Home / টপ নিউজ / স্তন ক্যান্সারের সঠিক কারণ কী?

স্তন ক্যান্সারের সঠিক কারণ কী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক :

বর্তমান সময়ে মারাত্মক একটি স্বাস্থ্য সমস্যা হলো স্তন ক্যান্সার। লিঙ্গ ভেদে নারী এবং পুরুষ যে কারোরই স্তন ক্যান্সার হতে পা,রে তবে নারীদের মধ্যেই স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি এবং প্রবণতা দুটোই বেশী। সারা বিশ্বে মহিলাদের ক্যান্সার জনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ স্তন ক্যান্সার।সাধারণত ৫০ বছরের বেশী বয়সীদের এই ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। স্তন ক্যান্সার বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বসহ বেশিরভাগ অঞ্চলের নারীদের মধ্যে রীতিমতো আতঙ্কের নাম।

স্তন ক্যান্সার কী?

স্তন ক্যান্সারের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা না গেলেও ‘American Cancer Society’ জানায়, স্তন ক্যান্সার শুরু হয় স্তনের কিছু কোষ যখন অস্বাভাবিক এবং অপরিকল্পিত ভাবে বেড়ে উঠতে শুরু করে যা কিনা অনিয়ন্ত্রণযোগ্য। এই বাড়তি কোষগুলোই টিউমার অথবা Lump হিসেবে শরীরে এক্স-রের মাধ্যমে ধরা পড়ে যা পরবর্তিতে ক্যান্সার কোষ হিসেবে প্রকাশ পায়।

স্তন ক্যান্সার কোথা থেকে শুরু হয়?

স্তনের যে কোন অংশ থেকেই ক্যান্সার শুরু হতে পারে এবং ছড়াতে পারে। সাধারণত স্তন ক্যান্সার শুরু হয় সে সকল নালী (Ducts)থেকে যেগুলো স্তনের বোঁটা পর্যন্ত দুধ পৌঁছাতে সাহায্য করে থাকে। এই ক্যান্সার কে Ductal Cancer বলা হয়ে থাকে। আরেক ধরনের স্তন ক্যান্সার শুরু হয়ে থাকে স্তনের গ্ল্যান্ড থেকে যাকে Lobular cancer বলা হয়ে থাকে। এছাড়াও আরো কয়েকভাবে ক্যান্সার শুরু হতে পারে তবে সে সকল অতোটা প্রচলিত নয়।

স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে দেশের নারীরা কতটা জানেন?

ক্যান্সার বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা “ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার” বা আইএআরসি’র হিসেব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে ১৫ হাজার নারী স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং এর মধ্যে সাত হাজারই মৃত্যুবরণ করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের অনেকের মধ্যে এখনও স্তন ক্যান্সার বিষয়ক সচেতনতা আসেনি।

“Bangladesh Cancer Awareness Forum” সংগঠনের কোঅরডিনেটর ডঃ মোঃ হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন এর মতে, ‘আমাদের দেশে সচেতনতার অভাবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনেক দেরিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। এ কারণে চিকিৎসায় রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এই রোগের বিভিন্ন ঝুঁকির বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে পারলে প্রাথমিক পর্যায়ই রোগ প্রতিরোধ সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।’

উপরোক্ত বক্তব্য দুটির প্রেক্ষিতে অনুধাবন করা যায় যে আমাদের দেশের নারীদের মধ্যে এখনও বিস্তৃতভাবে স্তন ক্যান্সার নিয়ে সচেতনতা এবং শিক্ষা ছড়ায়নি। প্রতিদিন দেশের বহু নারী স্তন ক্যান্সারে নতুনভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন এবং সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার অভাবে অকালে প্রান হারাচ্ছেন। যার প্রধান কারন স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং স্তন ক্যান্সার নিয়ে লুকোছাপা।

স্তন ক্যান্সার নিয়ে আমরা কতটা সচেতন?

বিভিন্ন পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন জনের মতামতের ভিত্তিতে আমাদের সামনে যে ফল আসে তাতে দেখা যায় যে দেশের বেশীরভাগ নারীই এখনও স্তন ক্যান্সারের মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ন ব্যপার নিয়ে তেমন কিছুই জানেন না। আমার চারপাশে আমার পরিচিত নারীরা কতটুকু জানেন স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সেটা জানার জন্য কিছু পরিচিতার কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম “স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে কতটুকু জানেন এবং আপনি কতটুকু সচেতন”? যাদের কাছে প্রশ্নটি করা হয়েছিল অবশ্যই সকলেই নারী তবে তাদের মধ্যে কেউ চাকুরীজীবী, কেউ ছাত্রী, কেউ গৃহিণী, কেউ গৃহপরিচারিকা। কেউ স্বল্পশিক্ষিতা, কেউ উচ্চশিক্ষিতা এবং কেউ অক্ষরজ্ঞানহীন।  সকলের অনুমতি সাপেক্ষে তাদের নাম, পেশা এবং বয়স সহ তাদের উত্তর প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রাইভেসি ইস্যুটি মাথায় রেখে ঠিকানা বা কর্মস্থলের পরিচয়টি আমরা প্রকাশ করছি না।

জান্নাতুল, 

“ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে কতটুকু জানি… মানে জানি যে এইটা যে কারোরই হতে পারে। তাইনা? তবে বয়স্ক মহিলাদের বেশি হয়। আর ঘরেও তো পরীক্ষা করা যায় ব্রেস্ট ক্যান্সার এর লক্ষণগুলা।“

যুহী,  বয়স ২০:

“এইটা নিয়ে জানি বলতে পেপারে যতটুকু লিখে বা এখন তো অনেকেই এটা নিয়ে কথা বলে। রাতে ব্রা পড়ে ঘুমালে মে বি ব্রেস্ট ক্যান্সার হবার চান্স বেশী থাকে।“

সুলতানা, ছাত্রীবয়স ২৬:

“ব্রেস্ট এ পিন্ড ক্রিয়েট হয় নাকি হয় না, শিওর না। আমাদের ব্রেস্টে এমনিতেই একটা চাক আছে। ঐটা ভেঙে যাওয়া নাকি ঠিক না, ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর বগলে পিন্ড হলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের লক্ষণ। ব্রেস্টে কখনোই জোরে প্রেস করতে নেই। আর কিছু জানিনা।“

তানজিল,  বয়স ২৬:

“গোসলের সময় মাঝে মাঝেই চেক করি।  বুকে চাকা হতে পারে, ব্যথা, নিপলে ঘা বা কষ বের হতে পারে। নিপল এর আকার পরিবর্তনও হতে পারে। সবুজ শাক সবজি আর তাজামাছ প্রতিরোধক হিসেবে ভালো। এবং ফলের মাঝে খেজুর-আনার। কোনো রকম আঘাত যেমন কামড় বা ব্রেস্ট ফিডিং এর সময় কোনো আঘাত থেকে চাকা বা শক্ত হলেও নাকি পরে যদি প্রতিরোধক ক্ষমতা কম থাকে তবে ক্যান্সার হতে পারে। শিউর না, কোথায় যেন পড়েছিলাম। এতটুকুই জানি।“

সুফিয়া, বয়স ৩৯:

“ব্রেস্ট ক্যান্সার তো বাইরের দেশে বেশী হয়, আমাদের দেশে অতো হয় না। কারণ মায়েরা বাচ্চাদের দুধ দেয় ঠিকমতো, বাইরের দেশের মায়েরা তো সেটা ঠিকভাবে করে না। যে গ্ল্যান্ড থেকে দুধ আসে, সেটা বেশী হয়ে গেলে ব্যথা শুরু হয়। আরেকটা কারণেও ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়। বার্থ কন্ট্রোল পিল খেলে। ওটা খেলে পিরিওড অনিয়মিত হয় আর ব্রেস্টে ব্যথা হয়। ওখান থেকেও ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়।“

তামান্না,  বয়স ২৮:

“এটা তো ভালো জিনিস না। আর বুকের চারপাশে দেখতে হয় চাকার মতো কিছু হাতে বাধে কি না। অনেকে তো মারাও যায় ব্রেস্ট ক্যান্সার থেকে। আগে থেকে বুঝতে পারলে অতো সমস্যা হয় না।“

ইমা, চাকুরীজীবী, বয়স ২৭:

“ব্রেস্ট ক্যান্সার নিয়ে অতো জানি না আর সচেতনও না।“

পূর্বা, চাকুরীজীবীবয়স ২৬:

“আমার জানা মতে প্রতি মাসে একবার চেক করতে হয়। নিজে নিজেই করা যায়। প্রথমে এক হাত উপরের দিকে তুলে অন্য হাতে সার্কুলার গতিতে এর পর সেন্টার থেকে বাইরের দিকে হাল্কা ভাবে প্রেস করে কোথাও কোন শক্ত পিন্ড আছে কিনা সেটা চেক করা। অনেক সময় বোটা থেকে রস বের হয়। এটাও একটা লক্ষন। ব্যথা হতে পারে পিন্ডটার আশেপাশে। এগুলো কোনটা হলে ডাক্তার এর সাথে যোগাযোগ করতে হবে।“

নার্গিস, গৃহপরিচালিকাবয়স ৪০ (আনুমানিক):

“বুকের এইখানেও আবার রোগ হয়? এইটাই তো জানতাম না। কী রোগ কয় এরে? এইগুলা কি বানানি কথা না সত্য কথা? এই রোগের থেইকা মানুষ মরে কেমনে আবার? আমি তো কাওরে এই রোগ হইতে দেখলাম না।”

আশেপাশের পরিচিতজনদের সাথে কথা বলেও বোঝা যায় যে, এখনও বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সার নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি এবং অজ্ঞতা আছে। খুব কম নারীই সচেতন নিজের স্তনের যত্নে এবং স্তন ক্যান্সার এর বিষয়ে। অথচ প্রাণঘাতী এই স্তন্য ক্যান্সারে আক্রান্ত নারীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে প্রতি বছরে। নিজের সুরক্ষার জন্য এবং আপনজনদের সুস্থতা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকার জন্যে হলেও সকলের উচিত স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানা এবং নিয়মিতভাবে নিজের স্তনের পরীক্ষা করা।

এসএমএইচ // বুধবার, ২ আগস্ট ২০১৭। ১৮ শ্রাবন ১৪২৪

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...