তিন ও চার নম্বরে আছে সালমান শাহ অভিনীত সিনেমা। তবে গত দুই দশকেও জনপ্রিয় এই নায়কের মৃত্যু রহস্য উদঘাটন হয়নি। পুলিশ দুই দফা ময়নাতদন্ত করে একে আত্মহত্যাই বলেছিল। কিন্তু নারাজি আবেদন করেছে সালমান শাহ’র পরিবার। মামলাটির বিচারবিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। এখন মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআইয়ে রয়েছে।
ভিডিও বার্তায় রাবেয়া সুলতানা রুবি দাবি করেন, সালমান শাহকে খুন করা হয়েছে। সেই খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তার চীনা স্বামী। চীনাদেরকে দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহ’র স্ত্রী সামিরার পরিবারও। ভিডিওতে সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরিকে উদ্দেশ করে কাতর কণ্ঠে তিনি বলেন, এই খুনের বিষয়ে আমি সব জানি। যেভাবেই হোক, আবার যেন মামলা তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। আমি যেমন করেই হোক আদালতে সাক্ষী দেবো।
রুবি বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে। আমার হাসব্যান্ড এইটা করাইছে আমার ভাইরে দিয়ে। আমার হাসব্যান্ড করাইছে, এইটা সামিরার ফ্যামিলি করাইছে আমার হাসব্যান্ডরে দিয়ে, সবাইরে দিয়ে, সব চাইনিজ মানুষ ছিলো। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে। এদিকে ভিডিও বার্তায় রুবি দাবি করেন তার চীনা স্বামী তাকেও খুন করার চেষ্টা করছেন। এর জন্য তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন।
রুবি বলেন, সালমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত আমার ছোট ভাই রুমিকেও খুন করা হয়েছে। আমি জানি না রুমির কবর কোথায় আছে। রুমির লাশ যদি কবর থেকে তুলে ঠিকমতো আবার পোস্টমর্টেম করে, তাহলে দেখা যাবে যে ওরা গলা টিপে মাইরা ফেলছে। তিনি বলেন, আমার হাজব্যান্ড চ্যাং লিং চ্যাং, জন চ্যাং নামে বাংলাদেশে পরিচিত ছিল। ধানমন্ডি ২৭ নম্বর রোডের সাংহাই চাইনিজ রেস্টুরেন্টের মালিক ছিলেন তিনি।

এসএমএইচ //   সোমবার, ৭ আগস্ট ২০১৭। ২৩ শ্রাবন ১৪২৪