Home / জেলা সংবাদ / সেনাবাহিনীর অবস্থান সমুন্নত রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহবান সেনাপ্রধানের

সেনাবাহিনীর অবস্থান সমুন্নত রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহবান সেনাপ্রধানের

চট্টগ্রাম, ২৫ মে (অনলাইনবার্তা): আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবস্থান সমুন্নত রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন ক্যাডেটদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক।

বুধবার সকালে ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে ৭৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সের ক্যাডেটদের কমিশনপ্রাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে এ আহবান জানান তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান বিশ্বে বাংলাদেশ একটি প্রতিশ্রুতিশীল, উন্নয়নকামী ও শান্তিপ্রিয় দেশ হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষ‍া মিশনে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে আমাদের দেশ বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ফোরামে আমাদের সেনাবাহিনী নিজেকে মর্যাদার আসনে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে। নবীন ক্যাডেটদের এ অবস্থান সমুন্নত রেখে আরও সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

কমিশনপ্রাপ্ত নবীন ক্যাডেটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষ‍া করাই হবে তোমাদের জীবনের প্রথম ও প্রধান ব্রত।  তোমাদের ওপর অর্পিত হবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভবিষ্যৎ নেতৃত্বদানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। মিলিটারি একাডেমির এই প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে প্রশিক্ষিত ও প্রতিশ্রুতিশীল অফিসার হিসেবে সুযোগ্য নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ সময়ের দাবি উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারের নানামুখী উদ্যোগের সাথে তাল মিলিয়ে মিলিটারি একাডেমির পাঠ্যসূচিতেও ‘ইনফরমেশন এন্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি’ (আইসিটি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আধুনিক যুদ্ধের কলাকৌশল ও ভিশন-২০৩০’র কথা বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন বিষয় ও বিভাগ সংযোজিত হয়ে এই ক্রমোন্নতির ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের সেনাবাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময় নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে এখানে ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স’ নির্মিত হয়েছে। এ কমপ্লেক্সে ক্যাডেটদের শ্রেণিকক্ষ ভিত্তিক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের জন্য সব ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা রাখা হয়েছে।

এছাড়া ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে বিএমএ’র একাডেমিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ইঞ্জিনিয়ারিং ও অনার্স প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে অফিসারদের আরও উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল তথ্য ও প্রযুক্তিবিদ্যা বিষয়ে সচেতন রেখে দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে এটি একটি আমূল পরিবর্তন ও সবার জন্য চ্যালেঞ্জ।  আমাদের সম্মিলিতভাবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

এর আগে প্রধান অতিথি প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ডের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং মেজর জেনারেল রেজানুর রহমান খান, চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) মেজর জেনারেল মো. জাহাংগীর কবির তালুকদার ও বিএমএ কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির তাকে অভ্যর্থনা জানান।

কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ১৪৭ জন বাংলাদেশি, ২জন ফিলিস্তিন ও ১জন শ্রীলংকানসহ মোট ১৫০ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন।  কমিশনপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ক্যাডেটদের মধ্যে ১৩৩ জন পুরুষ ও ১৪ জন মহিলা ক্যাডেট রয়েছেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উচ্চপদস্থ সামরিক ও ‍অসামরিক কর্মকর্তারা, ঢাকাস্থ বৈদশিক মিশনের কর্মকর্তারা ও কমিশনপ্রাপ্ত ক্যাডেটদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...