Home / বাংলাদেশ / হাসিনার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণের মামলায় সাক্ষ্য দিলেন অনুপম সেন

হাসিনার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণের মামলায় সাক্ষ্য দিলেন অনুপম সেন

চট্টগ্রাম, ২৬ মে (অনলাইনবার্তা): প্রায় ২৮ বছর আগে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড.অনুপম সেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর রহুল আমিনের আদালতে সাক্ষ্য দেয়ার সময় বরেণ্য এই শিক্ষাবিদ বলেন, শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রাকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে একই ট্রাকে ড.অনুপম সেনও ছিলেন।  বেলা ১টার দিকে ট্রাকটি চট্টগ্রাম আদালত ভবনের সামনে পৌঁছলে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে পুলিশ।  এসময় নেতারা মানববর্ম তৈরি করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করেন।

তিনি বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ হয়ে অনেককে রাস্তায় পড়ে কাতরাতে দেখেছি।  পরে শুনেছি ২৪ জন মারা গেছে।  সেদিন যারা নিহত হয়েছিল তাদের কারও লাশ আত্মীয়স্বজনের কাছে দেয়া হয়নি।  জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে বলুয়ারদিঘি মহাশ্মশানে নিয়ে গিয়ে পুড়ে ফেলা হয়। ’

বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, ড.অনুপম সেনের সাক্ষ্যগ্রহণের পর তার জেরা সম্পন্ন হয়েছে।  আদালত ২৬ জুন পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের সময় নির্ধারণ করেছেন।  ওইদিন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ৬ জনকে আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছে।

স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নগরীর লালদিঘি ময়দানে সমাবেশে যাবার পথে ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার গাড়িবহরে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালালে নিহত হন ২৪ জন।  আহত হন কমপক্ষে দুই শতাধিক মানুষ।

আদালত সূত্র জানায়, এরশাদ সরকারের পতন হলে ১৯৯২ সালের ৫ মার্চ ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষ থেকে প্রয়াত আইনজীবী শহীদুল হুদা বাদি হয়ে চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।  মামলায় হত্যাকান্ডের সময় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) কমিশনারের দায়িত্বে থাকা মীর্জা রকিবুল হুদাকে প্রধান আসামি করা হয়।  মামলার আসামিরা সরকারি কর্মচারি হওয়ায় এবং মামলা চালানোর জন্য সরকারের অনুমতি না মেলায় আদালত মামলাটি ওই সময় খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে বাদিপক্ষ উচ্চ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করলে মামলাটি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডির ওপর দায়িত্ব পড়ে।

মূলত ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলাটি পুনরুজ্জীবিত হয়।  আদালতের নির্দেশে সিআইডি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ১৯৯৭ সালের ১২ জানুয়ারি সিএমপির তৎকালীন কমিশনার মীর্জা রকিবুল হুদাকে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালের ৩ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে মীর্জা রকিবুল হুদাসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে।

অভিযুক্ত অন্যরা হলেন, কোতোয়ালী জোনের তৎকালীন পেট্রল ইন্সপেক্টর (পিআই) জে.সি. মন্ডল, পুলিশ কনস্টেবল আব্দুস সালাম, মুশফিকুর রহমান, প্রদীপ বড়ুয়া, বশির উদ্দিন, মো: আব্দুলাহ ও মমতাজ উদ্দিন।  উচ্চ আদালতের আদেশে জে.সি.মন্ডল ছাড়া অন্য সবাই জামিনে আছেন।  তবে ঘটনার পর থেকে জে.সি. মন্ডল পলাতক আছেন।

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...