Home / অর্থ-বাণিজ্য / ১০ মাসে দেড় কোটি কেজি চা উৎপাদন বেড়েছে

১০ মাসে দেড় কোটি কেজি চা উৎপাদন বেড়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

দেশে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টোবর) ২০১৫ সালের একই সময়ের চেয়ে চা উৎপাদন বেড়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ কেজি। অনুকূল আবহাওয়া ও চা চাষে জমির পরিমাণ বাড়ায় পণ্যটি উৎপাদনে নতুন রেকর্ড তৈরি হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের চা বাগান ব্যবস্থাপনা কোষের মহাব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান আখন্দ জানান, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে ৬ কোটি ৯৯ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। ২০১৫ সালের একই সময় এর পরিমাণ ছিল ৫ কোটি ৪০ লাখ কেজি। সে হিসাবে, এ সময়ের ব্যবধানে দেশে এবার ১ কোটি ৬০ লাখ কেজি বেশি চা উৎপাদন হয়েছে।

চা বাগান-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় দুই বছর ধরে পণ্যটির উৎপাদন বাড়তির দিকে রয়েছে। এছাড়া বাগান মালিকদের আগ্রহও পণ্যটি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চা বোর্ডের সূত্রমতে, ২০০৫ সালে দেশে চা উৎপাদন হয় ৬ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার কেজি। কিন্তু ২০০৬ সালে উৎপাদন ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার কেজিতে নেমে আসে। পরবর্তী বছর থেকে উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকে। ২০০৭ সালে ৫ কোটি ৮৪ লাখ ২০ হাজার কেজি, ২০০৮ সালে ৫ কোটি ৮৬ লাখ ৬০ হাজার, ২০০৯ সালে ৫ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার, ২০১০ সালে ৬ কোটি ৪ লাখ, ২০১১ সালে ৫ কোটি ৯১ লাখ ও ২০১২ সালে ৬ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। এছাড়া ২০১৩ সালে ৬ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। তবে পরের বছর উৎপাদন কিছুটা কমে ৬ কোটি ৩৮ লাখ ৬০ হাজার কেজি হলেও ২০১৫ সালে তা আবার ঘুরে দাঁড়ায়। গত বছর দেশের বাগানগুলোয় মোট ৬ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল।

হবিগঞ্জের লস্করপুর ভ্যালির চেয়ারম্যান এসসি নাগ বলেন, ‘আমাদের ভ্যালিতে এবার রেকর্ড চা উৎপাদন হয়েছে। ভ্যালির ১৭টি বাগানে এবার ১ কোটি ১২ লাখ ৯৫ হাজার ৮২১ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।’ চা বোর্ড ও বাগান ব্যবস্থাপকদের আন্তরিক চেষ্টা, আগাম ও পরিমিত বৃষ্টি এবং শ্রমিকরা প্রশিক্ষিত হয়ে ওঠার কারণেই এবার ভ্যালিতে রেকর্ড চা উৎপাদন হয়েছে বলে জানান তিনি।

সিলেট ভ্যালিতেও এবার সর্বোচ্চ চা উৎপাদন হবে জানিয়ে এ ভ্যালির আওতাধীন শ্রীপুর চা বাগানের ব্যবস্থাপক নোমান হায়দার চৌধুরী বলেন, চা বাগানের ভেতরে পতিত জমির পরিমাণ কমছে। চা চাষের আওতা বাড়ছে, ফলে উৎপাদনও বাড়ছে।

মো. শাহজাহান বলেন, আবহাওয়া অনুকূল থাকার কারণেই চলতি বছরের এখন পর্যন্ত রেকর্ড চা উৎপাদন হয়েছে। অন্যান্য বছর সেপ্টেম্বরে সচরাচর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় রেড স্পাইডারসহ চা গাছে রোগ-ব্যাধি দেখা দেয়। কিন্তু এ বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরেও বৃষ্টিপাত হওয়ায় চা বাগানে রোগের তেমন আক্রমণ দেখা যায়নি। এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর সময় আরো এক কোটি কেজি চা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী বছরগুলোয় উৎপাদনের এ ধারা ধরে রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন তিনি।

উল্লেখ্য, দেশে ১৬৬টি মূল চা বাগানের মধ্যে মৌলভীবাজারে রয়েছে ৯০টি। এছাড়া হবিগঞ্জে ২৩, সিলেটে ২০, চট্টগ্রামে ২২, রাঙ্গামাটি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি করে এবং পঞ্চগড়ে নয়টি চা বাগান রয়েছে। চা বাগানের মোট ভূমি ১ লাখ ১৬ হাজার ২১৯ হেক্টর। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ অর্থাত্ ৫৮ হাজার ৭১৮ হেক্টর জমি চা চাষের আওতায় রয়েছে।

আরডি/ এসএমএইচ/ ১৭ নভেম্বর ২০১৬

x

Check Also

আরো আট নারী ও শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ

সাভারের আশুলিয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা দুই ...